বরগুনা প্রতিনিধিঃ বরগুনা জেলার আমতলি উপ জেলার বিভিন্ন স্থানে চলছে অবৈধ ইট পোড়ানোর মহা সমারোহ। দেশের সব অবৈধ ইটভাটা ইটভাটার জ্বালানি হিসেবে কাঠের ব্যবহার বন্ধের নির্দেশ মহা মান্য হাইকোর্ট দিলেও তা মানছে না ইটভাটা মালিক মোহাম্মদ হানিফ উল্লাহ। আমতলী কড়ইবাড়িয়া গ্রামে মেসার্স সুপার ব্রিকস নামের ইটভাটা গড়ে উঠেছে।
মালিক মোঃ হানিফ উল্লাহ সরকারি আইনের তোয়া ক্কা না করে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র,ইট পুরা নো লাইসেন্স,ফায়ার সার্ভিসের সার্টিফিকেট এমন কি ভ্যাট -আয়কর প্রদানের কাগজপত্র ছাড়াই ইট ভাটার মালিক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আবাদি জমি র ও জনবসতি এলাকাসহ স্কুল-কলেজের পাশে ২৪ ঘন্টা তার নিজস্ব করাত মিলে গাছ কেটে ইট পোড়া নোর কাজে চালিয়ে যাচ্ছে। এঅবৈধ ইটভাটা লাগা মহীন ভাবে চলছে প্রশাসনের নাকের ডগায় পৌরস ভা সহ- উপজেলার মধ্যেএসব ইটভাটা গুলো কিভা বে চলছে এ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এই ইটভাটা অবাধে চলছে।তবে ইটভা টা মালিক মোঃ হানিফ উল্লাহ ০১৭৮২৮৫৩৭৩ ৮ নম্বরে সংবাদ কর্মীকে মুঠোফোনে বলেন,আমি নিয়মের মধ্যে আছি কিন্তু সব ইটভাটায় কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো হচ্ছে তাই আমিও পোড়াচ্ছি এ এরকম আরো দুইটি ইটভাটা রয়েছে পটুয়াখালীতে তাও তো কাঠ দিয়ে পোড়াচ্ছি। শুধু আমার ভাটার না কোনো ইট ভাটারই পরিবেশ অধিদপ্তরসহ আনুষঙ্গিক কাগজপত্র নাই মালিক সমিতির লোকজনসহ বলছে তারা নাকি ডিসি অফিসের সাথে কথা বলেছে।
ভাটা চালানোর মৌখিক অনুমতি দেওয়ায় ইট পোড়া নোর কাজ চলছে। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্র ণ)আইন -২০১৩ অনুসারে লাইসেন্স ছাড়া কোনো ইট ভাটা স্থাপন ও পরিচালনা করা যায় না এবং জ্বালানি হিসেবে ইটভাটায় কাঠের ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকলে ও শীত মৌসুমে এ অবৈধ ইট ভাটায় কার্যক্র ম শুরু করছে। তবে এ ইটভাটায় অভিযান পরিচাল না হয়েছে বলে জানা গেছে। আমতলির এই মেসার্স সুপার ব্রিকস ইটভাটা ঘুরে দেখা যায়,একটি করাত কলে প্রতিদিন হাজার হাজার মন কাঠ কাটছে।
আবার পাহাড়ের মতো উঁচু করে মনকে মন কাঁচা কাঠ চুলোর ভেতরে দিচ্ছে। এছাড়াও প্রতিদিন হাজা র হাজার মন কাঠ এবং কাদামাটি ট্রাকে করে সড়ক পথ দিয়ে ইটভাটায় যাতায়াত করে। ধুলো আর ধোঁয়া ওমাটি ইট আনা নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত ট্রাক্ট রেরশব্দ দূষণ যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে তেমনি ধুলাবালিতে
বায়ু দূষণ ব্যাপক আকার ধারণ করছে। ফলে
শিশুসহ জনসাধারণ শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন রোগে
আক্রান্ত হচ্ছে। ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন ও
বিধিমালা অনুযায়ী,বিশেষ কোনো স্থাপনা রেলপথ, হাসপাতাল ও ক্লিনিক,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং লোকা লয় থেকে তিন কিলোমিটারের মধ্যে কোনো ইটভাটা নির্মাণ করা যাবেনা। তবে কোনো নিয়ম মানছে না ভাটার মালিক হানিফউল্লা। স্কুল মাদরাসা থেকে কিছু দূরে লোকালয়ে কিভাবে চলছে এসব তার কোনো উত্তর খোঁজে পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়,একেবারেই জনাকীর্ণ আবা সিক এলাকায় মেসার্স সুপার ব্রীকস নামে ইট ভাটা টির অবস্থানব থাকলেও এর বিরুদ্ধে কোনো কখও কোন আইনি পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। আমতলী উপ জেলার কড়ইবাড়িয়া গ্রামের মধ্যে অবস্থিত মেসার্স সুপার ব্রিকস ইটভাটা অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশ সচেতন মানুষরা। কড়ই বাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আবু জাফর (৫০) বলে ন, ভাটার মালিক জমি ভাড়া নিয়ে ইট পোড়ানোর কাজ করছে।এসব ইট ভাটার কালো ধোয়ায় গত ৫বছর ধরেবোরো এবং আমন আবাদের ফল প্রতি ৬/৫মনকমে গেছে।এই এলাকার শতশত বিঘা আমন খেত পানিতে তলিয়ে নষ্ট হচ্ছে।
ধোঁয়ার বিষক্রিয়ায় গত কয়েক বছর ধরে এই
এলাকায় সুপারি ফলন কমে গেছে।এ বিষয়ে
আমতলীর ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি নান্নু চেয়ারম্যান বলেন,কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো হচ্ছে এভাবে ইটভাটা চালানোর আইনগত ভিত্তি নেই। মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশ না মেনে কিভাবে চলছে আমি জানিনা। তবে আমি মনে করি আমার সংগঠনের কোন মালিক আইন বিরোধী কাজ করলে সে দায়ভার আমি নেব না।
এ বিষয়েপরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মোঃ আব্দুল হালিম বলেন,ভাটার মালিক হানিফ উল্লাহ তিনি ভাড়া নিয়েও তার কর্যক্রম পরিচালনা করেন। এর আগেও অবৈধভাবে কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানোর দায়ে মোবাইল কোটের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে পুনরায় প্রমাণ পেলে এই অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।বরগুনার (অতিরিক্ত) জেলা প্রশাসক শুভ্রা দাস বলেন, সঠিক তথ্য প্রমাণ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।