November 6, 2026, 4:31 am
শিরোনামঃ
সরকারি আবাসিক ভবন থেকে ময়লা ফেললে কঠোর ব্যবস্থা: অর্থ মন্ত্রণালয় এসআরবির মহাপরিচালক হলেন ফারুক আহমেদ প্রধানমন্ত্রী ২ দিনব্যাপী সোলার এক্সপোর উদ্বোধন করেছেন টেকনাফের বাহারছড়ায় নির্বিচারে ঝিনুক উত্তোলন ও পাহাড় কাটা: হুমকির মুখে উপকূলীয় ঝাউবাগান, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন কাভার্ড ভ্যান থেকে ১৫ লাখ টাকার মালামাল চুরির ঘটনায় আন্তঃজেলা চোর চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার তেজগাঁওয়ে ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে দুই ছিনতাইকারী গ্রেফতার টঙ্গী বিসিক এলাকায় মোড়ে মোড়ে বিএনপির অবস্থান, সতর্ক প্রহরায় শৃঙ্খলা বাহিনী সান্তাহার থেকে গাবতলীর তিন এলএসডিতে গেল শুধু কাগজ, অর্ধকোটি টাকার সরকারি চাল ব্যবসায়ীর গুদামে! নেত্রকোনায় সাংবাদিক আলিফ হত্যার বিচারের দাবিতে দুই শতাধিক সাংবাদিকের মানববন্ধন
নোটিশঃ
আপনার আশেপাশের ঘটে যাওয়া খবর এবং আপনার ব্যবসার বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য যোগাযোগ করুন মানবাধিকার খবরে।

ইউনূস এক খুনি ফ্যাসিস্ট’: নির্বাসনে প্রথম জনসমাবেশে শেখ হাসিনার তীব্র ভাষণ

Reporter Name

নয়াদিল্লি ভারত:

বাংলাদেশ ছাড়ার পর ভারতে অনুষ্ঠিত কোনো জনসমাবেশে প্রথমবারের মতো বক্তব্য রেখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইউনূস একটি “অবৈধ ও সহিংস” শাসনব্যবস্থা পরিচালনা করছেন, যার ফলে বাংলাদেশ ভয়, আইনহীনতা ও গণতন্ত্রের নির্বাসনের যুগে প্রবেশ করেছে।

দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে আয়োজিত এক সমাবেশে অডিও বার্তার মাধ্যমে দেওয়া ভাষণে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সংকটকে দেশের সার্বভৌমত্ব ও সংবিধানের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি তাঁর সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানান, “বিদেশি স্বার্থে পরিচালিত পুতুল সরকারকে” উৎখাত করতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য।

‘সেভ ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামের এই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের একাধিক সাবেক মন্ত্রী এবং প্রবাসী বাংলাদেশি নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনা সরাসরি উপস্থিত না থাকলেও, তাঁর ভাষণ ছিল কঠোর, আবেগপ্রবণ ও আক্রমণাত্মক। তিনি বারবার মুহাম্মদ ইউনূসকে “খুনি ফ্যাসিস্ট”, “সুদখোর”, “অর্থপাচারকারী” এবং “ক্ষমতালোভী বিশ্বাসঘাতক” বলে আখ্যা দেন।
“আজ বাংলাদেশ এক ভয়াবহ খাদে দাঁড়িয়ে আছে,”—ভাষণের শুরুতেই তিনি তাঁর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা স্মরণ করে বলেন।
তিনি দাবি করেন, দেশটি এখন “এক বিশাল কারাগার, এক মৃত্যুকূপে” পরিণত হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, চরমপন্থী গোষ্ঠী ও বিদেশি স্বার্থান্বেষীরা মিলিতভাবে দেশটিকে ধ্বংস করছে। শেখ হাসিনা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাটি ছিল একটি “সুনিপুণভাবে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র”।

“সেই দিন থেকে দেশ সন্ত্রাসের যুগে প্রবেশ করেছে। গণতন্ত্র এখন নির্বাসনে,”—বলেন তিনি। মানবাধিকার পদদলিত, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বিলুপ্ত এবং নারী ও সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা অবাধে চলেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

“মানুষের জীবন ও সম্পত্তির কোনো নিরাপত্তা নেই। আইনশৃঙ্খলা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে,”—বলেন শেখ হাসিনা। তাঁর ভাষ্যে, রাজধানী থেকে গ্রাম—সবখানেই লুটপাট, চাঁদাবাজি ও গণহিংসা চলছে।

সবচেয়ে কঠোর আক্রমণ ছিল মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে। শেখ হাসিনার অভিযোগ, তিনি দেশকে অর্থনৈতিকভাবে নিঃস্ব করে দিচ্ছেন এবং বিদেশি শক্তির কাছে বাংলাদেশের ভূমি ও সম্পদ বিকিয়ে দিয়ে দেশকে বহুজাতিক সংঘাতের আগুনে ঠেলে দিচ্ছেন।
“জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে এই খুনি ফ্যাসিস্ট ইউনূস আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে,”—বলেন তিনি।

এই ভাষণ ছিল একই সঙ্গে অভিযোগপত্র ও রাজনৈতিক ডাক। তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব “গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক শক্তিকে” ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান, যাতে শহীদদের রক্তে লেখা সংবিধান পুনরুদ্ধার করা যায়। ভাষণের শেষ দিকে ‘জয় বাংলা’ ও ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে মুখরিত হয় সভাস্থল।
শেখ হাসিনা দাবি করেন, আওয়ামী লীগই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ও বহুত্ববাদী চেতনার একমাত্র বৈধ ধারক। দলটিকে তিনি “স্বাধীন বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরোনো ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি” হিসেবে বর্ণনা করেন।
ভাষণের একপর্যায়ে তিনি দেশের সংকট উত্তরণে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন—

১. “অবৈধ ইউনূস প্রশাসন” অপসারণ করে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি
২. প্রতিদিনের সহিংসতা ও আইনহীনতার অবসান
৩. সংখ্যালঘু, নারী ও দুর্বল জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা
৪. রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলা ও বিচারিক হয়রানি বন্ধ
৫. জাতিসংঘের মাধ্যমে সাম্প্রতিক ঘটনাবলির ওপর নতুন ও নিরপেক্ষ তদন্ত

“আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আপনাদের সঙ্গে আছে,”—সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন শেখ হাসিনা।

এই ভাষণ আবারও প্রমাণ করে, বাংলাদেশের রাজনীতি কতটা তীব্রভাবে বিভক্ত। শেখ হাসিনা বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি সাধারণ ক্ষমতা পরিবর্তন নয়, বরং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বনাম বিদেশি প্রভাবিত বিশৃঙ্খলার লড়াই হিসেবে তুলে ধরেন।

দিল্লিতে এই বক্তব্যের প্রতীকী গুরুত্বও কম নয়—ভারতে অবস্থানকালীন এটি ছিল তাঁর প্রথম প্রকাশ্য রাজনৈতিক বার্তা, যা স্পষ্ট করে দেয়, নির্বাসন থেকেও তিনি বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপথ প্রভাবিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।



Our Like Page
Developed by: BD IT HOST