প্রথম বাংলা - ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা নূর মাহমুদের বিরুদ্ধে পাহাড় সমান অভিযোগ উঠেছে। নামে-বেনামে সম্পত্তিসহ কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়া নূর মাহমুদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরে স্ত্রীর নামে ফ্ল্যাট,নিজ এলাকায় মার্কেট করাসহ ব্যাংকে জমা রেখেছেন টাকা।শুধু এখানেই শেষ নয়,ওই উপজেলা পরি বার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা নূর মাহমুদের বিরুদ্ধে নারী মাঠকর্মীদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক,নিয়োগ ও তদ বির বাণিজ্য,নানা অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযো গও উঠেছে।আসবাব ও অন্যান্য উপকরণ ক্রয়ে ভুয়া বিল-ভাউচার দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ঘুসগ্রহণ,ক্ষমতার অপব্যবহার ও কর্মকর্তা-কর্মচারী দের হয়রানি করাসহ নানা অনিয়মের বিষয়ে পরিবা র-পরিকল্পনা বিভাগের মহাপরিচালক বরাবর লিখি ত অভিযোগ করেছেন ওই দপ্তরের ক্ষতিগ্রস্ত এবং ভুক্তভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্টরা জানান,পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা নূর মাহমুদ আখাউড়া উপজে লায় ২০২১ সালের ২ মে কর্মস্থলে যোগদানের পর থেকে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি করে আসছেন। তিনি উপজেলার কোথাও পরিদর্শনে না গিয়েও নিয়ম বহির্ভূতভাবে ভ্রমণ ব্যয় খাত থেকে লাখ লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন।মালপত্র ক্রয়,পরি বহণ ব্যয়,মিটিং ব্যয়,সেবা সপ্তাহ ও বিবিধ ব্যয় বিলের টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। তিনি মোটরসাইকেল চালাতে পারেন না। তবু এ খাতের বিলের টাকা উত্তোলন করেন।সব বিলের টাকা ব্যাংকের নিজ নিজ হিসাব নম্বরে রাখার নির্দে শনা থাকলেও তিনি ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ কর্তন করে রেখে প্রদান করেন।
এদিকে আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ সহকারী (এফডব্লিউএ) জয়া রানী চক্রবর্তী নামে এক নারী পেনশনের টাকা উত্তোলনে তার কার্যালয়ের অফিস সহকারী বাবুল আহমেদের মাধ্যমে এক লাখ ১২ হাজার টাকা ঘুস নেন নূর মাহমুদ। পরে জয়া রানী চক্রবর্তী ঘুস গ্রহণে র বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভি যোগ করলে অফিস সহকারী বাবুল আহমেদকে আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় বদলি করা হয়। কিন্তু এখনো কর্মস্থলে বহাল তবিয়তে রয়েছেন ওই চতুর কর্মকর্তা নূর মাহমুদ।
যদিও স্ত্রীর নামে ফ্ল্যাট,নিজ এলাকায় মার্কেট করা সহ নিজের ক্রয় করা ৫টি দোকানের কথা অবলী লায় স্বীকার করেন আখাউড়া পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা নূর মাহমুদ।তিনি জানান,ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরশহরের মুনসেফপাড়াস্থ এলাকায় ১১ তলা ভব নের ৬ তলায় তার ফ্ল্যাট রয়েছে।অবশ্য তিনি বলেন, ওই সম্পদ আমার বাবার টাকায় কিনেছি।আমার বাবার নিজস্ব জমি বিক্রির টাকা দিয়ে কেনা। তবে ওইসব সম্পত্তি নিজের নামে নয় স্ত্রীর নামে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।বাবার জমি বিক্রি করে স্ত্রীর নামে ফ্ল্যাট ও মার্কেট কেন— এমন প্রশ্নের জবাবে কোনো সদুত্তর বা মন্তব্য না করে এড়িয়ে যান পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা নূর মাহমুদ।
আখাউড়া উপজেলা পরিবার-পরিকল্পনা কার্যাল য়ের অধীনস্থ বিভিন্ন ইউনিয়নে কর্মরত একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) অভিযো গ করেন,সরকারি সব চাকরিজীবীর প্রতি ১০ বছর পূর্ণ হলে উচ্চতর গ্রেড দেওয়া হয়। জেলার প্রতিটি উপজেলায় তা করা হলেও আখাউড়া উপজেলায় ১০ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড দেওয়া হয়নি। জেলা য় আবেদন করা হলেও নূর মাহমুদের ইশারায় তা মঞ্জুর হয়নি। তিনি ওই ভুক্তভোগীদের কাছে মোটা অঙ্কের ঘুস দাবি করেন বলে একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী অভিযোগ করেন।তবে পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা নূর মাহমুদ তার বিরুদ্ধে আনীত সব অভি যোগ অস্বীকার করেন। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরে স্ত্রীর নামে ফ্ল্যাট,নিজ এলাকায় মার্কেটে একা ধিক দোকানঘর রয়েছে বলে তিনি স্বীকার করে ছেন।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পরিবার-পরিকল্পনার উপ পরিচালক মো. আব্দুর রাজ্জাকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে উপজেলা পরি বার-পরিকল্পনা কর্মকর্তার যে বেতনভাতা তা দিয়ে ফ্ল্যাট ক্রয় করা অসম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রধান সম্পাদক জয়নাল আবেদীন সজীব,|
Mobile: 01301429493 /
Email: msojibe73@gmail.com
ইপেপার