মো: সবুজ হোসেন রাজা,সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
কুয়াশামাখা তীব্র শীত উপেক্ষা করে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার কৃষকরা প্রায় প্রতিটি কৃষি জমি এমনকি শুকিয়ে যাওয়া বিভিন্ন খাল-বিল, নদীর অববাহিকায় বছরের প্রধান বোরো ধানের চারা রোপণ করা শুরু করেছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়,উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠে ধা নের কচি চারার সবুজ গালিচা,কোথাও কোথাও গভীর নলকূপ থেকে চলছে পানিসেচ,ট্রাক্টর,পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি চাষের কাজ,মই দিয়ে করছে জমি সমান। আবার বোরো ধান রোপণের জন্য বীজতলা থেকে তো লা হচ্ছে ধানের চারা কৃষকদের শরীরে রয়েছে।শীতের পোষাক,মাথায় গরম কাপড় কৃষাণ-কৃষাণীরা রয়েছেফু রফুরে মেজাজে কেউবা জমিতে হাল চাষ দিচ্ছে,কেউ বা জমির আইলে কোদাল মাড়ছে,কেউ জৈব সারদিতে ব্যস্ত, আবার কেউ সেচের জন্য ড্রেন নির্মাণ কিংবা পাম্পের বা শ্যালো মেশিনের জন্য ঘর তৈরি করছে।
অনেকে তৈরি জমিতে পানি সেচ দিয়ে ভিজিয়েরাখছে ,কেউ বীজতলা থেকে নানা জাতের বোরো ধানের চারা তুলে রোপণ করছে।রবি সরিষা উত্তোলন করার পরেই মূলত তারা ব্যস্ত হবেন প্রধান কৃষিশষ্য ধান চাষে।নিম্না ঞ্চল হওয়ায় উপজেলার সবর্ত্র বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়ে প্রায় ৩-৪ মাস ফসলি মাঠ পানির নিচে থাকে।ব ন্যার পানি জমি থেকে নেমে যাওয়ার পর দ্বিতীয় প্রধা ন কৃষিশস্য রবি সরিষা চাষ শুরু হয়। এরপরেই বন্যার পানি প্রবেশের আগ পর্যন্ত চলে বোরো ধান চাষ।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে,এ বছর উপ জেলার ১৩ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভায় বোরোধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে হাইব্রিড হিরা-২ জাতে র ৩ হেক্টর,হিরা-৬ জাতের ৪ হেক্টর,তেজগোল্ড ১৫ হে ক্টর,এসএল. এইট. এইচ ৩০ হেক্টর,শক্তি-২ জাতের ৩ হেক্টর,ছক্কা ২২ হেক্টর,মাহীকো ১ হেক্টর,সিনজেন্টা ১২ ০৩ জাতের ৩৯ হেক্টর,মহারাজ ২০ হেক্টর,এগ্রো-১৪ জাতের ৬ হেক্টর,ইস্পাহানী ৬ হেক্টর ও মায়া ১০হেক্টর উফশী ব্রি ধান ২৮ জাতের ৬০ হেক্টর,ব্রি ধান ২৯ জা তের ৪৫০ হেক্টর,ব্রি ধান ৫০ জাতের ২ হেক্টর,ব্রি ধান
৫৮ জাতের ৭০ হেক্টর,ব্রি ধান ৭৪ জাতের ১০ হেক্টর, ব্রি ধান ৮৮ জাতের ৫ হেক্টর,ব্রি ধান ৮৯ জাতের ২৫৯ হেক্টর,ব্রি ধান ৯২ জাতের ৫৫ হেক্টর,ব্রি ধান ১০০ জা তের ৫ হেক্টর,বিনা ধান-২৫ জাতের ৫ হেক্টর,সুবলতা ২০ হেক্টর ও কাটারীভোগ ১৫ হেক্টর। স্থানীয় জাতের সাদা বোরো ১০ হেক্টর ও কালো বোরো ১০ হেক্টর,মো ট ২২ হাজার ৬৮০ হেক্টর। এরই মধ্যে প্রায় ৯ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণ করা হয়েছে
উপজেলার হাবিবুল্লাহ নগর ইউনিয়নের কৃষক আলম, গোলাপ ও মজিদ জানান- আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ধানের বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্ক দূর হয়েছে। তবে শীতের তীব্রতা রয়েছে,এরকম আবহাওয়া বেশি দিন থাকলে বোরো চাষে ব্যাঘাত ঘটবে। আর আবহা ওয়া অনুকুলে থাকলে বিগত বছরের মতো এ বছরেও বোরো চাষাবাদ ভলো হওয়ার আশা করছে কৃষকরা।
শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জেরিন আহমেদ বলেন- এ উপজেলার প্রধান কৃষি ফসল ধান হওয়ায় সর্বত্রই চাষাবাদের জন্য জমি প্রস্তুত করছেকৃষ করা। উপজেলার সব এলাকার কৃষকই বোরো আবাদে নিজস্ব বীজতলা করেছেবীজতলায় চারার মানও ভালো আছে।তিনি আরো জানান- উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের বোরো চাষে বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন। প্রায় ২২ হাজার ৬৮০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
শীতের তীব্রতা বেশি দিন স্থায়ী হবেনা বলে তিনি আশা প্রকাশ করে জানান- আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য মতে শীতের তীব্রতা ২/১ দিন থেকে অনুকুলে আশার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রধান সম্পাদক জয়নাল আবেদীন সজীব,|
Mobile: 01301429493 /
Email: msojibe73@gmail.com
ইপেপার