প্রথম বাংলা : ময়মনসিংহকে শিক্ষার নগরী হিসেবে প্রতিষ্ঠার পেছনে যে কজন মনীষী অসামান্য অবদান রেখেছেন, আনন্দমোহন বসু তাঁদের অন্যতম। অন্ধকারাচ্ছন্ন সমাজকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার পথ দেখিয়েছেন তিনি। কৃতজ্ঞতাবোধ থেকেই আনন্দমোহন বসুর জীবন, কর্ম ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ এমপি।
তিনি বলেন, ‘আমরা ময়মনসিংহবাসী আনন্দমোহন বসুর প্রতি কৃতজ্ঞ। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, নতুন প্রজন্মের কাছে আমরা তাঁকে তাঁর প্রাপ্য মর্যাদায় তুলে ধরতে পারিনি। তাই আনন্দমোহন বসুকে আমাদের স্মরণে ফিরিয়ে আনতে হবে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়। তাঁর জীবন, কর্ম ও আদর্শ সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে জানাতে হবে।’
আনন্দমোহন বসুর ১৮০তম জন্মদিন উপলক্ষে বুধবার ময়মনসিংহ সিটি কলেজিয়েট স্কুল আয়োজিত শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ এমপি বলেন, ‘ময়মনসিংহকে শিক্ষার নগরী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে কজন ব্যক্তি অপরিসীম অবদান রেখেছেন, আনন্দমোহন বসু তাঁদের অন্যতম।’ শিক্ষা বিস্তারের মাধ্যমে একটি পশ্চাৎপদ সমাজকে এগিয়ে নেওয়ার যে উদ্যোগ তিনি নিয়েছিলেন, তা আজও ময়মনসিংহের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে গভীরভাবে প্রভাব বিস্তার করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, আনন্দমোহন বসুর মতো মনীষীদের অবদান কেবল স্মরণসভা বা জন্মদিন পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। তাঁদের জীবন ও চিন্তাকে নতুন প্রজন্মের শিক্ষা, মূল্যবোধ ও মানবিক চেতনার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
উনিশ শতকে বাংলায় শিক্ষা বিস্তার ও সমাজসংস্কারের ক্ষেত্রে আনন্দমোহন বসু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ময়মনসিংহের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও ছিল গভীর। তাঁর উদ্যোগে ময়মনসিংহে শিক্ষা বিস্তারের যে ধারার সূচনা হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে তা এ অঞ্চলের শিক্ষা-ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করে। তাঁর নামের সঙ্গে যুক্ত আনন্দমোহন কলেজ আজও বৃহত্তর ময়মনসিংহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত।
অনুষ্ঠানে আনন্দমোহন বসু স্মৃতি পরিষদের আহ্বায়ক কবি ও গল্পকার তাহমিনা রহমান বলেন, আনন্দমোহন বসু শুধু ময়মনসিংহের নয়, সমগ্র বাংলার শিক্ষা, সমাজসংস্কার ও মানবিক অগ্রযাত্রার এক উজ্জ্বল নাম। তাঁর জীবন ও কর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার মধ্য দিয়ে শুধু একজন মনীষীকে স্মরণ করা নয়, শিক্ষা, মানবিকতা ও সমাজকল্যাণের একটি আদর্শকেও সামনে নিয়ে আসা সম্ভব। তাঁর স্মৃতি ও আদর্শ সংরক্ষণে ভবিষ্যতেও বিভিন্ন সৃজনশীল ও শিক্ষামূলক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।
কবি, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক স্বাধীন চৌধুরী বলেন, ‘আনন্দমোহন বসুকে শুধু একটি নাম হিসেবে স্মরণ করলে হবে না; তাঁকে জানতে হবে তাঁর কর্মের মধ্য দিয়ে। যে মানুষ একটি সমাজের অন্ধকারে শিক্ষার আলো জ্বালিয়েছেন, নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় হওয়া উচিত সেই আলোকবর্তিকার।’
তিনি আরও বলেন, জন্মদিন পালনের আনুষ্ঠানিকতার বাইরে আনন্দমোহন বসুর জীবন ও কর্ম নিয়ে শিক্ষার্থী-তরুণদের মধ্যে আলোচনা বাড়াতে হবে। চিত্রাঙ্কন, সাহিত্য, ইতিহাস ও সংস্কৃতিচর্চার মতো সৃজনশীল উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের কাছে তাঁর আদর্শ পৌঁছে দেওয়া গেলে ময়মনসিংহের এই ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার নতুন প্রজন্মের চেতনায় আরও গভীরভাবে জায়গা করে নেবে।
সিটি কলেজিয়েট স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা সঞ্চালনা করেন ময়মনসিংহ সিটি কলেজিয়েট স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, কবি ও সংগঠক আলী ইউসুফ।তিন শতাধিক ক্ষুদে চিত্রশিল্পীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। পরে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।