May 31, 2026, 10:47 pm
শিরোনামঃ
শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন ২.০ সফল করতে শাহজা লাল বিমানবন্দর দখলে রাখার ঘোষণা গেরিলা বাহিনীর. আয়মান হোসেন অপু” দেশবাসীকে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ শুভেচ্ছা ঈদের জামাত ও ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তায় ডিএমপি বহুমাত্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে: ডিএমপি কমিশনার ময়মনসিংহ জেলায় কর্মরত আউটসোর্সিং সদস্যদের মাঝে পবিত্র ঈদ উল আযহা উপলক্ষে ঈদ উপহার পুনাকের সামগ্রী বিতরণ “ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো যাত্রীদের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার কর্তৃক বিভিন্ন থানা ও মহাসড়ক পরিদর্শন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে ময়মনসিংহ মডেল থানা পুলিশ ঈদে নিরাপত্তা নিয়ে কোনো হুমকি নেই : র‌্যাব মহাপরিচালক ঈদের সার্বিক নিরাপত্তা ও মহাসড়ক তদারকিতে কঠোর অবস্থানে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী “বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু গেরিলা সংগঠনের নাম পরিবর্তন করে’ বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু গেরিলা লীগ -এর নাম করণ প্রসঙ্গ” ত্যাগ ও কুরবানির মহিমায় উদ্ভাসিত হোক প্রতিটি মুসলিম পরিবার, ঈদ-উল-আজহার শুভেচ্ছায় দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া
নোটিশঃ
আপনার আশেপাশের ঘটে যাওয়া খবর এবং আপনার ব্যবসার বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য যোগাযোগ করুন মানবাধিকার খবরে।

লালমনিরহাটে এক আঙ্গিনায় মসজিদ মন্দির দুই সম্প্রদায়ের অনন্য দৃষ্টান্ত

Reporter Name

মোঃ শফিকুল ইসলাম-নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

লালমনিরহাটের একই আঙ্গিনায় মসজিদ-মন্দির ধর্মীয় সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে কালের স্বাক্ষী হয়ে আছে।
উঠানের এক পাশে ধূপকাঠি,অন্য পাশে আতরের সুঘ্রাণ,সম্প্রীতি বজায় রেখে
ধর্ম পালন করে আসছেন হিন্দু,মুসলমান।

‎এক পাশে উলুধ্বনি, অন্য পাশে চলছে আযান ও জিকির।

‎এভাবে ধর্মীয় সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যুগ যুগ ধরে চলছে পৃথক দুইটি ধর্মীয় উপাসনালয়।

‎ধর্মীয় সম্প্রীতির এমন উজ্জ্বল নিদর্শনের দেখা মেলে লালমনিরহাট শহরে। শহরের কালীবাড়ী এলাকার পুরান বাজার জামে মসজিদ ও কালীবাড়ী কেন্দ্রীয় মন্দিরটি একই উঠানে অবস্থিত।
‎‎যে যার মতো ধর্ম পালন করে চলেছে, এখন চলছে শারদীয় দুর্গোৎসব।

‎স্থানীয়রা জানায়, ১৮৩৬ সালে কালি মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ওই সময় লালমনিরহাট শহরে কালীবাড়ী এলাকার পুরান বাজারে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ধর্মপ্রাণ মুসলমান ব্যবসায়ীরা নামাজ আদায় করার জন্য মন্দিরের পাশেই একটি ছোট ঘর তৈরি করেন। আর সেটির নামকরণও করা হয় পুরান বাজার জামে মসজিদ হিসেবে। ওই সময় থেকে এক উঠানে চলছে দুই ধর্মের দুই উপাসনালয়ের কাজ। পূজা শুরুর আগে মসজিদ ও মন্দির কমিটি বসে সিদ্ধান্ত নেন। এ পর্যন্ত সেখানে অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটেনি। মন্দির ও মসজিদ দেখতে প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসে কয়েক হাজার মানুষ। বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূতও এ বিরল দৃষ্টান্ত দেখতে পরিদর্শন করেন একই উঠানের মন্দির ও মসজিদ। সৌন্দর্য ফুটে উঠে শারদীয় দুর্গোৎসবে।

‎এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, আজানের সময় থেকে নামাজের জামাত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মন্দিরের ঢাকঢোলসহ যাবতীয় শব্দ যন্ত্র বন্ধ থাকে। নামাজ শেষ হলে মন্দিরের কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়। এখানে কোনো বিশৃঙ্খলাও হয় না। শালীনতা বজায় রেখে একই উঠানে দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন উভয় ধর্মের মানুষ। নামাজ শেষ করে উঠানে পা রাখতেই চোখে পড়বে মন্দিরের দেবী দুর্গার প্রতিমা। একইভাবে পূজারীরাও পূজা করতে এসে মুসলমানদের নামাজের দৃশ্য অবলোকন করতে পারছেন।
‎‎

পূজারি এস দিলীপ রায় বলেন, লালমনিরহাটে ধর্মীয় সম্প্রীতির এটি একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই যুগ যুগ ধরে এ সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন তারা। সত্যি এটি আমাদের জন্য অনেক বড় গর্বের বিষয়।

‎এদিকে সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা শুরু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এ পূজায় সাজ সাজ রবে সাজানো হয়েছে মন্দির এলাকা। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা উৎসবের সঙ্গে পূজা করছেন। নামাজের সময়েও নামাজ চলছে। ধর্মীয় সম্প্রীতির এমন উদাহরণ দেখতে অনেকেই ছুটে আসছেন এখানে।

‎পুরান বাজার জামে মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন,ঐতিহ্যবাহী পুরান বাজার একসঙ্গে দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। মসজিদের আগে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছেতবুও এখানে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সবশ্রেণির মানুষ স্বাধীনভাবে ঘুরতে আসে। আমরা তাদের সব কাজে সহযোগিতা করি। তারাও আমাদের সহযোগিতা করেন। নামাজের সময় মন্দিরের ঢাক-ঢোল বন্ধ রাখা হয়। কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই যুগ যুগ ধরে চলছে এ সম্প্রীতির বন্ধন।

‎কেন্দ্রীয় কালীবাড়ী মন্দিরের সভাপতি ও প্রধান পুরোহিত শংকর চক্রবর্তী জানান, ১৮৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এলাকার নামকরণও করা হয় কালীবাড়ী। পরে এখানে বাজার গড়ে উঠলে বাজারের ব্যবসায়ী ও শহরের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মন্দিরের পাশেই প্রতিষ্ঠা করেন পুরান বাজার জামে মসজিদ। সেই থেকে এক উঠানে চলছে দুই ধর্মের দুই উপাসনালয়ের কার্যক্রম। সামান্য বিশৃঙ্খলাও হয় না এখানে। জন্মের পর থেকে এভাবে চলতে দেখছেন। তিনি বলেন দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে মুসলমান ও হিন্দু সম্প্রদায়ের পারস্পরিক সম্পর্কের অনন্য দৃষ্টান্ত এক উঠানে গড়ে উঠা মসজিদ ও মন্দির।

‎এবিষয়ে লালমনিরহাট পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম বলেন, এখানে মসজিদ ও মন্দির পাশাপাশি রয়েছে। এটি প্রায় ২০০ বছর ধরে চলে আসছে বলে জেনেছি। মুসলমান ধর্মাবলম্বীরা ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পাশাপাশি তাদের ধর্ম পালন করছে। কখনও কোনো সমস্যা হয়নি। আমি মনে করি, এটা সারা বাংলাদেশেই অনুপ্রাণিত হওয়ার মত বিষয়।



Our Like Page
Developed by: BD IT HOST