আমানুল্লাহ আসিফ,নালিতাবাড়ী(শেরপুর) সংবাদদাতাঃইসলাম ধর্মে অনেক আমল রয়েছে,যার মধ্যে অন্যতম হলো কুরবানি।কুরবানি করা ওয়াজিব।কুরবানী শব্দটি কুরবুন মুল ধাতু শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ হলো নৈকট্য লাভ করা,সান্নিধ্য অর্জন করা,প্রিয় বস্তুকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য উৎসর্গ করা।শরিয়তের পরিভাষায় নির্দিষ্ট জন্তুকে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সময়ে নির্ধারিত নিয়মে আল্লাহর নামে জবেহ করাকে কুরবানি বলে।
কুরবানির গুরুত্ব,তাৎপর্য ও ফজিলত অনেক।কুরবানি হলো ইসলামের একটি শি’য়ার বা মহান নিদর্শন।আল্লাহ তায়ালা বলেন তোমার প্রতিপালকের উদ্দশ্যে সালাত আদায় কর এবং পশু কুরবানি কর(সুরা কাউসার আয়াত২)।
ইসলামে কুরবানি দেওয়ার ব্যপারে অনেক তাগিদ দেওয়া হয়েছে।আবু হুরাইরা(রা) থেকে বর্নিত রাসুল(সা) বলেছেন যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্তেও কুরবানি করে না,সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে(ইবনে মাজাহ৩১২৩)।
কুরবানির মুল বিষয় হলো মুমিনের তাকওয়া।আল্লাহ তায়ালা বলেন আল্লাহর কাছে পৌছায় না উহার(জন্তুর গোশত এবং রক্ত) বরং পৌছায় তোমাদের তাকওয়া।
পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম কুরবানি হলো হযরত আদম(আ) এর দুই পুত্রের কুরবানি।
তবে আমরা হযরত ইবরাহিম(আ) এর প্রিয় পুত্র ইসমাইল(আ) এর স্মরণে কুরবানি করে থাকি।যায়েদ ইবনে আরকাম(রা) থেকে বর্নিত কতিপয় সাহাবি প্রশ্ন করলেন হে আল্লাহর রাসুল(সা) কুরবানি কী? রাসুল(সা) বললেন তোমাদের পিতা ইবরাহিম(আ) এর সুন্নত,সাহাবারা বললেন এতে আমাদের জন্য কী প্রতিদান রয়েছে?রাসুল(সা) বললেন প্রতিটি পশমের বিনিময়ে একটি করে নেকী রয়েছে(ইবনে মাজাহ৩১২৭)।
কুরবানির নেসাব আর যাকাতের নেসাব একই।কুরআন হাদীস অনুযায়ী মুমিন বান্দা জিলহজ্ব মাসের ১০,১১,১২ তারিখে কুরবানি করতে পারবে,তবে ঈদূল আজহার নামাজ পড়ে কুরবানী করা উত্তম।শরিয়তের দূষ্টিতে ৬ধরনের পশু কুরবানী করা যাবে,তবে পশু ত্রুটিমুক্ত হতে হবে।পশুগুলো হলো ৫বছর বয়সী উট,২বছর বয়সী গরু,মহিষ,১বছর বয়সী ছাগল,ভেড়া,দুম্বা।
কুরবানীর গোশত শরিয়তমতে ৩ভাগ করতে হবে একভাগ নিজের ও বাকী দুইভাগ
গরীব,আত্মীয়স্বজন,বন্ধুবান্ধব,প্রতিবেশীদের দিতে হবে।আল্লাহ তায়ালা বলেন অতঃপর তোমরা তা আহার কর এবং দুস্থ অভাবগ্রস্তকে আহার করাও(সুরা হজ্জ্ আয়াত২৮)।কুরবানীর পশুর চামড়া বিক্রির টাকা ফকির-মিসকীনদের হক,এটা তাদের দিয়ে দিতে হবে।এগুলো ছাড়াও কুরবানির আরো অনেক গুরুত্ব ও তাৎপর্য এবং ফজিলত রয়েছে।