নিজস্ব প্রতিবেদক:
সম্প্রতি ফাঁস হওয়া এক চাঞ্চল্যকর অডিও রেকর্ডে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে মার্কিন কূটনীতিকদের দ্বিমুখী অবস্থান প্রকাশ্যে এসেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) বিচার প্রক্রিয়াকে ‘সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নয়’ বলে স্বীকার করলেও, রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে একে ‘জিনিয়াস’ বা অসামান্য বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ঢাকায় অবস্থানরত মার্কিন কূটনীতিকরা।
কথোপকথনটি ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর মার্কিন দূতাবাসে রেকর্ড করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অডিওর মূল
পয়েন্ট গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
সুষ্ঠু বিচারের অভাব স্বীকার: মার্কিন কূটনীতিকরা ঘরোয়া আলোচনায় স্বীকার করেছেন যে, আইসিটি কোনো সাধারণ ট্রাইব্যুনাল নয় এবং সেখানে অনুষ্ঠিত বিচার প্রক্রিয়াটি ‘অবাধ ও সুষ্ঠু’ (Free and Fair) ছিল না।
‘পলিটিক্যালি জিনিয়াস’ পদক্ষেপ: বিচারিক প্রক্রিয়ায় ঘাটতি থাকলেও শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করার রায় বের করে আনাকে কূটনীতিকরা ‘পলিটিক্যালি জিনিয়াস’ বা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত চতুর পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা ছাড়ার আগেই এই রায় নিশ্চিত করতে পারাটা ছিল বিস্ময়কর এবং অত্যন্ত কার্যকর রাজনৈতিক চাল।
প্রক্রিয়া গৌণ, ফলাফল মুখ্য: অডিওতে শোনা যায়, কূটনীতিকরা বলছেন— “তিনি (হাসিনা) দোষী এবং তারা (সরকার/ট্রাইব্যুনাল) তা প্রমাণ করেছে।” বিচার প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মানের না হলেও, ট্রাইব্যুনাল তাদের ম্যান্ডেটের মধ্যে থেকেই কাজটি সম্পন্ন করেছে, যা মার্কিনীদের কাছে ‘ইম্প্রেসিভ’ বা চিত্তাকর্ষক মনে হয়েছে।
পশ্চিমা দ্বিমুখী নীতি: মানবাধিকার ও আইনের শাসনের কথা বললেও, এই অডিওতে স্পষ্ট হয়েছে যে, রাজনৈতিক সমীকরণে সুবিধাজনক হলে ত্রুটিপূর্ণ বিচারকেও সমর্থন দিতে কুণ্ঠাবোধ করে না পশ্চিমা বিশ্ব।
বিচারব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন: বিদেশি কূটনীতিকদের এমন মন্তব্যে দেশের বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, এই বিচার কি তবে শুধুই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল, নাকি এর পেছনে ন্যায়বিচারের প্রকৃত আকাঙ্ক্ষা ছিল?
এই ফাঁস হওয়া কথোপকথন এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে এবং দেশের রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
সূত্রঃ Washington Post. (01/22/2026).