ইকরামুল হক বিশেষ প্রতিনিধি:
চকরিয়া পৌরসভার হালকাকারা এলাকার আমান্যার চর ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পুলিশের হাতে ৫ জন গ্রে প্তার হওয়ার ঘটনায় নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে। পুলিশের মামলার নথি, স্থানীয়দের বক্তব্য এবং পরবর্তী সময়ে সংঘটিত হামলার অভিযোগ বিশ্লেষণ করে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ডাকাতচক্রের সম্ভাব্য আশ্রয়দাতা ও সহযোগীদের বিষয়ে নানা প্রশ্ন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সহকারী পুলিশ সুপার (চকরিয়া সার্কে ল) অভিজিৎ দাশের তত্ত্বাবধানে এবং চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে গত ২৫ মে ২০২৬ রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। খবর ছিল, একদল ডাকাত আমান্যার চর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ডাকাতির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে।
স্থানীয়দের সহযোগিতা ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পরিচালিত অভিযানে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতদল পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় একটি সিএনজিসহ ৫ জনকে আটক করা হয়। তবে পুলিশের দাবি, আরও দুটি সিএনজিযোগে ৮ থেকে ১০ জন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—আই য়ুব আলী,ইব্রাহিম সোহেল, আবু হানিফ,সাইফুল ইসলাম নাজিম উদ্দিন।অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে একটি সিএনজি, কো ড়াবাড়ি, লোহার খন্তি, ধারালো ছোরা, দা এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ভাষ্যমতে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা সংঘবদ্ধভাবে ডাকাতির উদ্দেশ্যে সেখানে সমবেত হওয়ার কথা স্বীকার করেন এবং পূর্বে বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীদের লক্ষ্য করে ডাকাতি কার্যক্রমে জড়িত থাকার তথ্য দেন।
এ ঘটনায় চকরিয়া থানায় পেনাল কোডের ৩৯৯ ও ৪০২ ধারায় মামলা নং-৫৩(তারিখ: ২৬ মে ২০২৬)রুজু করা হয়।আসামির বসবাস ঘিরে নতুন প্রশ্নঃ:অনুসন্ধানে জানা যায়,মামলার অন্যত ম আসামি ইব্রাহিম সোহেল ওরফে ‘সোহেল ডাকাত’ দীর্ঘদিন ধরে ইলিশিয়া ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হামিদুল হক মানিক এর শশুর বাড়ি তথা তার স্ত্রী সুলতানা রাজিয়ার বাপের বাড়িতে বসবাস করে তার অবৈধ কার্যকলাপ পরিচালনা করে আসছে দেদারসে
স্থানীয়দের অভিযোগ, হামিদুল হক মানিক এর শশুর বাড়ি তথা রাজিয়ার বাপের বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূ লক কর্মকাণ্ড,মাদকসেবীদের আড্ডা,যৌন আবৃত্তি এবং সন্দেহ জনক ব্যক্তিদের যাতায়াত ছিল। এক কথায় রাজিয়ার বাপের বাড়ি সক্রিয় ডাকাত দলের অঘোষিত আস্তানা।
ইলিশিয়া ২ কিলোমিটার রাস্তাসহ আশপাশের এলাকায় নিয়মিত তাদের ডাকাতি পরিচালনা হয়ে আসছেডাকাতি করা জিনিসপত্র গুলো ওই বাড়িতেই ভাগ বাটোয়ারা করে বলে জানা যায়।যদি ও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।তবে স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র এমনটাই বলেছে।অনুসন্ধানে আরও অভিযোগ উঠে এসেছে, হামিদুল হক মানিক, তার দুই ছেলে রাহাদুল হক বাবু ও রাফিদুল হক ছোটন,সুলতানা রাজিয়া,রাজিয়ার ভাই নুরুল কাদের রাসেল প্রকাশ রাশেল ডাকাত,স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দু শুক্কুর ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ এর নেতা আবদুল্লাহ আল মামুন সরাসরি ডাকাতচক্রের সাথে সম্পৃক্ত।
এছাড়া আরও একটি অভিযোগে বলা হয়, চকরিয়া থানার তৎকালীন ওসি বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী থাকাকালীন সময়ে এক সাবেক এসআইয়ের সঙ্গে সুলতানা রাজিয়ার ছোট বোন রেবেকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয় এবং পরবর্তীতে বিয়েও হয় বলে স্থানীয় সূত্র দাবি করে। চাকরিচ্যুত হওয়ার পরও ওই সাবেক এসআই মাঝেমধ্যে এলাকায় আসেন বলে জানা যায়।
তার প্রভাব ব্যবহার করে প্রশাসনিক মহলকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করা হয়—এমন অভিযোগও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে উঠেছে। বাবলা চেয়ারম্যানের নাম কেন আলোচনায়? স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরও পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়ন আওয়ামিলীগ এর সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বাবলা সক্রিয় ডাকাতদলের সেল্টারদাতা এবং তাঁর পার্শ্ববর্তী বাড়িটাই সক্রিয় ডাকাতদলের গোপন আস্তানা। বিশ্বস্ত সূত্র বলছে ওই বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসতেছে অনৈতিক কর্মযজ্ঞ।
এইসব জানার পরেও মোটা অংকের যোগসাজশে চুপরয়েছেন বাবলা চেয়ারম্যান। সচেতন মহলের দাবি,’যদি ডাকাতিমামলার আসামিদের আশ্রয়স্থল সত্যিই তার পার্শ্ববর্তী বাড়ি হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি তার নজরে অবশ্যই এসেছিলো কিন্তু তিনি ম্যা নেজ হয়ে উপর্যুপরি কোন ব্যবস্থা নেননি বা নিতে দেখা যায়নি বরং তাদের সেল্টার দিচ্ছে। এছাড়াও তিনি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন সহ পশ্চিম বড় ভেওলার আরো অনেকে বাবলা চেয়ারম্যান এর ওখানে তাঁর সেল্টার এই রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেওয়ার সন্দেহে হামলার অভিযোগঃ ডাকাতি মামলার ঘটনার এক সপ্তাহের মাথায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, গত ২ জুন বিকেল ৫টার দিকে ইলিশিয়া বাজারের হাকিম সওদাগরের কুলিং কর্নারে বসে থাকা আবু তাহের নামের এক ব্যক্তির ওপর হামলা চালানো হয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, হামিদুল হক মানিকের নেতৃত্বে রাহাদুল হক বাবু, রাফিদুল হক ছোটনসহ আরও কয়েকজন ব্যক্তি তাকে অভিযুক্ত করেন যে তিনি ইব্রাহিম সোহেলকে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দিয়েছেন। একপর্যায়ে তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে তাকে মাটিতে ফেলে দেন। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের চেষ্টা করা হয় এবং তাকে হুমকি প্রদর্শন করা হয়। স্থানীয়দের সহায়তায় তিনি রক্ষা পান। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য গ্রহণ করেন।
এ ঘটনায় আবু তাহের চকরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী আবু তাহের বলেন,আমি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।ইতিপূর্বেও সোহেল ডাকত,হামিদুল হক মানিক ও অন্যান্য ডাকাতদলের সদস্যরা আমার উপর হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালিয়েছে। এখনো আমার শরীরে “গুলির ক্ষত” রয়েছে।যার যথেষ্ট তথ্য প্রমাণাদি আমার কাছে রয়েছে।
জনমনে যে প্রশ্নগুলো ঘুরপাক খাচ্ছেঃ গ্রেপ্তার ডাকাতদের প্রকৃত আশ্রয়দাতা কারা?স্থানীয়ভাবে যাদের নাম আসছে, তাদের ভূমিকা কী?
ডাকাতচক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত?
পালিয়ে যাওয়া ৮-১০ জনকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কতদূর অগ্রগতি হয়েছে?আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত চলছে কি না?অভিযোগের পর আবু তাহেরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে কি?
প্রতিবেদকের মন্তব্যঃ
ডাকাতি মামলায় গ্রেপ্তার, সম্ভাব্য আশ্রয়দাতাদের নাম উঠে আসা এবং পরবর্তীতে অভিযোগকারীর ওপর হামলার ঘটনা—সব মিলিয়ে বিষয়টি এখন শুধু একটি ডাকাতি মামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। স্থানীয়দের মতে, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে প্রয়োজন নিরপেক্ষ ও গভীর তদন্ত। তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণই এখন এলাকাবাসীর প্রধান প্রত্যাশা।
এই বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার, চকরিয়া সার্কেল অভিজিৎ দাশ বলেন, ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আটককৃত ৫ জন আসামির বিরুদ্ধে পেনাল কোডের ৩৯৯ ও ৪০২ ধারায় মামলা নং ৫৩, (২৬ মে ২০২৬) ইং তারিখে রুজু করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ডাকাতদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মেজর “জাহিদুল ইসলাম”, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অন্যতম একজন ডিসিপ্লিন, চৌকস,আর মেধাবী সেনা অফিসার হিসেবে তার পরিচিতি ছিল! ২০০০ সালে ৪৩-তম বিএমএ লং কোর্সের মাধ্যমে সেনাবাহিনীতে কমিশন পান তিনি।
২০১৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকার রূপনগরে, নিজের ভাড়া বাসায় নিচেই তাকে জঙ্গি বানিয়ে বন্দুক যুদ্ধের নাটক সাজিয়ে খুব কাছ থেকে ২৯ রাউন্ড গুলি চালিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়! দীর্ঘ ৮ বছর ধরে জাতির কাছে জঙ্গি হিসেবে পরিচয় পাওয়ার পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বেরিয়ে, আসে এক নির্মম সত্য। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একটি অভিযোগ ঘটনার পেছনের কাহিনী বের করে জাতিকে নাড়িয়ে দিয়েছিল!
এটি ছিল পিলখানা হত্যাকান্ডের অন্যতম সাক্ষীকে চিরতরে নিস্তব্ধ করে দেওয়ার নীল নকশা! অথচ এই সেনা অফিসার কঙ্গোতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশন,পাকিস্তানে মিড ক্যারিয়ার কোর্স, কানাডায় উচ্চতর প্রশিক্ষণ শেষ করে হয়ে উঠেন দক্ষ এক অফিসার।
২০০৯ সালে তাকে পিলখানায় পোস্টিং দেওয়া হলেও তিনি ত যোগদান করেননি। ওই সময় পিলখানায় পোস্টিংয়ে ছিলেন তারই বন্ধু ক্যাপ্টেন শহীদ মাজহারুল হায়দার। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সেই নৃশংস হত্যাকান্ডের সময় মেজর জাহিদ কে ফোন করেন ক্যাপ্টেন মাজহারুল।
মাজহারুল বলেন বন্ধু আমাদের সব অফিসারদের মেরে ফেলছে! কারা মেরেছে মেজর জাহিদ জানতে চাইলে ক্যাপ্টেন মাজহারুল বলেন কিছু হিন্দুভাষী ব্যাক্তি যাদের তিনি কখনোই পিলখানায় দেখেন নি!
পিলখানা ঘটনার পরও মেজর জাহিদ অনেক বেশি সোচ্চার ও প্রতিবাদী ছিলেন। তিনি জানতেন অনেক গোপন আর স্পর্শকাতর সত্য! সত্যের পথে অবিচল থাকা এই সেনা অফিসারকে কোনোভাবে কেনা, আর দমানো সম্ভব না হওয়ায় তাকে ২০১৫ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যেতে বাধ্য করা হয়।
অবসরের পরেও তিনি নিরাপদ ছিলেন না, তার কাছে থাকা তথ্য তৎকালীন সরকারের ভীত নাড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল। সেজন্যই সাজানো হয় এক ভয়ংকর জঙ্গি নাটক! আর সেটা মঞ্চায়িত করা হয় ২০১৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর।
রাত ১০টায় মেজর জাহিদের বাসা থেকে তাকে ডেকে নিয়ে ভয়ানক নির্যাতন করে, তার হাত দু’টো পেছন থেকে বেঁধে হাতগুলো কে পিটিয়ে কাঁধ থেকে আলাদা করা হয়! তার মুখমণ্ডল বিকৃত করে বাসার নিচে নামিয়ে খুব কাছ থেকে ২৯ রাউন্ড গুলি চালিয়ে ঝাঁঝরা করা হয় তার বুক।সেদিন পুলিশ এতোটাই হিংস্র ছিল যে, মেজর জাহিদের চোখ দুটোও কোটর থেকে বের করে ফেলে!
অথচ রূপনগর থানার এজাহারে উল্লেখ করা হয় পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে নাকি মেজর জাহিদ চাকু আর পিস্তল নিয়ে চড়াও হয়েছিল! আত্মরক্ষার্থে তারা নাকি ২৯ রাউন্ড গুলি চালিয়ে ঝাঁঝরা করে মেজর জাহিদের বুক।
ফরেনসিক রিপোর্ট আর প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী এটি ছিল সম্পুর্ন একটি নাটক। মেজর জাহিদ হত্যার পর সবচেয়ে নির্মম ব্যাপার হচ্ছে, আড়াই বছর ঢাকা মেডিকেলের মর্গে মেজর জাহিদের লাশ পড়ে থাকলেও, তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি।
এরপর পরিবার লাশটাও খুঁজে পায়-নি! আহ! মেজর জাহিদ হত্যার সত্য যেনো বের হয়ে না আসে তাই পরিবারের উপরও চালানো হয় রোলার কোস্টার! মেজর জাহিদকে হত্যার রাতেই তার স্ত্রী আর দুই শিশু সন্তানকে, চোখ বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয় মেজর জাহিদ কে হত্যার পূর্বেই।
প্রায় ৪ মাস সাত দিন দুনিয়ায় আলো দেখতে না দিয়ে ডিবির কথিত আয়নাঘরে বন্দী রাখা হয় স্ত্রী জেবুন্নাহার শিলা আর ১ বছরের ছোট মেয়েকে! ৫ বছরের বড় মেয়েকে নানা নানুর কাছে দেবার কথা বলে, ৭ দিন পর নেওয়া হলেও ২০১৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর রাতে তৈরি করা হয় আরেক জঙ্গি নাটক!
মেজর জাহিদ হত্যার ৯ দিন পর বড় মেয়েকে ঢাকার আজিমপুরে কথিত জঙ্গি নাটক সাজিয়ে ৩ শিশু উদ্ধারের নামে তাকে উদ্ধার দেখানো হয়। সেদিন ৩ শিশু আটকের মধ্যে ছিল মেজর জাহিদের ৫ বছরের নিষ্পাপ বড় মেয়ে, ৫ বছরের শিশু জুনাইরা বিনতে জাহিদও!
আর ২০১৬ সালে ২৪ ডিসেম্বর ৪ মাসের অধিক সময় নির্যাতনের পর আরেক জ-ঙ্গি নাটক সাজিয়ে, মেজর জাহিদের স্ত্রী আর ছোট মেয়েকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়! এরপর স্ত্রী জেবুন্নাহার শিলার ভাগ্যে জুটে একের অধিক জঙ্গি মামলা!
সবচেয়ে দুঃখের ব্যাপার হচ্ছে মেজর জাহিদকে হত্যার এক বছরের মধ্যে ছেলের মৃত্যু সইতে না পেরে, মেজর জাহিদের বাবা-মা দু’জনই স্টোক করে মৃত্যু বরন করেন!
দীর্ঘ প্রায় ৪ বছর কারাবরণের পর মেজর জাহিদের স্ত্রীর জামিন মিললেও কোন এক অজানা শঙ্কায় তার জামিন বাতিল করে দুই বছর পর আবার হাজতে প্রেরণ করা হয়!
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ৩১ আগস্ট তার আবার জামিন হয়! কিন্তু মুক্তি মেলেনি অভিশপ্ত জঙ্গি মামলা থেকে, এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন এই বোঝা। একটা পরিবারকে ঠিক নিজের ক্ষমতা টিকেয়ে রাখার স্বার্থে এতো নির্মমভাবে ধ্বংস করে দেওয়ায় চেয়ে নৃশংস আর কি হতে পারে?