আবদুল মামুন, সীতাকুণ্ড প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ ধামে আজ শুক্রবার ১৭ ফেব্রুয়ারী থেকে শুরু হচ্ছে শিবচতুর্দ্দশী মেলা। মেলা কমিটি ও প্রশাসন ইতিমধ্যে মেলার সব ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের তীর্থক্ষেত্র সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ ধামে প্রতিবছর ফাল্গুণ মাসের শিব চতুর্দ্দশী তিথিতে (শিবরাত্রী) তীর্থযাত্রীদের তিনদিনের এ মেলা বসে। মেলায় সমাগম হয় প্রায় ২০ লাখ লোকের
মেলা কমিটি সূত্রে জানা যায়, তীর্থযাত্রীদের মূল লক্ষ্য থাকে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় এক হাজার ২০০ফুট উপরে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের চূড়ায় থাকা চন্দ্রনাথধাম পরিক্রমা করা। প্রতিবছর শিবচতুর্দ্দশীতে এ মন্দির পরিক্রমায় আঁকাবাঁকা পাহাড়ী পথ পাড়ি দিয়ে চন্দ্রনাথ ধামে উঠেন পূর্ণ্যার্থীরা। মেলায় চতুর্দ্দশী তিথিতে ব্যাসকুণ্ডে স্নান-তর্পন, গয়াকুণ্ডে পিণ্ডদান করে তীর্থ যাত্রীরা। তাছাড়া সীতাকুণ্ডে থাকা প্রায় ৫০টি মঠ-মন্দির পরিক্রমা করবেন।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় এ মেলাকে ঘিরে বসে তৈজসপত্র, পাঠ্যপুস্তুক, খাবারের দোকান, খেলনা, আসবাবপত্রসহ নানা পণ্যের দোকান। আর মেলায় আগত পূর্ণ্যার্থীরা ধর্মীয় আচার শেষ করে বাড়ী ফেরার আগে কেনাকাটা করে থাকেন
এদিকে শিবচতুর্দ্দশী স্নান ও তীর্থস্থান ভ্রমন উপলক্ষে ১৫ ফেব্রুয়ারী দিবাগত রাত বুধবার হইতে ২১ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত তীর্থ যাত্রীদের সীতাকুণ্ড ভ্রমনের সুবিধার্থে বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ট্রেনের স্টোপিজ দেওয়া হয়েছে।
এই ব্যাপারে সীতাকুণ্ড রেলস্টেশন মাস্টার সৈকত দেবনাথ বলেন, গত মঙ্গলবার থেকে সীতাকুণ্ডে থামছে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা মহানগর এক্সপ্রেস, চট্টগ্রাম মেইল, কর্ণফুলী কমিউটার, ময়মনসিংহ থেকে বিজয় এক্সপ্রেস, ময়মনসিংহ এক্সপ্রেস, সিলেট থেকে ছেড়ে আসা উদয়ন ও পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ও চাঁদপুর থেকে ছেড়ে আসা মেঘনা ও সাগরিকা এক্সপ্রেস। এছাড়া সীতাকুণ্ড থেকে ছেড়ে যাচ্ছে সাগরিকা কমিউটার, কর্ণফুলী কমিউটার, ময়মনসিংহ এক্সপ্রেস ও ঢাকা মেইল।
অপরদিকে তীর্থযাত্রীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি সম্পর্কে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নুর উদ্দীন রাশেদ বলেন, এবার তিনদিনের মেডিকেল ক্যাম্প প্রতিবারের মতো থাকবে। এবার অন্যান্য ওষুধের পাশাপাশি নতুনভাবে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করা হবে। শিবচতুর্দ্দশী মেলার আইন শৃঙ্খলা প্রস্তুতি নিয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ তোফায়েল আহমেদ বলেন, প্রতিবছরের ন্যায় এবারও মেলায় তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকছে। ইতিমধ্যে তাদের নিরাপত্তা জনিত সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। মেলা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শাহাদাত হোসেন বলেন, মেলার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তবে মন্দির সড়ক উন্নয়ন কাজ চলছে। পুরোপুরি শেষ হয়নি। ফলে এবার তীর্থযাত্রীদের নিজেরা বাড়তি কিছু সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে। তারা সংশ্লিষ্ট সবগুলো সেবা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে চলেছেন বলে জানান তিনি।