March 4, 2026, 4:40 am
শিরোনামঃ
স্বাস্থ্যসেবায় কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ নেই : আবু ওয়াহাব আকন্দ এমপি এক অনুপ্রেরণার নাম অদম্য নারী : বিভাগীয় কমিশনার ঢাকা মহানগর এলাকার ব্যাংক, শপিং মল সমূহের নিরাপত্তা, সারথি ২০০০, চট্টগ্রাম এর পক্ষ থেকে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন রমজান উপলক্ষে বন্ধুই শক্তি ক্লাব ২০০০-এর উদ্যোগে এক ইফতার ও দোয়া মাহফিল রংপুর বিভাগ জুড়ে আইনশৃংখলার চরম অবনতী মার্কিন দূতাবাস সহ ডিপ্লোমেটিক এরিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নরসিংদীর শিবপুরে সাংবাদিক স্টিকার লাগানো গাড়িসহ তিন গরুচোর আটক উদ্বৃত্ত খাদ্য রপ্তানি করতে কাজ করছে সরকার দুর্নীতিবাজদের মন্ত্রণালয়ে আশ্রয় হবে না : গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী
নোটিশঃ
আপনার আশেপাশের ঘটে যাওয়া খবর এবং আপনার ব্যবসার বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য যোগাযোগ করুন মানবাধিকার খবরে।

স্বৈরাচার ইউনুসের ‘জুলাই ঘোষণা’: এক ভণ্ডামিপূর্ণ রাষ্ট্রদ্রোহের ছক

Reporter Name

স্টাফ রিপোর্টার—–
বাংলাদেশের ইতিহাস, গণতন্ত্র ও সংবিধানের বিরুদ্ধে বহির্জাতিক পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত ভয়ঙ্কর এক চক্রান্তের নাম হয়ে উঠেছে তথাকথিত ‘জুলাই ঘোষণা’। এটি কোনো রাজনৈতিক ম্যান্ডেট, আন্দোলনের পরিণতি কিংবা জনচাওয়ার প্রতিফলন নয়—বরং এটি একজন বিচারাধীন, স্বার্থান্ধ, অগণতান্ত্রিক ও ষড়যন্ত্রপরায়ণ ব্যক্তির নেতৃত্বে ক্ষমতা দখলের জন্য পরিচালিত বেসামরিক ফ্যাসিবাদের নগ্ন ঘোষণা।

মুহাম্মদ ইউনুস ও তার বিদেশি মদদপুষ্ট গোষ্ঠী বাংলাদেশের জনগণের নামে কথা বলার অধিকার হারিয়েছেন বহু আগেই। যারা কোনোদিন নির্বাচনে দাঁড়ায়নি, রাজপথে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়নি, জনগণের দুঃখ-দুর্দশায় পাশে দাঁড়ায়নি—তারা আজ গণতন্ত্রের মুখোশ পরে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কথা বলে। এটি শুধুই উপহাস নয়, সরাসরি সংবিধানবিরোধী এবং দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল।

তথাকথিত ‘গণঅভ্যুত্থান’ ছিল আসলে একটি সহিংস ও অপরাধপ্রবণ অভিযান। এখানে সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণ ছিল না, বরং ছিল সুপরিকল্পিত সন্ত্রাস, উগ্র-চরিত্রের রাজনৈতিক ক্যাডার, লবিস্ট পরিচালিত মিডিয়া ক্যাম্পেইন এবং বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার। এই তথাকথিত অভ্যুত্থান ছিল এমন একটি অপচেষ্টা, যেখানে রক্তপাতের মাধ্যমে, বিচারব্যবস্থাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, পেছনের দরজা দিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের ছক কষা হয়েছিল।

‘জুলাই ঘোষণা’ নামক ঘোষণাপত্রে ব্যবহার করা ভাষা একদিকে যেমন জ্ঞানগর্ভতার মুখোশে আবৃত, অন্যদিকে তা তীব্র বিভাজন, বিভ্রান্তি ও অসত্যের আশ্রয় গ্রহণ করেছে। এখানে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে অপব্যবহার করে, ১৯৭১ সালের চেতনার নাম ভাঙিয়ে, একটি গণতান্ত্রিক ও নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে চক্রান্তমূলক মিথ্যাচার ছড়ানো হয়েছে। যারা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে গঠিত ১৯৭২ সালের সংবিধানকে আজ মুছে দিতে চায়, তারাই এখন ‘মুক্তিযুদ্ধের পুনরুদ্ধার’-এর কথা বলে—এটা নিছক এক প্রতারণা, ইতিহাস বিকৃতি ও জাতির সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া কিছু নয়।

সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো, এ ঘোষণাপত্রে বিচারাধীন মুহাম্মদ ইউনুস নিজেকে জাতির রক্ষক, ভবিষ্যতের রাষ্ট্রপতি এবং বিকল্প রাজনৈতিক ধারার পুরোধা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন। এটা কেবল এক ব্যক্তির মানসিক বিকারগ্রস্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং এতে আন্তর্জাতিক চক্রান্তের গন্ধ স্পষ্ট। বহুজাতিক স্বার্থে বাংলাদেশকে নতজানু করে রাখার জন্য যে গোষ্ঠী একাধিকবার নির্বাচিত সরকারকে অকার্যকর করতে চায়, তাদের ক্রীড়ানক হয়ে উঠেছেন মুহাম্মদ ইউনুস।

এই ঘোষণাপত্রে ‘অন্তর্বর্তীকালীন গণতান্ত্রিক সরকার’ গঠনের দাবি আসলে একটি অসাংবিধানিক, বেআইনি ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র। বিচারপতির নাম ব্যবহার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করা, নামসর্বস্ব ‘কমিটি’ তৈরি করে রাষ্ট্রীয় কাঠামো দখল করা—এইসব কর্মধারা সরাসরি বিদ্রোহ ও রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল। রাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী এমন কোনো অস্থায়ী সরকার গঠনের বিধান নেই, বরং এর পেছনে রয়েছে ক্ষমতা দখলের সুগভীর অপরাধমূলক চক্রান্ত।

আরও লজ্জার বিষয় হলো, এই ঘোষণার মাধ্যমে ইউনুস তার বিরুদ্ধে চলমান বিচার, দুর্নীতি, শ্রমিক নিপীড়ন, অর্থপাচার ও সুইস ব্যাংকে অবৈধ অর্থ লেনদেনের মামলা থেকে রক্ষা পেতে চেয়েছেন। তিনি জানেন, সুষ্ঠু বিচার হলে তার রাজনৈতিক জীবনের শেষ দিনটি কাছেই। তাই ‘জাতীয় ঐক্য’ নাম দিয়ে একটি প্রতারক নাটক মঞ্চস্থ করে তিনি মূলত জনগণের চোখে ধুলো দিতে চাচ্ছেন।

এ ঘোষণাপত্রে মুক্তিযুদ্ধ, সংবিধান ও গণতন্ত্রের নামে যা বলা হয়েছে, তা মূলত স্বৈরতন্ত্র, কায়েমি স্বার্থ আর বিকল্প শক্তির দুঃস্বপ্ন বাস্তবায়নের আহ্বান। এই চক্রান্ত যে কতটা গভীর, তা বোঝা যায় যখন দেখা যায় একদল বিদেশি লবিস্ট, এনজিওপন্থী বুদ্ধিজীবী এবং ব্যর্থ রাজনীতিকরা এই প্রক্রিয়ার ছায়ায় একত্রিত হচ্ছেন।
অতএব, মুহাম্মদ ইউনুসের এই তথাকথিত ‘জুলাই ঘোষণা’ জনগণের কোনো দাবি নয়—এটি একটি এলিট শ্রেণির ক্ষমতা লোভের দলিল। একটি রাষ্ট্রকে পেছনের দরজা দিয়ে হাইজ্যাক করার অপচেষ্টা। বাংলাদেশের মানুষ নির্বাচনেই আস্থা রাখে, সন্ত্রাসে নয়; সংবিধানেই বিশ্বাস করে, ঘোষণাপত্রে নয়; এবং উন্নয়ন-অগ্রগতির ধারায় থাকতে চায়, ষড়যন্ত্রের অন্ধকার গলিতে নয়।

বাংলাদেশের জনগণ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি, গণতান্ত্রিক সরকার এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই বিশ্বাস রাখে। এই ষড়যন্ত্র যতই বুদ্ধিদীপ্তভাবে সাজানো হোক না কেন, জনগণের ঐক্য, স্মৃতি ও প্রতিজ্ঞার কাছে তা ভেসে যাবে। ইউনুসের মতো আত্মস্বীকৃত স্বৈরাচার ও অপরাধীর হাতে বাংলাদেশ কখনোই তুলে দেওয়া হবে না।

যে ব্যক্তি সুপ্রিম কোর্টের আদেশে শ্রম আইন লঙ্ঘনকারী হিসেবে অভিযুক্ত, সেই বিচারাধীন দুর্নীতিবাজ ইউনুস এখন নৈতিকতা শেখাচ্ছেন জাতিকে! এর চেয়ে বড় ধৃষ্টতা আর হতে পারে না।বিদেশি দূতাবাসগুলোর গোপন বৈঠক আর করপোরেট গণমাধ্যমের সমন্বয়ে চালানো এই ‘গণতন্ত্র নাটক’ আর বেশি দিন চলতে দেওয়া যাবে না।

এই ঘোষণার প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল বিচার থেকে পালানো। বর্তমানে ইউনুস বিভিন্ন দুর্নীতি, অর্থপাচার ও শ্রমিক নির্যাতনের মামলায় বিচারাধীন আসামি। দেশের সর্বোচ্চ আদালত তার বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট পর্যবেক্ষণ দিয়ে রেখেছে—যেখানে বলা হয়েছে তিনি তার কর্মীদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দেননি, তাদের অধিকার হরণ করেছেন। অথচ সেই ব্যক্তি এখন মানবাধিকারের মুখোশ পরে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেকে ‘গণতন্ত্র রক্ষাকারী’ হিসেবে প্রচার করছেন। এর চেয়ে বড় আত্মবিরোধিতা আর কিছু হতে পারে না।

৫ আগস্ট: গণতন্ত্র, ছাত্র, জনতা ও পুলিশের রক্তাক্ত দিন
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ইতিহাসে লেখা থাকবে এক কালো অধ্যায় হিসেবে।
এই দিনটি আজ ‘গণতন্ত্র ও ছাত্র-জনতা-পুলিশ হত্যা দিবস’—কারণ এই দিনেই ইউনুস-সমর্থিত সন্ত্রাসী চক্র রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়। পুলিশের গায়ে গুলি চলে, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বাড়িঘর লক্ষ্য করে পেট্রোল বোমা ছোঁড়া হয়, নিরীহ ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ হয়।

এক বছরে কতটা পিছিয়ে গেল বাংলাদেশ?
২০২৪ সালের শেষ থেকে ইউনুস ও তার সমন্বয়ক চক্রের অপতৎপরতা দেশকে অর্থনৈতিকভাবে বহু বছর পিছিয়ে দিয়েছে। এই সময়কালে:

বৈদেশিক বিনিয়োগে ২২% হ্রাস ঘটেছে।
পোশাক খাতে ক্রয়াদেশ কমে গেছে ১৭%।
পদ্মা সেতু সংযুক্ত অঞ্চলের চারটি মেগা প্রকল্পের কাজ থেমে গেছে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিলম্ব ঘটেছে নতুন উৎপাদন ইউনিটে।
মূল্যস্ফীতি বেড়েছে অনিশ্চয়তার কারণে।

শুধু অর্থনৈতিক নয়, সামাজিকভাবেও দেশে এক ধরনের ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে—যেখানে বিদেশি এজেন্সি, এনজিও, তথাকথিত সিভিল সোসাইটি ও কয়েকটি করপোরেট মিডিয়া জনগণের রাষ্ট্রীয় আস্থাকে নষ্ট করার কাজ করছে।

স্বৈরাচার ইউনুসের মুখোশ খুলে গেছে
এখন আর ইউনুসের আসল চেহারা ঢাকার কিছু নেই। কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার, সুদের ব্যবসা করে মুনাফা লুটে আন্তর্জাতিক পুরস্কার নেওয়া, শ্রমিক নির্যাতন, বিচার অমান্য, পুলিশ হত্যা—সবই তার নামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক দেশীয় আইন লঙ্ঘনের মামলা চলছে।

এমন একজন ব্যক্তি আজ আবার নতুন রাজনৈতিক গেমপ্ল্যান সাজিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করতে চাইছেন? এটা কেবলমাত্র নিন্দনীয় নয়, এটি জাতির সঙ্গে এক ভয়াবহ বিশ্বাসঘাতকতা।
বাংলাদেশের মানুষ উন্নয়ন চায়, শান্তি চায়, ভোটের অধিকার চায়। কিন্তু সেটি আসবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সাংবিধানিক ধারায়, কোনো দখলদার ইউনুসের ‘গণতন্ত্র নাটক’ দিয়ে নয়।

আজ প্রয়োজন জাতীয়ভাবে একটি ঐক্যবদ্ধ দাবি—

স্বৈরাচার দখলদার মুহাম্মদ ইউনুসের বিচার আন্তর্জাতিকভাবে হোক। তার সকল রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম তদন্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক।
গণতন্ত্র মানে পুলিশ হত্যা নয়। দেশপ্রেম মানে বিদেশিদের হয়ে ষড়যন্ত্র নয়। এবং ‘ঘোষণা’ মানেই নেতৃত্ব নয়।

সাখাওয়াত হোসেন
সাবেক ছাত্রনেতা (বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)



Our Like Page
Developed by: BD IT HOST