September 28, 2026, 6:43 pm
শিরোনামঃ
আওয়ামী লীগের সাবেক এমপির উত্তরার বাসা থেকে ছাত্রলীগের ১৫ নেতা গ্রেফতার নরসিংদীর শিবপুরে ছায়াবিথী বিদ্যা নিকেতনে ক্রীড়া সামগ্ৰী ও ফলজ চারা বিতরন করলেন ইউএনও মাতৃ জগত ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সম্মাননা স্মারক পেলেন সাংবাদিকেরা চকরিয়ায় অপহরণের ৪ ঘণ্টা পর ছাত্রদল নেতা জিসানের মরদেহ উদ্ধার সাইবার সুরক্ষা আইনকে কোনোভাবেই নিপীড়নমূলক হতে দেয়া হবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গৌরীপুরে সাংবাদিক এইচ টি তোফাজ্জালের বিরুদ্ধে সাজানো মামলা প্রত্যাহারে দাবিতে মানববন্ধন ময়মনসিংহে ছিনতাইকারী প্রান্ত’র সহযোগী শাকিল কে গ্রেফতার করেছে ১নং ফাঁড়ি পুলিশ ময়মনসিংহে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস-২০২৬ উদযাপিত লক্ষ্মীপুরে ঘুষ বাণিজ্যের ভাইরাল ভিডিওটি দুই বছর আগের, দাবি পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলীর সাংবাদিকদের সুরক্ষায় নতুন আইনি কাঠামোর দাবি
নোটিশঃ
আপনার আশেপাশের ঘটে যাওয়া খবর এবং আপনার ব্যবসার বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য যোগাযোগ করুন মানবাধিকার খবরে।

লামায় প্রবাসী চিকিৎসকের জমি দখলের চেষ্টা ও চাঁদা দাবির অভিযোগ

Reporter Name

 

৩০ বছর ধরে বসবাসকারী পরিবারকে হুমকি-ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ, প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা
বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান চট্টগ্রাম :
বান্দরবানের লামা উপজেলার ৩ নম্বর ফাঁসিয়াখালী মৌজার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কুরবক পাতা এলাকায় কানাডাপ্রবাসী চিকিৎসক পরিবারের খতিয়ানভুক্ত জমি নিয়ে চাঁদা দাবি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে।

দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বসবাসকারী পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন। একই সঙ্গে ভূমি রেকর্ড যাচাই, সরেজমিন তদন্ত এবং অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডা. হাবিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্য দীর্ঘদিন ধরে কানাডাপ্রবাসী। তাঁর ভাই খলিলুর রহমানের মেয়ে ও মেয়ের স্বামী এনামুল হক প্রায় ৩০ বছর ধরে কুরবক পাতা এলাকায় বসবাস করে আসছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

পরিবারটির অভিযোগ, চলতি ২০২৬ সালে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ৩১৪ নম্বর খতিয়ানের জমি ‘ঠিক রাখতে’ এনামুল হকের কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রাতের আঁধারে মারধর, বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে দেওয়া এবং অস্ত্র ও ইয়াবা দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
পরিবারের দাবি, প্রবাসে থাকার সুযোগ নিয়ে তাঁদের খতিয়ানভুক্ত জমি নিয়ে একটি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করে আসছে। এর পাশাপাশি জমির একটি অংশ দখলে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।

কবরস্থানের জন্য ১০ শতক জমি ছেড়ে দেওয়ার দাবি
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২৮৬ নম্বর ফাঁসিয়াখালী মৌজার ৩১৪ নম্বর হোল্ডিং ও খতিয়ানের ১০৩১৩ নম্বর দাগে প্রায় ২০ শতক জমি বর্তমানে কুরবক পাতা কবরস্থানের দখলে রয়েছে। পরিবারের দাবি, ডা. হাবিবুর রহমানের ইচ্ছা অনুযায়ী খতিয়ানভুক্ত জমি থেকে মৌখিকভাবে ১০ শতক কবরস্থানের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ওই ১০ শতক জমির ওপর তাঁদের কোনো দাবি নেই বলেও জানান তাঁরা।

কানাডাপ্রবাসী চিকিৎসক ডা. ইব্রাহিম বলেন, “জায়গাটি আমার বাবার খতিয়ানভুক্ত। আমাদের কারও জায়গার প্রয়োজন নেই। আমার বাবার ইচ্ছা অনুযায়ী খতিয়ানভুক্ত জমি থেকে ১০ শতক কুরবক পাতা কবরস্থানের জন্য দিয়ে দিয়েছি। ওই ১০ শতক জমির ওপর আমার কোনো দাবি নেই।”

তিনি বলেন, কবরস্থানের জন্য ছেড়ে দেওয়া জমির বাইরে পরিবারের অবশিষ্ট জমি নিয়েই মূল সমস্যা তৈরি হয়েছে। প্রবাসে থাকার কারণে জমিজমা দেখভালের জন্য মো. আবু মোছাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
টাকা নেওয়ারও অভিযোগ, ভিডিও থাকার দাবি
ডা. ইব্রাহিমের অভিযোগ, জমি দেখভালের দায়িত্বে থাকা মো. আবু মোছার কাছ থেকেও অভিযুক্তদের কয়েকজন বিভিন্ন অজুহাতে ৫০ হাজার টাকা নিয়েছেন। এ সংক্রান্ত ভিডিও রেকর্ড তাঁদের কাছে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তাঁর দাবি, ভিডিও রেকর্ডসহ অন্যান্য নথিপত্র যাচাই করে বিষয়টি তদন্ত করা হলে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।
অভিযোগে যাঁদের নাম এসেছে তাঁরা হলেন—বেলাল মিয়া, পিতা সুলতান আহাম্মাদ; মীরহামিদ, পিতা খলিল আহাম্মাদ; আবুল কাসেম, পিতা আব্দু সওার; নূরুল ইসলাম, পিতা এজাহার মিয়া; আমির সুলতা, পিতা কালা মিয়া; নূরুল আমিন, পিতা এজাহের মিয়া এবং মকবুল হোসেন।

প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা”ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি,তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে থাকায় স্থানীয় পর্যায়ে জমি সংক্রান্ত পরিস্থিতি মোকাবিলা করা তাঁদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের রেকর্ডপত্র যাচাই, খতিয়ান ও দাগের তথ্য পরীক্ষা, সরেজমিন তদন্ত এবং জমির বর্তমান দখল পরিস্থিতি যাচাই করে প্রকৃত বিষয়টি নির্ধারণে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
একই সঙ্গে চাঁদা দাবি, হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগের সত্যতা না থাকলে সেটিও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা হোক। এ জন্য লামা উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।



Our Like Page
Developed by: BD IT HOST