বিশেষ প্রতিনিধিঃ
বরগুনার আমতলী উপজেলাধীন কুকুয়া ইউনিয়নের আবদুল মোতালিব ২২ বছর বয়সে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে। মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষভাবে অংশ নেন এবং নয় মাস যুদ্ধ শেষে বাংলাদেশ স্বাধীন করেন।
মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মোতালিব ১৯৭১ সালে প্রত্যক্ষভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেও এখন তিনি জীবনের অন্তিম সময় পার করছেন। জীবনের শেষে এসে তিনি বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি আশা করেছেন।বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মোতালিব ৯ নম্বর সেক্টর কমান্টার এম এ রশীদ এর অধীনে তার সহকর্মীদের সঙ্গে বাংলাদেশকে শত্রুমুক্ত করতে জীবন বাজি রেখে দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন।
বাউফল উপজেলায় তৎকালীন ফিল্ড কমান্ডার এম এ রশীদ এর নির্দেশনায় মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে কাজ করেছেন।এবং তার অধীনে ২৭ জন মুক্তিযোদ্ধাদের সনদ প্রদান করেছে,যারা সকলেই এখন গেজেট ভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু এ মহান মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মোতালিব সনদ থাকা সত্ত্বেও সরকারি গেজেট ভুক্ত হতে না পারায় মানষিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন।এখন ৭৩ বছর বয়সি মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মোতালিব রোগে আক্রান্ত হয়ে বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন।জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে এসে তার আকুতি মৃত্যুর আগে রাষ্ট্রীয়ভাবে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়াটাই তার বড় সান্তনা।
মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মোতালিব বলেন,মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহনের সনদ,মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের প্রত্যায়ন পত্র,প্রশংসাপত্র এবং যুদ্ধে অংশগ্রহণের অন্যান্য কাগজপত্র সব কিছু থাকার পরেও আমি মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাভুক্ত হতে পারিনি,যা অন্তত বেদনাদায়ক।মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগের প্রতি অনুরোধও জানিয়েছেন এই মুক্তিযোদ্ধা।
আমতলী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মোঃ সানু বলেন, মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মোতালিব যথা সময়ে তার নাম তালিকাভুক্তি করাতে পারেননি। সনদ ও তালিকায় নাম না থাকায় তাকে সহযোগিতা করা সম্ভাবপর হয়ে উঠেনি।
এ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী আ.খ.ম মোজাম্মেল হক ও জেলা প্রশাসক বরগুনার কাছে গত ১০/১০/২০২২ইং তারিখে একটি লিখিত আবেদন করেন এই মুক্তিযোদ্ধা যাহার সিরিয়াল নম্বর ৬৪৫৫।