February 8, 2026, 6:59 pm
শিরোনামঃ
ফুলবাড়িয়া খাদ্য গুদামে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি ময়মনসিংহে পুলিশের উপর হামলার মামলার আসামিরা প্রক্যশো ঘুরে বেড়ালেও রহস্যজনক কারনে গ্রেফতার হচ্ছে না লক্ষ্মীপুরের দাশেরহাটে বিএনপি নেতার গরু চুরি করে জবাই ও বিক্রির অভিযোগ যুবদল নেতাদের বিরুদ্ধে লক্ষ্মীপুরে ভুয়া নারী আইনজীবী আটক এনসিপি নেতা হাসানাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে জঙ্গি সংযোগের অভিযোগ, তদন্তের দাবি ঢাকায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা ভোটার নিয়ে বিতর্ক প্রেস বিজ্ঞপ্তি আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১২ তারিখে হেভিওয়েট মাপা হবে:আব্দুল্লাহ আল ফারুকের হাতে দাঁড়িপাল্লা তুলে দিয়ে জামায়াত আমীর বিএনপি ঋণখেলাপীদের মনোনয়ন দিয়ে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিয়েছে: আব্দুল্লাহ আল ফারুক ৩ ফেব্রুয়ারি সচিবালয় এলাকায় নীরব জোন বাস্তবায়নে সমন্বিত অভিযান ও জনসচেতনতামূলক সমাবেশ 
নোটিশঃ
আপনার আশেপাশের ঘটে যাওয়া খবর এবং আপনার ব্যবসার বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য যোগাযোগ করুন মানবাধিকার খবরে।

দুদকের জালে ময়মনসিংহের শতাধিক সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী

Reporter Name

স্টাফ রিপোর্টার : ময়মনসিংহ সরকারি কর্মচারীদের আলীশান ভবন আর অভিজাত ফ্ল্যাট-এপার্টমেন্ট মিলিয়ে যেন আরেক বেগমপাড়ায় পরিনত হয়েছে ময়মনসিংহ নগরী। অবৈধ সম্পদ অর্জন করার অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক।

এরমধ্যে ময়মনসিংহের সাবেক ডিসি ড. সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস, সাবেক ভিসি মিজানুর রহমান, সাবেক ডিসি লোকমান হোসেন মিয়া,সাবেক দুইজন পুলিশ কর্মকর্তা ও কয়েকজন প্রকৌশলী সহ ১০ জন সাবেক ও বর্তমান বর্তমান উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা,৩২ জন জেলায় উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কেরানি,সাবেক দুই সিভিল সার্জন,সাবেক দুই ভূমিঅধিগ্রহন কর্মকর্তা, সার্ভেয়ার,প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের হিসাবরক্ষক, ১২ জন সাবেক ও বর্তমান হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা ২৩ জন ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব),মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট এর কয়েক জন কর্মকর্তা,সওজের হিসাবরক্ষক, সমাজসেবা অধিপ্তরের কেরানি,৩ জন সড়ক ও জনপথ,এলজিইডি বিভাগের কর্মকর্তা -কর্মচারী সিটি।

কর্পোরেশনের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইউসুফ আলী, নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) জিল্লুর রহমান,জসিমউদদীন, আজহারুল হক,কাঞ্চন নন্দী,নগর পরিকল্পনাবিদ মানস বিশ্বাস ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জহুরুল হকসহ আরও ২২জন, সাবেক দুই মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, ময়মনসিংহ কারাগারের সাবেক জেলার ও কারারক্ষী,ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ

হাসপাতালের উচ্চমান সহকারী দুইজন,বর্তমান দুই ঠিকাদার, সাবেক তিন প্রশাসনিক কর্মকর্তা,পুলিশের সাবেক ১১ জন এসআই।বর্তমানে বেশ ক’জন পুলিশ পুলিশ পরিদর্শক, বনবি ভাগের দুই কর্মকর্তা ও সরকারী-বেসরকারী উচ্চ বিদ্যালয়-কলেজের ৪৩ জন প্রভাষক-শিক্ষক এমনকি সরকারী কয়েকটি দপ্তরের এমএলএসএস-পিওনরাও ময়মনসিংহ নগরীতে বিভিন্নস্থানে ৮ থেকে ১৬ তলা উচ্চতার বিশাল বিশাল ভবন গড়ে উলেছেন।

মারার অনেকেই শোন বাড়ি রাজধানীর নির্মান ও বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ক্রয় এবং নামে-বেনামে বিভিন্ন ব্যাংকে শত শত কোটি টাকা জমা রেখেছেন। ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই প্রতিদিনের কাগজে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করার পর অনু সন্ধানে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক। একাধিক একাধিক কর্মন কর্মকর্তা-কর্মচারী যৌথ মালিকানাতেও বানিয়েছেন দৃষ্টিনন্দন।

বহুতল এপার্টমেন্ট ময়মনসিংহ নগরীর আমলাপাড়া,মাসকান্দা আবাসিক এলাকা, গোলকিবাড়ির আশপাশের মহল্লাতেই সরকারি কর্মচারীদের অন্তত ৩৫টি আলীশান ভবন গড়ে উঠে। এসব আলীশান ভবন ছাড়াও বিভাগের বিভিন্ন স্থানে তারা প্রায় সাড়ে পাঁচ’শ একর জায়গা-জমিও কিনেছেন। তাদের (স্ত্রী)-বেগমদের নামেই দেওয়া হয়েছে সিংহভাগ সহায় সম্পদের মালিকানা।

নিকটাত্মীয়সহ নামে বেনামে করা হয়েছে বাকি সম্পদ এ জেলার তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর ১৪৩ জন কর্মচারীর মধ্যে ৬৭ জনই আলাদীনের চেরাগ স্টাইলে কোটিপতি হয়েছেন। কারো কারো অর্থ-সম্পদের পরিমাণ শত কোটির ঘরও পেরিয়ে গেছে। প্রতিদিনের কাগজের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য। বছরের পর বছর একইস্থানে কর্মরত থেকে এসব কর্মকর্তা-কর্মচারী কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছে ন,তাদের অনেকের বিরুদ্ধেই লাগামহীন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

সেসব বিষয়ে ময়মনসিংহ দুদকের নামমাত্র তদন্ত হলেও দীর্ঘস ময় ধরে ফাইলবন্দি অবস্থায় পড়ে আছে এবার দুদক চেয়ারম্যান বরাবর আবার অভিযোগ করার পর অনুসন্ধান শুরু করেছে বলে একটি সূত্রে জানিয়েছে।

এসব লুটেরা, দুর্নীতিবাজ কর্মচারী আগে চুপিসারে অর্থবিত্ত গড়ে তুললেও আর কোন কিছুকেই তোয়াক্কা করছেন না বরং তাদের অবৈধ উপায়ে অর্জিত বিত্ত বৈভবের শান-শওকত তারা অহঙ্কারের সাথেই প্রকাশ করছেন, সহায়-সম্পদও গড়ছেন অর্থ বাহাদুরীর পাল্লাপাল্লিতে। আভিজাত্যে মোড়া দৃষ্টিনন্দন আলীশান ভবন নির্মাণ করে সবচেয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে ন ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ক্যাশিয়ার মোঃ এনামুল হক, ময়মনসিংহ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সাবেক উপ-পরিচালক ফারজানা পারভিন, সাবেক সহকারি পরিচালক

সাবেক উপ-পরিচালক ফারজানা পারভিন, সাবেক সহকারি পরিচালক নুরুজ্জামান চৌধুরী, সাবেক সহকারি পরিচালক মো: জোয়াহের আলী মিয়া, গৌরীপুর উপজেলা যুব উন্নয়নের সাবেক কর্মকর্তা নন্দন কুমার দেবনাথ, ত্রিশাল উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সাবেক উপজেলা কর্মকর্তা মো: আবু জুলহাস, ভালুকার গোলাম মোস্তফা। এছাড়াও ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারের সাবেক জেলার বর্তমানে জেল সুপার চলতি দায়িত্বে আব্দুল্লাহ ইবনে তোফাজ্জল হোসেন খান।

তিনি ময়মনসিংহ নগরীর জামতলা মোড়ে ৫ শতাংশ জমির উপর ৬ তলা একটি ভবন নির্মানাধীন রয়েছে। নগরীতে ৫ স্থানে জমি ক্রয় করেছেন। যার মূল্য অনুমান ৪ কোটি টাকা। ময়মনসিংহ জেলা শাখার উপসহকারী আনিসুর রহমান ও শাহজাহানকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেন। এর মধ্যে কয়েকজন বিশ্বস্থ সহযোগিদের নিয়ে নগরীর গোলকিবাড়ি এলাকায় যৌথভাবে নির্মাণ করেছেন ১১ তলা বিলাসবহুল বাড়ি। আধুনিক নকশা ও কারুকার্য খচিত বহুতল ভবনটি দেখার জন্য শহরের বিভিন্ন প্রান্তের লোকজনও ভিড় করেন সেখানে। অনুসন্ধানে জানা যায়, ক্যাশিয়ার মোঃ এনামুল হক ও তার ঘনিষ্ঠ ১৬ জন (কর্মচারী) মিলে ১১ তলার আলীশান ভবন নির্মাণে প্রায় ২৪ কোটি টাকা খরচ করেছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

ময়মনসিংহের সড়ক ও জনপথ বিভাগের সার্ভেয়ারসহ পাঁচ কর্মকর্তার কাছেই শতকোটি টাকার সন্ধান মিলেছে। তারা নগরীর বিভিন্ন মহল্লা ছাড়াও খোদ রাজধানীতেও কোটি কোটি টাকার সম্পদ করেছেন। একাধিক প্লট, ফ্ল্যাট, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মালিক হয়েছেন, পরিবারের সদস্যরা ব্যবহার করছেন দামি দামি গাড়ি। তিন কর্মকর্তার ছেলে মেয়ে পড়াশুনা করেন ইউরোপ-আমেরিকায়, তাদের সেকেন্ড হোম গড়েছেন কানাডায়- এসব খবর ঘুরে বেড়ায় সওজ কর্মচারীদের মুখে মুখে। উচ্চমান সহকারী পদবির একজন সাদেকুল ইসলামের সম্পত্তির বিবরণ উদঘাটন করে প্রতিদিনের কাগজ অনুসন্ধান টিমের সদস্যরাও অবাক হয়েছেন।

ময়মনসিংহে চাকরিরত অবস্থায় একজন সরকারি কর্মচারী কিভাবে এতসব সম্পদের মালিক হয়েছেন- তার তত্ত্বাবধায়ন কারী কর্তাদের যেন তা নজরেও পড়েনি। প্রাথমিক ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, সাদেকুল ইসলাম নগরীর আমলাপাড়া ও গোলকিবাড়ী এলাকায় ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৫ শতাংশ জায়গা কিনেছেন। জায়গা ক্রয়ের দলিল নাম্বারগুলো হচ্ছে- ১২০, ২৩০৭, ৫৬৯, ৭০৪, ৭০০ ও ৫৪৫। তার দ্বিতীয় স্ত্রী আইরিন আক্তারের জন্য রাজধানীর উত্তরায় ১০ নাম্বার সেক্টরে ৫ শতক জায়গার উপর ৯ তলা বাড়ি করেছেন। তিনি উত্তরা, ধানমন্ডি, ময়মন-সিংহের আমলাপাড়া, গোলকিবাড়িতে আরো ৭টি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। যার আনুমানিক খরচ ৫ কোটি টাকা। সাদেকুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী সোনিয়া আক্তার বলেন,

‘আমার স্বামী দুর্নীতি করে অবৈধভাবে টাকা অর্জন করার প্রতিবাদ করেছি বলেই তিনি (সাদেকুল ইসলাম) দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। দুদকের এক কর্মকর্তা জানান, ক্যাশিয়ার এনামুল হকের সম্পদের খোঁজ করতে গিয়েই ময়মনসিংহের ১৪৩ জন কেরানীর মধ্যে ৬৭ জনের বিপুল সম্পদ থাকার বিষয়টি বেরিয়ে আসে। জানতে পারি দুর্নীতিবাজ কর্মচারীরা তাদের স্ত্রী/বেগমদের নামে ৩৫টি আলিশান বাড়ি নির্মান করেছেন।

এবিষয়ে আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি দুদকের কর্মকর্তা আরও বলেন, অনুসন্ধানে বিপুল সম্পদ থাকার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়। এরপর ময়মনসিংহ নগরীতে শতাধিক ফ্ল্যাট থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হয় দুদক। এর বাইরে কয়েক জন কর্মচারীর ব্যাংক হিসাবে কোটি কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।



Our Like Page
Developed by: BD IT HOST