প্রথম বাংলা : বিদেশ থেকে পরিচালিত অনলাইন জুয়া (বেটিং) সাইটের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ অবৈধভাবে বিদেশে পাচারের অভিযোগে অনলাইন জুয়া ও অর্থপাচার চক্রের আরও ০২ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এর সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)।
গত ১৯ /০৮/২০২৬ খ্রি. তারিখে রাজশাহী ও ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করে সিপিসির সাইবার পার্সোনেল ডেভেলাপমেন্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট এর একটি আভিযানিক দল।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের নাম (০১) সৈয়দ জামান (২৭), পিতা- সৈয়দ হায়দার আলী, মাতা- শাহানাজ পারভীন, সাং- গ্রাম- দূর্গাপুর, নড়াইল পৌরসভা, জেলা- নড়াইল; (০২) রুহুল কুদ্দুস @ বাপ্পী (২৮), পিতা- মো. আসলাম উদ্দীন, মাতা- মোছা. আনজুয়ারা বেগম, সাং- জামিরা, পোস্ট- সিংহঝুলী, থানা- চৌগাছা, জেলা-যশোর। প্রথমে সৈয়দ জামান (২৭) কে গত ১৯/০৮/২০২৬ খ্রি. তারিখ দুপুরে রাজশাহী জেলার চন্দ্রিমা থানাধীন পদ্মা আবাসিক এলাকা থেকে এবং তার দেওয়া তথ্য মতে রুহুল কুদ্দুস@বাপ্পী কে ঐদিন দিবাগত রাতে ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর থানাধীন কোটচাঁদপুর রেল স্টেশন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সিপিসি নিয়মিত সাইবার মনিটরিং করাকালীন দেখতে পায় দেশের অভ্যন্তর ও বিদেশ থেকে পরিচালিত বিভিন্ন অনলাইন বেটিং (জুয়া) ওয়েবসাইটের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব অনলাইন জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ অন্যান্য খেলা ও অনলাইন ক্যাসিনোকে কেন্দ্র করে টাকার বিনিময়ে বেটিং পরিচালিত হচ্ছে। বেটিং সাইটে ব্যবহৃত বিভিন্ন এজেন্টদের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ব্যাংক হিসাবসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহ করে সিআইডি বাদী হয়ে পল্টন (ডিএমপি) থানায় মামলা নং-২০, তারিখ- ১৭/০৫/২০২৬ খ্রি., ধারা- সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ এর ২০(২)/২১(২)/২২(২)/২৪(২)/২৭(২)/২৯(২) রুজু করে। মামলা রুজুর পর সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্তপূর্বক জানা যায়, গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনলাইন বেটিংয়ের এজেন্ট নিয়োগ করে তাদের এমএফএস ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করে সেগুলো বেটিং সাইটে ব্যবহার করে আসছিল। জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ হতে নিয়োগপ্রাপ্ত এজেন্টরা তাদের কমিশন কেটে রাখার পর বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিদেশে অর্থ পাচার করে আসছিল মর্মে তথ্য পাওয়া যায়। মামলাটির তদন্তে অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্মে ব্যবহৃত এজেন্ট নম্বরের সূত্র ধরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায় রাশিয়া থেকে নিয়ন্ত্রিত একটি অনলাইন জুয়া সাইটের অ্যাডমিন ছিল সৈয়দ জামান। তদন্তে দেশের অভ্যন্তর ও বিদেশ থেকে পরিচালিত অনলাইন বেটিং সাইটের কার্যক্রম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব সাইটের বিজ্ঞাপন প্রচারের তথ্য পাওয়া যায়। এসব সাইটে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাকে কেন্দ্র করে অর্থের বিনিময়ে অনলাইন বেটিং এবং অনলাইন ক্যাসিনো পরিচালনা করা হচ্ছিল মর্মেও প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া যায়।
এছাড়াও মামলাটি তদন্তকালে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সিআইডি জানতে পারে যে গ্রেফতারকৃতরা দেশের ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় অনলাইন জুয়ার এজেন্ট নিয়োগ করে তাদের এমএফএস নম্বর ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করে অনলাইন বেটিং সাইটে যুক্ত করতেন। এসব নম্বর ও হিসাবের মাধ্যমে জুয়ায় অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ এবং অর্থ উত্তোলনের ব্যবস্থা করা হতো। পরবর্তীতে অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ থেকে এজেন্টরা নিজেদের কমিশন কেটে রাখার পর অবশিষ্ট অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে রূপান্তর করে বিদেশে পাচার করত।
গ্রেফতারকৃত সৈয়দ জামান ও রুহুল কুদ্দুস @ বাপ্পী নিজ নামে নিবন্ধিত এজেন্ট সিম অনলাইন জুয়া সাইটে সক্রিয় করার পাশাপাশি বিভিন্ন এজেন্টের সিম সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে যুক্ত করতেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে। তারা অনলাইন জুয়া সাইটের অর্থ জমা ও উত্তোলন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে জড়িত ছিলেন বলেও তদন্তে তথ্য পাওয়া যায়।
উল্লেখ্য, একই মামলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে এর আগে বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করে সিআইডি মোট ০৮ জনকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেছে। গত ০৭/০৬/২০২৬ খ্রি. তারিখে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. সোলায়মান (৪৭), মো. সাগর মিয়া (২৮) ও মো. জুয়েল রানা (৩২); ১৬ জুন ২০২৬ তারিখে নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালিয়ে মো. রায়হান খান (২১), মো. পাভেল রহমান ভূইয়া (২৩) ও আবু জোবায়ের সানি (৩৬); এবং ১২/০৭/ ২০২৬ খ্রি. তারিখে নড়াইলের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. জসিম উদ্দীন (৩৩) ও সুমন রায় (২৮) কে গ্রেফতারপূর্বক বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়।
বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিআইডির সাইবার পার্সোনেল ডেভেলাপমেন্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট শাখা। এ চক্রের সঙ্গে দেশের বাইরে অবস্থানকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কোনো ধরনের যোগসূত্র রয়েছে কি না এবং অবৈধভাবে লেনদেনকৃত অর্থ দেশের বাইরে পাচার করা হচ্ছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মামলার তদন্তে অনলাইন বেটিং সাইটগুলোর পরিচালনাকারী, এজেন্ট, অর্থ লেনদেনে ব্যবহৃত এমএফএস ও ব্যাংক হিসাবের মালিক এবং চক্রটির দেশি-বিদেশি অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্তে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের রিমান্ডের আবেদনসহ বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
সিআইডি দেশের জনগণকে অনলাইন জুয়া ও বেটিং কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য আহ্বান জানাচ্ছে। একইসঙ্গে অনলাইন বেটিং বা জুয়ার নামে কোনো ব্যক্তি বা চক্রের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন না করার এবং এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।
প্রধান সম্পাদক জয়নাল আবেদীন সজীব,|
Mobile: 01301429493 /
Email: msojibe73@gmail.com
ইপেপার