দোহা বৈঠক: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের চাপ—ইনক্লুসিভ নির্বাচনের দাবিতে সরব কাতার, ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্র
দোহা, কাতার থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন করে জোরদার আলোচনা শুরু হয়েছে। কাতারের রাজধানী দোহায় উচ্চপর্যায়ের এক আন্তর্জাতিক বৈঠকে বাংলাদেশে একটি ইনক্লুসিভ (Inclusive) এবং গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বৈঠকের মূল এজেন্ডা: স্থিতিশীলতা ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন
এই গুরুত্বপূর্ণ সংলাপে দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান রাজনৈতিক সংকট, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থা, এবং বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্ভাব্য ভূমিকা ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। বৈঠকে অংশ নেওয়া আন্তর্জাতিক অংশীদাররা একটি প্রতিযোগিতামূলক ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর বিষয়ে একমত হন।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সংলাপে প্রতিনিধিত্ব করেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) খলিলুর রহমান। তিনি দেশের চলমান রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত ব্রিফিং দেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন:কাতার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ উপদেষ্টা দল ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের রাজনৈতিক বিভাগ প্রতিনিধি।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স সেল।ইউএই ও সৌদি আরবের মধ্যস্থতাকারী প্রতিনিধিরা।জাতিসংঘের রাজনৈতিক ও শান্তিরক্ষা দপ্তরের পর্যবেক্ষণ দল।
আন্তর্জাতিক অংশীদারদের পক্ষ থেকে বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপিত হয়।রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা: সকল দলের জন্য রাজনীতি করার সুযোগ নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দ্রুত প্রত্যাহার করার দাবি।
নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন প্রশাসন: নির্বাচনকালীন প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ওকার্যকর করার জন্য রোডম্যাপ তৈরির প্রস্তাব।
আলোচনার মাধ্যমে সমাধান: সব দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে আলোচনা ও মধ্যস্থতার মাধ্যমে রূপরেখা নির্ধারণের ওপর জোর।নর্থইস্ট নিউজের দাবি অনুযায়ী,কাতারের প্রাক্তন গোয়েন্দা প্রধান খুলাইফি আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নির্বাচনী অংশগ্রহণ নিয়ে একটি পৃথক মধ্যস্থতা বৈঠক করেছেন। যদিও এই দাবি এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি, তবে সামগ্রিকভাবে কাতারের কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এই দোহা বৈঠকটি আগস্ট ২০২৪-এর পর প্রথম বড় আন্তর্জাতিক মঞ্চ যেখানে বাংলাদেশ ইস্যু এত গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হলো। আন্তর্জাতিক মহল চাইছে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন বন্ধ করে শান্তিপূর্ণ ও বৈধতা-সম্মত নির্বাচন দ্রুত অনুষ্ঠিত হোক।