June 6, 2026, 12:01 pm
শিরোনামঃ
কালিয়াকৈরে বোয়ালী কেন্দ্রীয় মন্দিরে অষ্টকালীন লীলা কীর্তন অনুষ্ঠানবিএনপি সকল ধর্মের মানুষের অধিকার নিশ্চিত করবে উখিয়া থানায় বিজিবির অভিযানে ইয়াবা সহ একজন আটক চকরিয়া-সাব হেডিংঃ স্থানীয় অভিযোগে আশ্রয়দাতা ও প্রভাবশালীদের সম্পৃক্ততা ঘিরে চাঞ্চল্য ঈশ্বরগঞ্জে আসামি না পেয়ে ছাগল বিক্রির টাকা নিয়ে গেলেন এসআই বদলির পরও চট্টগ্রাম ছাড়েননি সার্ভেয়ার আবু ইউসুফ, নেপথ্যে কোটি টাকার সিন্ডিকেট! যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে মাদক এবং কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা : ওসি আল মামুন বিয়ে করলেন দীপ্তি চৌধুরী, স্বামী ঢাবি শিক্ষক মুশতাক ইবনে আইয়ুব সাংবাদিকদের স্বাধীনতায় কোনো হস্তক্ষেপ করবে না সরকার: তথ্য প্রতিমন্ত্রী শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ ঢাকা গড়তে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে: ডিএমপি কমিশনার ওসি শিবিরুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান, ময়মনসিংহে ইয়াবা ও হেরোইনসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার
নোটিশঃ
আপনার আশেপাশের ঘটে যাওয়া খবর এবং আপনার ব্যবসার বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য যোগাযোগ করুন মানবাধিকার খবরে।

এই নিষ্ঠুরতা ‘ফিক্সড ডিপোজিট’ হয়ে রইল কারাগারে বন্দী সাদ্দাম: স্ত্রী ও সন্তানের মুখ দেখা হলো না শেষবারের মতোও,

Reporter Name

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

রাজনীতির বেড়াজালে আটকে পড়া এক বাবার দীর্ঘশ্বাস আর ভাগ্যের নির্মম পরিহাসের সাক্ষী হলো দেশ। দীর্ঘ ১১ মাস ধরে কারাগারে বন্দী ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সাদ্দাম। এরই মধ্যে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক ঘটনা—আজ উদ্ধার করা হয়েছে তাঁর স্ত্রী এবং ৯ মাসের শিশুসন্তানের মরদেহ। তবে শেষবারের মতো তাঁদের মুখ দেখার সুযোগটুকুও পেলেন না তিনি, মেলেনি প্যারোলে মুক্তি।

পারিবারিক ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগে গত ১১ মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন সাদ্দাম। যখন তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়, তখন তাঁর স্ত্রী ছিলেন ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। গ্রেপ্তারের দুই মাস পর পৃথিবীর আলো দেখে তাঁর সন্তান। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম লিখন, পিতা হিসেবে সন্তানকে একবারের জন্যও কোলে তুলে নেওয়া বা ছুঁয়ে দেখার সুযোগ তাঁর হয়নি।

আইনজীবীরা জানান, সাদ্দামকে যখনই আদালতে হাজির করা হতো, তখনই তিনি বারবার আক্ষেপ করে বলতেন, “ভাই, আমার সন্তানকে এখন পর্যন্ত কোলে নিতে পারি নাই।” জেলের চারদেয়ালের ভেতর থেকেই তিনি স্বপ্ন দেখতেন একদিন মুক্তি পাবেন, সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরবেন। কিন্তু জামিন পেলেও জেলগেট থেকে বারবার অন্য মামলায় ‘শোন অ্যারেস্ট’ (Show Arrest) দেখানোর কারণে সেই স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল।

আজ সাদ্দামের স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ পাওয়ার খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনদের মাঝে। কিন্তু আইনি জটিলতায় প্যারোল না মঞ্জুর হওয়ায় শেষ বিদায়ের সময়েও থাকতে পারলেন না তিনি। জন্মের সময় যেমন পাশে থাকতে পারেননি, তেমনি মৃত্যুর পরেও শেষবারের মতো সন্তান ও স্ত্রীকে একনজর দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলেন।

স্বজনদের অভিযোগ, কেবল রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই সাদ্দামকে এমন মানবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই এই ঘটনাকে ‘নব্য স্বাধীন বাংলাদেশের’ বিচারব্যবস্থার প্রতি এক বড় প্রশ্নবোধক চিহ্ন হিসেবে দেখছেন।

ক্ষোভ প্রকাশ করে কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, “আজকের এই নিষ্ঠুর আচরণ আগামীর জন্য ‘ফিক্সড ডিপোজিট’ হয়ে রইল।” সাদ্দামের এই মর্মান্তিক পরিণতি রাজনীতি ও ক্ষমতার পালাবদলের ইতিহাসে একটি বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে রইল। সন্তানকে একটিবার চুমু খাওয়া বা কোলে নেওয়ার যে আর্তি সাদ্দামের ছিল, তা জেলের কুঠুরিতেই গুমরে মরল চিরতরে।



Our Like Page
Developed by: BD IT HOST