October 8, 2026, 5:27 pm
শিরোনামঃ
ময়মনসিংহে ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণে কমিশন দাবির অভিযোগ, সার্ভেয়ার মালেকে এর বিরুদ্ধে দিল্লিতে হাইকমিশনার ত্রিবেদীর আকস্মিক ছুট, তারেক রহমানের বিশেষ বার্তা নিয়ে মোদীর সঙ্গে বৈঠকের গুঞ্জন শাহজাহানপুর থানা পুলিশের অভিযানে গলা কেটে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন: বোন ও ভগ্নিপতি গ্রেফতার গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়: নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি আইজিপি “সততা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করুন” জঙ্গল সলিমপুরে সারদার আদলে পুলিশ একাডেমি হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উন্নয়ন করতে গিয়ে দুর্ভোগ: লক্ষ্মীপুরের মহাসড়ক এখন মরণফাঁদ ময়মনসিংহে খাদ্য পরিদর্শক শাহ মাজহারুল ইসলাম কামালকে নিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রস্তুতি সভা সিসি ক্যামেরা, স্বেচ্ছাসেবক ও বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর গুরু ত্বারোপ বিমান বাহিনী প্রধানের সঙ্গে আইজিপির সাক্ষাৎ
নোটিশঃ
আপনার আশেপাশের ঘটে যাওয়া খবর এবং আপনার ব্যবসার বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য যোগাযোগ করুন মানবাধিকার খবরে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়:

Reporter Name

মোঃ টিপু -স্টাফ রিপোর্টার:

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিকাশের ফলে আমাদের সামনে যেমন ব্যাপক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে, তেমনি নতুন নতুন চ্যালেঞ্জও সৃষ্টি হচ্ছে:

নোবিপ্রবিতে মেশিন ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইমার্জিং টেকনোলজিস শীর্ষক আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মোঃ আনোয়ার হোসেন

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬:
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ‘মেশিন ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইমার্জিং টেকনোলজিস (MIET)-২০২৬’ শীর্ষক তৃতীয় আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) নোবিপ্রবির বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে দুই দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: আনোয়ার হোসেন বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিকাশের ফলে আমাদের সামনে যেমন ব্যাপক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে, তেমনি নতুন নতুন চ্যালেঞ্জও সৃষ্টি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে শুধু প্রচলিত শিল্পের ওপর নির্ভর না করে বাংলাদেশকে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, সেমিকন্ডাক্টরসহ উচ্চপ্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশে কাজ করার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। জাতীয় ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এ এক হাজারেরও বেশি উদ্ভাবন উপস্থাপিত হয়েছে। এসব উদ্ভাবনকে গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে বাস্তবমুখী পণ্যে রূপান্তর এবং বাজারজাত করার লক্ষ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

সচিব বলেন, আমাদের স্থানীয় সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রযুক্তির মাধ্যমে সেসব সমস্যার কার্যকর সমাধান বের করতে হবে। এক্ষেত্রে অর্থায়ন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ; তবে অনেক সময় সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় উদ্যোগের অভাব। সরকারি-বেসরকারি খাত এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারলে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উৎস থেকে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন সংগ্রহ করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় ইনোভেশন ফেয়ারে উপস্থাপিত গবেষণাপত্র ও উদ্ভাবনগুলোর সারসংক্ষেপ তৈরি করে কীভাবে সেগুলো বাস্তব প্রয়োগ ও বাজারজাতকরণের পর্যায়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী তাঁর সভাপতির বক্তব্যে বলেন, আমরা এমন এক সময়ে বসবাস করছি, যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং, সাইবার নিরাপত্তা ও রোবোটিকসসহ উদীয়মান প্রযুক্তি মানুষের জীবন ও সমাজব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনছে। তাই গবেষণাকে শুধু গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধান এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য প্রযুক্তিগত অগ্রগতি হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই এবং সবার জন্য সহজলভ্য। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ভবিষ্যৎ গবেষক, উদ্ভাবক ও প্রযুক্তিবিদ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

উপাচার্য আরও বলেন, এবারের সম্মেলনে প্রায় ৫০টি প্রতিষ্ঠানের গবেষক অংশগ্রহণ করছেন এবং গৃহীত গবেষণাপত্রের ২৪ শতাংশে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এর মাধ্যমে সম্মেলনের আন্তর্জাতিক পরিসর এবং গবেষণা সহযোগিতার সম্ভাবনা আরও সুদৃঢ় হয়েছে। তিনি গবেষকদের জন্য এ সম্মেলনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দেশের গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন এবং প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল আলম।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, কনফারেন্সের অর্গানাইজিং চেয়ার মো. ইফতেখারুল আলম ইফাত, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক, আমন্ত্রিত অতিথি এবং সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কনফারেন্সে কী-নোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের বিগ ডেটা অ্যানালাইসিস অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ল্যাবের পরিচালক অধ্যাপক ড. লতিফুর খান, যুক্তরাষ্ট্রের পারডু ইউনিভার্সিটির এলমোর স্কুল অব ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক মুহাম্মদ এম. হুসেইন, যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটির নিউট্রিশনাল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক শেখ মো. শরিফুল ইসলাম এবং যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মূরস প্রফেসর ঝু হান।

ইনভাইটেড স্পিকার হিসেবে বক্তব্য রাখেন আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শামিম আখত্রা এবং যুক্তরাষ্ট্রের আর্গন ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির ম্যাথমেটিক্স অ্যান্ড কম্পিউটার সায়েন্স ডিভিশনের পোস্টডক্টরাল অ্যাপয়েন্টি ড. আহমেদুর রহমান শোভন।

উল্লেখ্য, এবারের কনফারেন্সে জমা পড়া মোট ৩৩৫টি গবেষণাপত্রের মধ্যে ৫৪টি পেপার চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছে। মেশিন লার্নিং, ডেটা সায়েন্স, ইন্টারনেট অব থিংস (IoT), ক্লাউড কম্পিউটিং, সেন্সিং এবং নিরাপত্তাসহ উদীয়মান প্রযুক্তির প্রয়োগ নিয়ে গবেষক, শিক্ষাবিদ, শিল্পখাতের পেশাজীবী ও বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতবিনিময় এবং অত্যাধুনিক গবেষণালব্ধ ফলাফল উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি করাই এ সম্মেলনের মূল লক্ষ্য।

কনফারেন্সে বাংলাদেশ ছাড়াও ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের দুই শতাধিক গবেষক অংশগ্রহণ করে তাঁদের গবেষণাপ্রবন্ধ উপস্থাপন করছেন। কনফারেন্সের সহযোগী হিসেবে রয়েছে সেন্টার ফর ন্যাচারাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ (CNSER), ক্রিয়েটিভ ইনস্টিটিউটস অব ক্যারিয়ার্স, টেকনোলজি অ্যান্ড রিসার্চ (CICTR) এবং স্প্রিংগার।



Our Like Page
Developed by: BD IT HOST