সেলিম মিয়া : স্বনামধন্য এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভাইস চ্যান্সেলরের হোয়াটসঅ্যাপ আইডি হ্যাক করে তার পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎকারী একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের ০১ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)’র সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। গত ০৫/০৫/২০২৬ খ্রি. রাতে (০৪/০৫/২০২৬ খ্রি. দিবাগত) ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ঝিনাইদহ সদর থানাধীন নৃসিংহপুর গ্রামস্থ একটি তেল পাম্পের বিপরীতে চা দোকানের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করে সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশন এর একটি চৌকস আভিযানিক দল।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম রিহাদ হাসান (২৩), পিতা-আবুল কালাম আজাদ, মাতা-মোছা. রোজিনা খাতুন, সাং-গড়িয়াল, ডাকঘর-নলডাঙ্গা, থানা-ঝিনাইদহ সদর, জেলা-ঝিনাইদহ। গ্রেফতারকালে উক্ত ব্যক্তির মোবাইল পর্যালোচনায় অবৈধ অনলাইন জুয়ার অনেকগুলো অ্যাপসের সক্রিয় উপস্থিতি পাওয়া যায়। জুয়ার টাকা যোগাড় করতে বিভিন্ন ব্যক্তির হোয়াটসঅ্যাপ আইডি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেয় মর্মে প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়। এ ঘটনায় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল (ডিএমপি) থানায় মামলা নং-৪০, তারিখ- ২৯/০১/২০২৬ খ্রি., ধারা- সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫ এর ৯৮(২)/২১(১)/২২(২)/২৭(২) দায়ের করা হয়েছে।
বাদীর দায়েরকৃত মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মকর্তা তার কর্মস্থলে অবস্থানকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের পরিচয়ে একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা পান। বার্তায় জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত দুটি বিকাশ নম্বরে অর্থ পাঠানোর জন্য অনুরোধ জানানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য তিনি ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে প্রতারক চক্র ফোন রিসিভ না করে বার্তার মাধ্যমে দ্রুত অর্থ পাঠানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করে।
একপর্যায়ে বাদী সরল বিশ্বাসে তার ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতারকদের প্রদত্ত বিকাশ নম্বরে ৫৫ হাজার টাকা প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী বাদী ভাইস চ্যান্সেলরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করলে ভাইস চ্যান্সেলর জানান তার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টটি হ্যাকড হয়েছে এবং তিনি এ ধরনের কোনো নির্দেশ দেননি। তখন বাদী নিশ্চিত হন যে তিনি একটি পরিকল্পিত প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
মামলার তদন্তে সিআইডির একটি চৌকস দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রতারক চক্রের অবস্থান শনাক্ত করে ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে চক্রের সক্রিয় সদস্য রিহাদ হাসান’কে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকালে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয় এবং মোবাইল ফোনটি পর্যালোচনাকালীন অবৈধ অনলাইন জুয়ার প্রায় ৪০টির মতো অ্যাপসের সক্রিয় উপস্থিতি পাওয়া যায়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামি স্বীকার করেছে যে, সে উক্ত প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত এবং অনলাইন জুয়ার প্রতি আসক্ত। সে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নিয়মিত জুয়া খেলত এবং প্রতারণার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ জুয়ায় ব্যয় করত। এই চক্রের সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা সে সংক্রান্ত তথ্যাদির জন্য গ্রেফতারকৃতদের পর্যাপ্ত পুলিশ প্রহরা ও সতর্কতার সাথে রিমান্ডের আবেদনসহ সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলমান।
বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। প্রতারণা চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত আছে। এ ধরনের প্রতারণা সম্পর্কে সর্বসাধারণকে সতর্ক ও আর্থিক লেনদেন থেকে বিরত থাকার পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।
প্রধান সম্পাদক জয়নাল আবেদীন সজীব,|
Mobile: 01301429493 /
Email: msojibe73@gmail.com
ইপেপার