স্টাফ রিপোর্টার : দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সরকারি খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি ) দোর বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
এসব অনি য়ম-দুর্নীতির বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে খাদ্য বিভাগের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ জনসম্মুখে তুলে ধরেছেন রাজশাহীর পরিবহন ঠিকাদার লাল মিয়া।
সংবাদ সম্মেলনে লাল মিয়া দাবি করেন, রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন এলএসডিতে সরকারি খাদ্যশস্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ এ বং এক গুদাম থেকে অন্য গুদামে প্রেরণের কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের অনিয়ম চলে আসছে।
বিশেষ করে সংগৃহীত চাল সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এক গুদাম থেকে অন্য গুদামে পাঠানোর সময় চালের মান ও পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি চালাচল সূচি অনুযায়ী পরিবহন ঠিকাদারদের মাধ্যমে এক কেন্দ্র থেকে অন্য কেন্দ্রে চাল পাঠানো হয়।
কিন্তু কোনো কোনোক্ষেত্রে প্রেরণ কেন্দ্র থেকে চাল নিয়ে যাওয়ার পর প্রাপক কেন্দ্রে পৌঁছানোর আগেই কথিতভাবে পরিবহন ঠিকাদার কিংবা প্রাপক কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে চাল পরিবর্তনের ঘটনা ঘটছে। পরে নিম্নমানের চাল সরকারি গুদামে সংরক্ষণ করা হচ্ছে এমন অভিযোগও করেন তিনি।
লাল মিয়ার আরো অভিযোগ, পরিবহন ঠিকাদারের মাধ্যমে চাল প্রেরণের পর কোনো কোনো প্রাপক কেন্দ্রে গাড়ি আটকে দিয়ে চালকে নিম্নমানের আখ্যা দেওয়া হয় এবং প্রতি টন চালের বিপরীতে অতিরিক্ত এক হাজার টাকা দাবি ও আদায় করা হয়।
এ ধরনের অভিযোগ সত্য হলে তা সরকারি খাদ্যশস্য ব্যবস্থা পনার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।
সংবাদ সম্মেলনে লাল মিয়া দাবি করেন, খাদ্য গুদামে যে চাল পৌঁছায়, তার একটি অংশ নিম্নমানের হওয়ার অভিযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুমোদন ছাড়া তা সরকারি গুদামে গ্রহণ ও সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। ফলে শুধু গুদাম পর্যায়ের কর্মকর্তাই নয়, এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জেলা কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত প্রয়োজন বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাজশাহী বিভাগের খাদ্য বি ভাগের বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত থাকার পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
ফলে অভিযোগগুলো যথাযথভাবে তদন্ত না হলে খাদ্যশস্য সংগ্রহ, পরিবহন ও সংরক্ষণ ব্যবস্থায় অনিয়ম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সুত্র জানায়,ধান ছাঁটাইয়ে ভালো মাণের ধান নিয়ে তার পরিবর্তে নিম্নমানের চাল সরবরাহ করা হয়।
এছাড়াও রাতের আঁধারে ভালো মাণের চাল বের করে তার পরিবর্তে নিম্নমাণের চাল গুদামজাত করার অভিযোগ করা হয়।জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার (ডিসিফুড) নেপথ্যে
মদদে এসব অপকর্ম করা হয় বলেও সাধারণ মিলারদের মাঝে গুঞ্জন রয়েছে।
এদিকে শিবগঞ্জ খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি এলএসডি) আবুল কালাম আজাদকে নিয়েও সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।
লাল মিয়ার দাবি, ওসিএলএসডি আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে তার পূর্ববর্তী কর্মস্থলগুলোতেও বিভিন্ন ধরনের অভি যোগ ছিল। এমন অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তিনি গুরু ত্বপূর্ণ সরকারি খাদ্য গুদারের দায়িত্ব পেলেন এ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়ো জন।
কোনো কর্মকর্তা বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠা মানেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়। তাই অভিযোগের বিষয়ে নির পেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি উঠেছে।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি পরিবহন ঠিকাদার লাল মিয়ার উত্থাপিত অভিযোগগুলো সত্য কি না, চাল পরিবর্তন, নিম্নমানের চাল গ্রহণ, প্রতি টনে অতিরিক্ত অর্থ আদায় কিংবা সরকারি খাদ্যশস্য ব্যবস্থাপনায় অন্য কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তে র দাবি জানানো হয়েছে।
বিশেষ করে প্রেরণ কেন্দ্রের চালের নমুনা, প্রাপক কেন্দ্রে পৌঁছানোর পর চালের নমুনা, চালাচল সূচি, পরিবহন সংক্রান্ত কাগজপত্র, ওজনের রেকর্ড, গুদামের স্টক রেজিস্টার, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বকাল এবং পরিবহন ঠিকাদারদের বিল-ভাউচার যাচাই করা হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ণয় করা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্ট মহলের মত।
অভিযোগের বিষয়ে শিবগঞ্জ খাদ্য গুদামের ভরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) আবুল কালাম আজাদ এবং সংশ্লিষ্ট খাদ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
একই সঙ্গে অভিযোগকারী লাল মিয়ার কাছেও তার দাবির পক্ষে থাকা নথি, প্রমাণ বা সাক্ষ্য থাকলে তা প্রকাশের আহ্বান জানানো যেতে পারে।
সরকারি খাদ্যশস্য দেশের মানুষের খাদ্যনিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। ফলে খাদ্যশস্য সংগ্রহ, পরিবহন ও গুদা মজাতকরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে সত্যতা প্রকাশ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনু যায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন এমনটাই দাবি সংশ্লিষ্টদের।
অপরদিকে টাংগাইলের মধুপুর, ধনবাড়ি, ঘাটাইল নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া, আটপাড়া, বারহাট্টা সহ বিভিন্ন এলএসডিতে ভালো মানের চাল পরিবর্তন করে নিম্ন মানের চাউল মজুদ এর অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কমিশন নিয়ে নীরব থাকে।
নেত্রকোনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ও কারিগরি খাদ্য পরিদর্শক দিপায়ন দও মজুমদার ববি, টন প্রতি ১০০ টাকা নিয়ে গুদাম পরিদর্শন না করে অফিসে বসে পরিদর্শন রিপোর্ট দিয়ে থাকেন। অডিটর এর বিরুদ্ধে রয়েছে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ। দুর্গাপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মাহমুদা আক্তার মুন্নী দুর্নীতি ও অনিয়ম করেও রয়েছে বহাল তবিয়তে।
এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্মীতি অনিয়ম ধরা পড়লেও অনেক সময় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে বদলি করে দায় এড়িয়ে যান। সম্প্রতি ময়মনসিংহ বিভাগের বকশিগঞ্জ সহ দুই এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দুর্নীতি ও অনিয়ম ধরা পড়ায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে বদলি করা হয়েছে । এ ব্যাপারে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বক্তব্য জানতে ফোন দিয়ে পাওয়া যায়নি।
ছবি : সংগৃহীত
প্রধান সম্পাদক জয়নাল আবেদীন সজীব,|
Mobile: 01301429493 /
Email: msojibe73@gmail.com
ইপেপার