নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রাম, ২১ আগস্ট ২০২৬ খ্রি.
পুলিশ সুপার, চট্টগ্রাম জেলা মোঃ মাসুদ আলম বিপিএম মহোদয়ের সার্বিক নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের আন্তরিকতা, নিরলস পরিশ্রম, পেশাদারিত্ব ও সমন্বিত প্রচেষ্টায় বিএসআরএম কোম্পানির চালান থেকে চুরি হওয়া ১২ টন ১০০ কেজি লোহার রড উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত ৩ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গত ১৪ আগস্ট ২০২৬ খ্রি. বিকাল আনুমানিক ৩টায় জোরারগঞ্জ থানাধীন বিএসআরএম কোম্পানি থেকে বিভিন্ন সাইজের ১৩ টন লোহার রড ট্রাকযোগে সুনামগঞ্জে পাঠানোর সময় ট্রাকবোঝাই লোহার রড চুরি হয়। ঘটনার পর বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চুরি যাওয়া মালামাল দ্রুত উদ্ধার এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ তৎপর হয়ে ওঠে।
জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হালিমের সার্বিক তদারকিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, সঙ্গীয় এসআই (নিঃ) মোঃ সাদ্দাম হোসেন, এএসআই (নিঃ) মোঃ ইসমাইল ও ফোর্সের সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ শুরু করেন। আধুনিক প্রযুক্তি, তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের ধারাবাহিকতায় গত ১৯ আগস্ট ২০২৬ খ্রি. বারইয়ারহাট এলাকা থেকে মোঃ রিয়াদ হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরদিন ২০ আগস্ট ২০২৬ খ্রি. নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানাধীন তারাবো এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আসামির আত্মীয় জাকিরের বাসা থেকে ট্রাকের হেলপার মোঃ হাদিছ মোল্লাকে গ্রেফতার করা হয়।
পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আসামিদের দেওয়া তথ্য ও তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মাগুরা জেলার মহম্মদপুর থানাধীন জাঙ্গালিয়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আবুল বাশার ওরফে বাঁশিকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আবুল বাশার ওরফে বাঁশির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তে চোরাই চক্রের মূলহোতা জাহাঙ্গীরের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে তার বসতঘরে অভিযান পরিচালনা করা হয়। একই অভিযানের ধারাবাহিকতায় মহম্মদপুর বাজারস্থ “আয়ান এন্টারপ্রাইজ” নামক দোকান থেকে চুরি যাওয়া ১২ টন ১০০ কেজি লোহার রড উদ্ধার করা হয়।
এছাড়াও ফরিদপুর জেলার মধুখালী থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে রডসহ চুরি যাওয়া ট্রাকটি খালি অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
জনগণের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তায় পুলিশের অঙ্গীকার
ঘটনার পর বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে টানা পরিশ্রম, সময়োপযোগী পদক্ষেপ, তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আন্তঃজেলা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যে চুরি যাওয়া বিপুল পরিমাণ মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
জনগণের জানমাল, সম্পদ ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং
অপরাধ সংঘটনের পর দ্রুততম সময়ে অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা পুলিশের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সর্বদা আন্তরিক, দায়িত্বশীল ও সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
পুলিশ সুপার, চট্টগ্রাম জেলার নির্দেশনায় জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের এ কার্যক্রম অপরাধ দমন, জনগণের সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জনসাধারণের আস্থা অর্জনে পুলিশের দায়িত্বশীল ও সক্রিয় ভূমিকার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।