নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান দেখে যে কেউই বুঝতে পারবেন দেশের ব্যাংকিং খাতে কী ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ৫০ কোটি টাকার বেশি আমানতধারীর হিসাব এক বছরে ৭২টি থেকে কমে মাত্র ২৬টিতে নেমে এসেছে। ২৫ থেকে ৫০ কোটি টাকার হিসাব ১৫১টি থেকে সংকুচিত হয়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮টিতে। এই যে বিপুল সংখ্যক বড় অঙ্কের হিসাব বন্ধ হয়ে যাওয়া বা টাকা তুলে নেওয়ার ঘটনা, এটা কোনো স্বাভাবিক অর্থনৈতিক প্রবণতা নয়। এর পেছনে রয়েছে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত সেই কলঙ্কিত অধ্যায়, যখন রাস্তায় দাঙ্গা বাঁধিয়ে, সহিংসতা ছড়িয়ে, জনগণের নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে মুহাম্মদ ইউনুস ও তার দোসরদের হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়া হয়েছিল।
দেশের সাধারণ মানুষ এখন প্রশ্ন করছে, কোন বিবেকে তারা ব্যাংকে টাকা রাখবে? যে দেশে একটি নির্বাচিত সরকারকে বিদেশি অর্থায়নে, কতিপয় উগ্র জঙ্গি সংগঠনের মদদে এবং সামরিক বাহিনীর কিছু অংশের সহযোগিতায় জোর করে সরিয়ে দেওয়া হয়, সেখানে কি আর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তা বাকি থাকে? ইউনুসের নেতৃত্বাধীন এই অবৈধ কাঠামো দেশকে এমন এক অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে যেখানে মানুষ নিজের সঞ্চিত অর্থের নিরাপত্তা নিয়েই শঙ্কিত।
যারা বছরের পর বছর ধরে সততার সঙ্গে ব্যবসা করে, কষ্ট করে টাকা জমিয়ে বড় অঙ্কের আমানত গড়ে তুলেছিলেন, তারাই এখন ব্যাংক থেকে পালাচ্ছেন। কারণ তারা জানেন, এই যে অস্থিরতা, এই যে প্রাতিষ্ঠানিক বিশৃঙ্খলা, এর শেষ কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা কেউ বলতে পারছে না। ৫০ কোটি টাকার বেশি আমানত এক বছরে ৬ হাজার ৮০০ কোটি টাকা থেকে কমে ২ হাজার ৪০০ কোটিতে দাঁড়িয়েছে। ২৫ থেকে ৫০ কোটি টাকার আমানত ৫ হাজার ৩০০ কোটি থেকে নেমে ২ হাজার ৬০০ কোটিতে এসেছে। এই বিশাল অঙ্কের টাকা কোথায় গেল? কেন মানুষ ব্যাংক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে? উত্তর পরিষ্কার। কারণ মানুষের আস্থা ভেঙে গেছে।
আর অন্যদিকে দেখুন, হঠাৎ করেই কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা লাফিয়ে বেড়েছে। ব্যক্তি কোটিপতি বেড়েছে আড়াই হাজার, প্রাতিষ্ঠানিক কোটিপতি বেড়েছে প্রায় ৬ হাজার। মোট কোটিপতি আমানতকারী এখন ১ লাখ ২৭ হাজার ৩৩৬। এই নতুন কোটিপতিরা কারা? কোথা থেকে এলো তাদের এত টাকা? এটা কি দুর্ঘটনাবশত ঘটেছে, নাকি এই অবৈধ ক্ষমতা দখলের পরে যারা লুটপাট আর দুর্নীতিতে অংশ নিয়েছে, তারাই নিজেদের নাম নতুন ধনীর তালিকায় লিখিয়ে নিচ্ছে?
সুদখোর মহাজন ইউনুস এবং তার অবৈধ কাঠামো দেশের অর্থনীতিকে পুরোপুরি ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে। যে মাইক্রোক্রেডিট ব্যবসা দিয়ে গরিব মানুষের গলায় সুদের দড়ি পরিয়ে কোটি কোটি টাকা কামিয়েছে সেই ইউনুস, এখন পুরো দেশকেই তার ব্যবসার পণ্য বানিয়ে ফেলেছে। একটি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতায় বসার পর থেকে দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান, প্রতিটি খাত দুর্বল হয়ে পড়েছে। ব্যাংকিং খাত তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ আঘাত পেয়েছে।
যারা মনে করেন যে ছোট ও মাঝারি আমানতকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি একটি ইতিবাচক লক্ষণ, তাদের বুঝতে হবে এটা আসলে কোনো সুসংবাদ নয়। শূন্য থেকে ২ লাখ টাকার হিসাব বেড়ে ১৪ কোটি ৭৬ লাখে দাঁড়িয়েছে ঠিকই, কিন্তু এই বৃদ্ধি হয়েছে মূলত দরিদ্র মানুষের হাড়ভাঙা পরিশ্রমের টাকা থেকে। এই মানুষগুলোই আসলে সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে আছে। বড় আমানতকারীরা তাদের টাকা সরিয়ে নিতে পারছে, বিদেশে পাঠাতে পারছে, নিরাপদ জায়গায় রাখতে পারছে। কিন্তু এই ছোট্ট হিসাবধারীরা? তারা যদি সব হারায়, তাহলে তাদের কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।
ব্যাংকিং খাতের এই ভাঙন শুধু সংখ্যার খেলা নয়, এটা দেশের ভিত্তি নড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত। যখন বড় অঙ্কের তারল্য ব্যাংক থেকে বেরিয়ে যায়, তখন ব্যাংকগুলো নতুন ঋণ দিতে পারে না, ব্যবসা-বাণিজ্য থমকে যায়, কর্মসংস্থান কমে যায়। আর এই সংকট তৈরি হয়েছে কারণ একটি অবৈধ শক্তি জোর করে ক্ষমতায় বসে পুরো দেশকে জিম্মি করে রেখেছে।
বিদেশি মদদ, জঙ্গি সংগঠনের সহযোগিতা আর সামরিক বাহিনীর একাংশের সমর্থন নিয়ে যে ক্যু করা হয়েছিল, তার ফলাফল এখন সাধারণ মানুষ ভোগ করছে। যারা রাস্তায় নেমে দাঙ্গা করেছিল, যারা সহিংসতা ছড়িয়েছিল, তারা হয়তো এখন নতুন সুবিধাভোগী শ্রেণিতে নাম লিখিয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের ভাগ্যে জুটেছে শুধুই অনিশ্চয়তা আর ভবিষ্যতহীনতা।
ইউনুস এবং তার চক্র যতদিন ক্ষমতায় থাকবে, ততদিন এই অর্থনৈতিক ধসের গতি কমবে না। তারা গ্রামীণ ব্যাংকের মডেল দিয়ে যেমন গরিব মানুষকে শোষণ করেছে, এখন পুরো দেশকে সেই মডেলে ফেলে দিতে চাইছে। সুদের ফাঁদে আটকা পড়ছে পুরো জাতি। আর এই সংকটের শেষ কোথায়, তা কেউ জানে না। শুধু এটুকু নিশ্চিত যে, যতদিন এই অবৈধ ক্ষমতা টিকে থাকবে, ততদিন দেশের অর্থনীতি আরও গভীর খাদে তলিয়ে যাবে। মানুষের সঞ্চয় নিরাপত্তা হারাবে, আস্থা ভাঙবে, আর দেশ এগিয়ে যাওয়ার বদলে পিছিয়ে পড়বে দশকের পর দশক।
#Bangladesh #BangladeshCrisis #YunusMustGo