January 24, 2026, 8:44 pm
শিরোনামঃ
এই নিষ্ঠুরতা ‘ফিক্সড ডিপোজিট’ হয়ে রইল কারাগারে বন্দী সাদ্দাম: স্ত্রী ও সন্তানের মুখ দেখা হলো না শেষবারের মতোও, ফাঁস হওয়া অডিও: ‘হাসিনার বিচার সুষ্ঠু হয়নি, তবুও পলিটি ক্যালি জিনিয়াস’—মার্কিন কূটনীতিকের স্বীকারোক্তি দুঃশাসন-দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণরোষের হাতপাখা—কুড়িগ্রাম-৩ এ ক্ষমতার অপশাসনের ‘শেষ ঘন্টা’ নোয়াখালী চৌমুহনীতে এশিয়া ছিন্নমূল মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশন শীত নিবারনে কম্বল বিতরণ করেছে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফেরাতে ৫ দফা দিলেন শেখ হাসিনা ইউনূস এক খুনি ফ্যাসিস্ট’: নির্বাসনে প্রথম জনসমাবেশে শেখ হাসিনার তীব্র ভাষণ গফরগাঁওে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ মহড়া অনুষ্ঠিত ওয়ারিশদের দাবি প্রত্যাখ্যান করে ধর্মবোনের ওপর দায়ভার অর্পণ—প্রশাসনের নজরদারির দাবি: আসন্ন জাতীয় সংসদ ও গণভোট নির্বাচন ঘিরে নগরী জুড়ে যৌথ নিরাপত্তা মহড়া উপজেলা প্রশাসন উলিপুরে নির্বাচনী আচরণবিধি ও গণভোট প্রচারণা বিষয়ে মতবিনিময় সভা
নোটিশঃ
আপনার আশেপাশের ঘটে যাওয়া খবর এবং আপনার ব্যবসার বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য যোগাযোগ করুন মানবাধিকার খবরে।

শীর্ষ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে তদন্ত, চুন্নুর বদলি গণপূর্ত অধিদপ্তরের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ‘এ্যাকশন।

Reporter Name

প্রথম বাংলা – অবশেষে অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জর্জরিত গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রভাবশালী প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ শুরু হলো।বছর বছর ধরে প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখ তারের আস্থাভাজন সিন্ডিকেটের অনিয়ম সামনে আসলেও অর্থ আর প্রভাবের কারনে নেয়া হয়নি পদক্ষেপ। অনেক ক্ষেত্রে গণমাধ্যমও ছিল চুপ। তবে এবার প্রধান প্রকৌশলীর অনিয়ম তদন্ত ছাড়াও বিতর্কিতদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যেই প্রধান প্রকৌশলীর সবচেয়ে কাছের লোক হিসেবে পরিচিত নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুজ্জামান চুন্নুকে ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়েছে। বদলি হচ্ছে আরো বেশ কয়েকজন।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। সেটা তদন্ত শেষ হওয়ার আগেও হতে পারে। একই সঙ্গে শীঘ্রই আরো বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বদলিসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। পদক্ষেপের অংশ হিসেবেই মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুজ্জামান চুন্নুকে বদলি করা হয়েছে ফরিদপুর গণপুর্ত বিভাগে।

এ কর্মকর্তাকে ফরিদপুর গণপূর্ত বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলীর দলতি দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ফরিদপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বরুন কুমার বিশ্বাসকে মুন্সিগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী ও মুন্সিগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: খায়রুজ্জামানকে পিরোজপুর গণপূর্ত বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আদেশে বাকী দুজন কর্মকর্তাকে বদলির বিষয়ে কর্মকর্তারা বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুজ্জামান চুন্নুর বদলির জন্য তাদের সমন্বয় করতে হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে ঢাকা থেকে বিতর্কিত আরো বেশ কয়েকজনকে বদলি করা হচ্ছে।

নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুজ্জামান চুন্নু বদলির ব্যাপারে তিনি সংবাদ ম্যাধ্যাম কে বলেছেন, ‘এর পেছনে আছে বিএনপি পন্থী প্রকৌশলীরা। তারা এটা করেছে। তারা চেয়েছিল প্রধান প্রকৌশলী স্যারকে সড়িয়ে দিতে। সেটা এখনো পারেনি। তাই আমরা যারা প্রধান প্রকৌশলী স্যারের কাছের তাদের বদলি করা হচ্ছে। আমাকে বদলি করা হয়েছে। আরো কয়েকজনকে বদলি করা হবে।’

তবে কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুজ্জামান চুন্নুর বিরুদ্ধে অনিয়ম ছাড়াও সম্প্রতি একটি বিষয় সামনে চলে আসে। সেটাও বদলির একটা কারন। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় গত ১৬ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় হেলমেট পরা এক ক্যাডারকে ঠিকাদার হিসেবে সব সময় সহযোগিতা করেন গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুজ্জামান চুন্নু। এমন তথ্য সামনে আসায় দ্র্রুত তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়।

এদিকে সম্প্রতি প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতারের লাগামহীন অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করে। ১৫ দিনের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কমিটিতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (অডিট অনু বিভাগ) শাহনাজ সামাদকে আহ্বায়ক, উপসচিব (বাজেট অধিশাখা-৪) মো. মাহবুবুর রহমান সদস্য সচিব এবং যুগ্ম সচিব (উন্নয়ন অধিশাখা-১৪) মো. জহিরুল ইসলাম খানকে সদস্য করা হয়েছে। তদন্ত করে সুস্পষ্ট মতামতসহ মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক শাহনাজ সামাদ বলেছেন, ‘হ্যা তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা কাজও শুরু করেছি। অবশ্যই সঠিক তদন্ত হবে।’

অভিযোগ উঠেছে, ২০২০ সালে ছয়জনকে ডিঙিয়ে প্রধান প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল শামীম আখতারকে। মন্ত্রীদের সঙ্গে সুসম্পর্কের কারণে প্রভাব বিস্তার করে মেধাতালিকায় ৭ নম্বরে থাকার পরও প্রধান প্রকৌশলী পদে চলতি দায়িত্ব পান তিনি। এরপর থেকেই এখানে চলছে তার সিন্ডিকেটের একচ্ছত্র দাপট। কাজ, নিয়োগ, বদলিসহ সকল কাজেও নিয়ন্ত্রণ এ সিন্ডিকেটের হাতে।

এর আগে শামীম আখতার হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এইচবিআরআই) মহাপরিচালক ছিলেন। সেখানেও সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন। প্রকল্প পাস হওয়ার আগেই, কখনো দরপত্র ছাড়াই কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ পেয়ে যেতেন তার কাছের ঠিকাদাররা। লাখ টাকা বেতনে প্রকল্পের পরামর্শক, কর্মকর্তা-প্রকৌশলী থেকে বাবুর্চি-মালির মতো পদগুলোয় নিয়োগের ক্ষেত্রেও ছিল একই অবস্থা। মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে ঠিকাদারিসহ নানা সুবিধা দেয়ার তিনটি অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছিল এইচবিআরআইর একটি তদন্ত কমিটি। এক বছর আগে তদন্ত প্রতিবেদন সচিবের কাছে জমা দিলেও মন্ত্রীর আশির্বাদে প্রতিবেদনটি ধামাচাপা দেয়ার ব্যবস্থা করেন প্রকৌশলী শামীম আখতার। তৎকালীন সচিব প্রধান প্রকৌশলীর অনিয়ম বন্ধে কঠোর থাকলেও পুরো সিন্ডিকেটের কাছে হার মানতে বাধ্য হয় সচিবকে।

অভিযোগ আছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও বদলি সিন্ডিকেট ছাড়া হয়না। গত বছর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী পদ থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি এবং উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী পদে বদলি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সিন্ডিকেট।

এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা বলা হয়, প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতার সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্যরা হলেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. শহীদুল আলম, মো. নাছিম খান, নির্বাহী প্রকৌশলী, মাহবুবুর রহমান, সমীরণ মিস্ত্রি, মো.সাইফুজ্জামান চুন্নু, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর স্টাফ অফিসার মো. মাহবুবুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী আজমল হোসেন।



Our Like Page
Developed by: BD IT HOST