বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ
Reporter Name
Update Time :
Friday, July 31, 2026
/
25 Time View
/
Share
প্রথম বাংলা : বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সহকারী সমন্বয় কর্মকর্তা (বিভাগীয় মামলা সেল) আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন, দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে বহাল থেকে প্রভাব বিস্তার এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিআইডব্লিউটিএ ভবনের ষষ্ঠ তলায় বিভাগীয় মামলা সেলে কর্মরত আহসান হাবিব প্রায় ১৫ বছর ধরে একই পদ ও একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন। এই সময়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বেনামি অভিযোগপত্র ব্যবহার বা তৈরি করে বিভাগীয় মামলা দেওয়া, পরে বদলি কিংবা সাময়িক বরখাস্তের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
একাধিক সূত্রের দাবি, চাকরি প্রদান, বদলি, ঘাটের টেন্ডার ও ইজারা কার্যক্রমসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিআইডব্লিউটিএর সাবেক এক সচিবের জন্য প্রায় ১০ কোটি টাকা এবং নিজে প্রায় ২০ কোটি টাকা অবৈধভাবে অর্জন করেছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কুমিল্লার গোমতী নদীর ওপারে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বাংলো বাড়ি নির্মাণ করেছেন আহসান হাবিব। এছাড়া কুমিল্লা শহরের কোতোয়ালি থানার পাশের মুগলটুলি এলাকায় একটি সাততলা ভবন, দুটি ব্যক্তিগত গাড়ি, মাছের ঘের, গরুর খামার এবং ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাটের মালিকানা রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এসব ফ্ল্যাটের কিছু ভাড়া দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, মাসিক প্রায় ৬০ হাজার টাকা বেতনের একজন কর্মকর্তার নামে থাকা এসব সম্পদের সঙ্গে তার বৈধ আয়ের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তারা এসব সম্পদের উৎস অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আহসান হাবিব সব অভিযোগ অস্বীকার করে গণমাধ্যমকে বলেন, “আমার সকল সম্পদ বৈধ। আমি কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি করি না।
একই কর্মস্থলে প্রায় ১৫ বছর দায়িত্ব পালন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমার কর্তৃপক্ষ আমার কাজে সন্তুষ্ট হয়েই আমাকে একই কর্মস্থলে রেখেছেন। এটি কোনো অপরাধ নয়।”
এদিকে, বিআইডব্লিউটিএর একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দীর্ঘ সময় একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তাদের মতে, বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযোগকারীরা বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যানের পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, জনস্বার্থে উত্থাপিত এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে সংস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।