রেজাউল করিম রেজা : দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বর্তমান সংস্কার কার্যক্রমের প্রেক্ষাপটে একটি শক্তিশালী, নিরপেক্ষ ও দক্ষ কমিশন গঠন সময়ের দাবি। সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন এবং অর্থপাচার প্রতিরো ধে এমন একজন কমিশনার প্রয়োজন, যার দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা,তদন্তে বিশেষ দক্ষতা এবং রাজনৈতিক নিরপে ক্ষতা রয়েছে। এই মানদণ্ড বিবেচনায় সদ্য অবসরে যাওয়া অতিরিক্ত আইজিপি ড. মো. আশরাফুর রহমানের নাম বিশেষভাবে গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনার দাবি রাখে।
পেশাগত যোগ্যতা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা:ড. মো. আশরা ফুর রহমান ১৯৯৫ সালে বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারে যোগ দানের পর থেকে দীর্ঘ তিন দশকের অধিক সময় মাঠ পর্যা য়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
চাপাইনবাবগঞ্জ, বরিশাল,সিলেট ও পটুয়াখালীর মতো জে লায় পুলিশ সুপার হিসেবে তার কাজ করার অভিজ্ঞতা মাঠ প্রশাসনের জটিল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাকে দক্ষ করে তুলে ছে।বিশেষ করে, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ডিআইজি (অপ রাধ ব্যবস্থাপনা) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে অপরাধ দমন ও প্রশাসনিক আধুনিকায়নে তার ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। তিনিএই সময়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন ক্রিটিকাল মামলার দিক নির্দেশনাসহ সারা দেশের মামলা তদন্ত তদারকি করেন, ফ্যাসিষ্ট আমলের মানি লন্ডারিংয়ের মামলাসমুহের তদারকিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলার জট খুলতে ভুমিকা পালন করেন।
এই চৌকস কর্মকর্তাকে আওয়ামী সরকার তাকে শুধুমাত্র পদোন্নতিবঞ্চিত করে নাই বরং বিভিন্ন ভাবে নিগৃহিত করে ছে শুধুমাত্র ছাত্রজীবনে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সভাপতি থাকার অভিযোগ তুলে। '৯০ এর গনতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি গ্রেফতার হয়ে গাজীপুর জেলে কারাবাস করেন।
অতিরিক্ত আইজিপি পদোন্নতি প্রাপ্ত এই কর্মকর্তা অবসরে নিজেকে লেখালেখির মাধ্যমে সমাজ সংস্কারে অবদান রেখে চলেছেন। ইতোমধ্যেই বিভিন্ন পত্রিকায় ৫০ বছরের পুলিশ বিভাগের আধুনিকায়নের সিরিজ প্রকাশনা,দূর্নীতি কমিশনের সংস্কার কঠামো প্রকাশনাসহ সমাজের সংস্কার বিষয়ক অনেক লেখা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে যা সুধী মহলে বেশ সাড়া ফেলেছে।
সংকটময় মুহূর্তে নেতৃত্বের সক্ষমতা:
৫ আগস্ট ২০২৪ পরবর্তী পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ময়মনসিং হের রেঞ্জ ডিআইজি হিসেবে তার ভূমিকা ছিল সাহসী কার্য কর। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে তিনি নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে ৮৬৪ জনেরও অধিক অপ রাধী গ্রেপ্তারসহ জননিরাপত্তা নিশ্চিতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
এছাড়া রাজনৈতিক মেরুকরণের শিকার পুলিশ বাহিনীকে পুনরায় সক্রিয় করতে তিনি স্থানীয় সকল রাজনৈতিক দলের সাথে সমন্বয়ের যে মডেল তৈরি করেছিলেন, তা সংকটে থাকা প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ফেরাতে তার নেতৃত্বের বিশেষত্ব প্রমাণ করে।
সততা ও নিরপেক্ষতা:
দীর্ঘ ১৬ বছর পদোন্নতিবঞ্চিত থাকা সত্ত্বেও তিনি পেশাগত দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত হননি। তার কর্মজীবন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে,রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মাঝেও তিনিআপস হীন ছিলেন। তার ব্যক্তিগত সততা ও মেধার সমন্বয় তাকে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের জন্য একজন আদর্শ প্রার্থী হিসে বে প্রতিষ্ঠিত করে। একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ডে পিএইচডি ডিগ্রিধারী হওয়ার কারণে তিনি যেমন প্রথাগত তদন্তে দক্ষ, তেমনি তাত্ত্বিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারেও সমান পারদর্শী।
দুদকের জন্য গুরুত্ব:
দুদকের কার্যকারিতা বাড়াতে এমন একজন কমিশনারের প্রয়োজন, যিনি জটিল অপরাধ চক্র ও অর্থপাচারের গলি-ঘুপজিগুলো ভালো বোঝেন। ড. আশরাফুর রহমানের দীর্ঘ পুলিশি ক্যারিয়ার এবং অপরাধ তদন্তে তার বিশেষ মেধা দুদকের অনুসন্ধান ও তদন্ত প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল ও বিজ্ঞানসম্মত করতে সহায়ক হবে। তার নিয়োগ কমিশনের স্বচ্ছতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জনমনে আস্থা বৃদ্ধি করবে।
বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্নীতিমুক্ত করা। দুদকের নতুন কমিশন গঠনে যোগ্য, সৎ ও মেধাবী নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। ড. মো. আশরাফুর রহমানের মতো একজন অভিজ্ঞ এবং আপসহীন কর্মকর্তাকে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলে তা দুদকের কাজে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং দুর্নীতি দমনে সরকারের দৃঢ় প্রতিজ্ঞার প্রতিফলন ঘটবে।
সরকারের সংশ্লিষ্ট সার্চ কমিটি বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ ড. মো. আশরাফুর রহমানের ক্যারিয়ার ও তার পূর্ববর্তী কাজে সফলতার রেকর্ডসমূহ পর্যালোচনার মাধ্যমে তার নিয়োগে র বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনায় নিতে পারেন।
প্রধান সম্পাদক জয়নাল আবেদীন সজীব,|
Mobile: 01301429493 /
Email: msojibe73@gmail.com
ইপেপার