April 17, 2026, 1:59 am
শিরোনামঃ
“বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক দিঘলী বাজার শাখায় শুভ হালখাতা-১৪৩৩ অনুষ্ঠান” টাইম ম্যাগাজিনের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় তারেক রহমান আইজিপির সঙ্গে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ কর্তৃক সিরিয়াল রেপিস্ট রাশেদুল ইসলাম রাব্বি গ্রেফতার ৫ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগ করবে সরকার : সংসদে প্রধানমন্ত্রী নতুন শ্রমবাজারের সন্ধানে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে ৫০৫৯ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বিমানবন্দরে আটক বাংলা বর্ষবরণে ময়মনসিংহে বর্ণিল শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ৪৪২টি মোবাইল ফোন, নগদ আট লক্ষ ৮৪ হাজার টাকা ও মোবাইলের যন্ত্রাংশসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে ডিবি
নোটিশঃ
আপনার আশেপাশের ঘটে যাওয়া খবর এবং আপনার ব্যবসার বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য যোগাযোগ করুন মানবাধিকার খবরে।

পদোন্নতি পেয়ে আমি কি খুশি?

Reporter Name

নিজস্ব প্রতিনিধি -সত্যিটা বললে আপনারা অনেকে হয়তো মনে কষ্ট নিবেন। হৃদয় থেকে বলছি- পদোন্নতির প্রজ্ঞাপনে চোখ রেখে আমার যতটা না খুশির অনুভূতি হয়েছিল, তার চেয়ে মন খারাপ হয়েছিল বেশি। অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের তালিকায় নিজের নাম দেখার আনন্দানুভূতি মুহূর্তে বিষাদে রূপ নিয়েছিল এই ভেবে যে, আমার ব্যাচের ৫৫ জন সহকর্মী তো এখনো পদোন্নতি পাননি।

আরেকটু খোলাসা করি, ৩৪তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে আমরা ১৫০ জন প্রার্থী বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) কর্তৃক পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হই। বিভিন্ন সংস্থার ভেরিফিকেশন, স্বাস্থ্য পরীক্ষাসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্তভাবে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় ১৪৩ জনের নামে। আমরা এই ১৪৩ জন এএসপি এক সঙ্গে সারদা পুলিশ একাডেমিতে এক বছরের ট্রেনিং সম্পন্ন করাসহ নানান কারণে একই সূত্রে গাঁথা,

একই বন্ধনে বাঁধা। চাকুরীতে যোগদানের ৬ বৎসরাধিক কাল শেষে দুই ধাপে আমাদের মোট পদোন্নতি ৬৫ জনের (১ম ধাপে ৪ এবং এবার ৬১ জন)। তাহলে দেখা যাচ্ছে, আমাদের ব্যাচেই এখনো পদোন্নতি বাকী ৭৮ জনের। যেক্ষেত্রে আমরা ৬৫ জন পদোন্নতি পেয়ে এডিশনাল এসপি, অথচ একই ব্যাচের হওয়া সত্ত্বেও পদোন্নতি না পাওয়া ৭৮ জন এখনো এএসপি পদমর্যাদায়।

আমার সাধ্য থাকলে সরকার বাহাদুরের নিকট সবিনয় আরজ রাখতাম, বিসিএসের সকল ক্যাডারের পদোন্নতিগুলো (অন্তত প্রথম দুই/তিনটা পদোন্নতি) যেন অবশ্যই অবশ্যই ব্যাচভিত্তিক হয়। সম্ভব হলে পুরো ব্যাচের সকল ক্যাডারের পদোন্নতি যদি একসাথে একই দিনে করা হতো! প্রয়োজনে ছয় মাস পরে হোক, কিন্তু একই ব্যাচের কেউ পদোন্নতি পেয়ে উপরের পদে, অন্যদেরকে যেন নিম্ন পদে কাজ করার বাস্তবতার মুখোমুখি যেন না হতে হয়।

এখানে আর্থিক লাভালাভ নয়, মানসিক যাতনার প্রশ্নটিই মূখ্য বিবেচ্য। অনেকে বলতে পারেন, এক ব্যাচের সকল ক্যাডারের সকল সদস্যের একসঙ্গে পদোন্নতি! এটা কি আদৌ বাস্তবায়নযোগ্য? আমি বলব, এখন থেকেই যদি নিয়োগপ্রক্রিয়া সেই পরিকল্পনাকে বিবেচনায় রেখে করা হয়, তাহলে আজ থেকে পাঁচ বছর- দশ বছর পরে হলেও এটা বাস্তবায়ন সম্ভব, অবশ্যই সম্ভব। অন্তত প্রথম ২/৩ টা পদোন্নতির ক্ষেত্রে (দ্বিরুক্তি করছি) এই প্রক্রিয়ার অনুসরণ করতে পারলে বিষয়টি খুব সুবিচারপূর্ণ হতো।

আশার পালে হাওয়া দেওয়ার মতো একটি কথা- নিকট অতীতে সরকারের তরফে প্রায় অনুরূপ একটি সিদ্ধান্ত নেওয়াও হয়েছে। আগে একেক ক্যাডারের সদস্যগণ একেক সময়ে মৌলিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতেন। সম্ভবত ৩৭তম বিসিএস থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সানুগ্রহ সিদ্ধান্তে এখন সকল ক্যাডারের সকল সদস্য একসঙ্গে এই প্রশিক্ষণটি সম্পন্ন করছেন। আমি মনে করি সরকার বাহাদুর দয়াপরবশ হলে একসঙ্গে মৌলিক প্রশিক্ষণের মতো একসঙ্গে পদোন্নতিও অসম্ভব কিছু হবে না।

দয়া করে আমাকে বকা দিবেন না যে, আমি শুধু ক্যাডারদের সুযোগ-সুবিধার কথাই বলছি! তথাকথিত গোষ্ঠীতান্ত্রিক সুবিধাবাদের বিরুদ্ধে আমার দৃঢ় অবস্থান সবসময়ই ছিল, আছে, এবং যতদিন বেঁচে থাকি ইনশাআল্লাহ থাকবে। আমার নিজের কর্মবিভাগ পুলিশ ক্যাডার বা সামগ্রিকভাবে সকল ক্যাডারকে এই সুবিধা, সেই সুবিধা দিতে হবে, অমুককে দেওয়া হলো, আমাকে/আমাকে কেন দেওয়া হয়নি- এসব মনোভাবের আমি কঠোর বিরুদ্ধবাদী। দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি,

সবার আগে জনগণ। আমি মনে করি, প্রয়োজনে সরকারি কর্মচারীদের সুযোগ- সুবিধা সঙ্কুচিত করে হলেও সাধারণ মানুষের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যটাই এক নম্বর অগ্রাধিকারে পরিণত করা দরকার। ক্যাডার মানেই গাড়ি-বাড়ি, শানশওকতের বহর- একটি আধুনিক সমাজব্যবস্থায় এই নীচ প্রকৃতির ধ্যানধারণা থেকে বের হয়ে আসতেই হবে। কিন্তু আমার আজকের প্রসঙ্গ সুযোগ- সুবিধার না, কিছু মানুষের মনঃকষ্টের প্রতি সহকর্মী- সহমর্মিদের সংবেদনশীলতার সঙ্গে সম্পর্কিত। একই ব্যাচে, একই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যোগদান করা সত্ত্বেও পদোন্নতির হেরফের যে কি মনঃপীড়া সৃষ্টি করে, ভুক্তভোগী ছাড়া তা অনুধাবন করা নিতান্তই অসম্ভব।।

[সরকারি কর্মচারী হিসেবে কন্ডাক্ট রুলসের অদৃশ্য শেকলে আমার দু হাত বাধা। তাই বলছি, উপরের কথাগুলো আমার কোনো দাবি নয়। তবে সুযোগ থাকলে যে এই দাবিগুলো জানাতাম- আমার এমন ভাবনার প্রকাশ মাত্র]।

পরিশেষে, জীবন চলার পথে বিভিন্ন সময় যারা আমার পাশে ছিলেন- আছেন, বিনা কারণে যারা এই অধমকে পছন্দ করেন, আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ। আর যারা কারণে- অকারণে আমাকে অপছন্দ করেন, তাদের জন্যও শুভ প্রত্যাশা। আপনাদের সকলের জন্য আমার হৃদয়নিঃসৃত ভালোবাসা অবিরাম থাকবে।



Our Like Page
Developed by: BD IT HOST