নিজস্ব প্রতিবেদক:
এনায়েতপুরের ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে থাকা সেই রক্তাক্ত, পুড়ে খাঁক হয়ে যাওয়া থানা ভবন আজও যেন হাহাকার করছে। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট দুপুরে এখানেই ঘটানো হয়েছিল পরিকল্পিত একটি গণহত্যা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নামের পাঁচ-ছয় হাজার সশস্ত্র ‘জুলাই দাঙ্গাবাজরা’ যখন থানায় ঝাঁপিয়ে পড়ে, তখন তাদের লক্ষ্য ছিল একটাই—পুলিশকে ধ্বংস করা, রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সমূলে নিকেশ করা। আত্মরক্ষার শেষ চেষ্টা হিসেবে পুলিশ যখন কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ে, তখনও থেমে যায়নি হায়েনাদের আগ্রাসন। তারা থানার ভেতরে ঢুকে কুপিয়ে, পিটিয়ে হত্যা করেছে ১৫ পুলিশ সদস্যকে। লুট করেছে সরকারি অস্ত্রভাণ্ডার। নারী কনস্টেবল রেহেনার উপর চালিয়েছে চরম পাশবিকতা। প্রাণ বাঁচাতে ওসি ও অন্যান্য সদস্যরা আশ্রয় নিয়েছিলেন কাছের বাড়িতে, সেখানেও হায়েনারা পৌঁছে গিয়ে চালিয়েছে গণহত্যা। এ শুধু এক থানায় নয়—জেলায় জেলায়, বাড়িঘর, দলীয় কার্যালয়, প্রেসক্লাব, রেলস্টেশন—সব পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়েছে তারা। অথচ এক বছর পার হলেও তদন্তই শেষ হয়নি। কেন? ময়নাতদন্তের রিপোর্ট নেই—কি হাস্যকর অজুহাত!
পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের কাছে প্রশ্ন—আপনারা কাদের জন্য কাজ করছেন? যাদের রাজনীতির স্বার্থের ছুরি আজ আপনার ঘাড়ে? যারা আপনাদের সহকর্মীদের হত্যা করেছে, লাশ টেনে-হিঁচড়ে পুড়িয়েছে, যারা আপনাদের ব্যবহারের অস্ত্র কেড়ে নিয়ে আপনাদেরই মাথায় গুলি করেছে—তাদের শাসনের চাকা কেন চলছে এখনো আপনাদের ঘামে? এ ঘটনা তো কেবল ১৫টি লাশ নয়, এটা আপনাদের পেশা, সম্মান, অস্তিত্বের উপর সবচেয়ে বড় লাঞ্চনা। এই যে পুরো এক বছর ধরে ইউনুসের অ-সরকার নামধারী চক্রটি আপনাদের ভাইদের হত্যার বিচার ঠেকিয়ে রেখেছে—তাতে কি বুঝতে বাকি থাকে কারা আসল খুনি? আর কাকে বাঁচাতে এই সাজানো তদন্ত নাটক? যারা দিনের আলোয় পুলিশ কোয়ার্টারে আগুন ধরিয়ে দেয়, আর রাতের আঁধারে আপনাদের প্রাণ কেড়ে নেয়—তাদের সেবা করা কি আপনাদের পেশাগত দায়িত্ব, নাকি আত্মঘাতী বশ্যতা?
মোহাম্মদ ইউনুস ও তার অনির্বাচিত অপশাসক গোষ্ঠী পুলিশ বাহিনীকে ধ্বংস করতে শুরু করেছে ২০২৪ এর জুলাই দাঙ্গার প্রথম থেকেই। এনায়েতপুর আর হাটিকুমরুলে অস্ত্র লুটের ঘটনায় যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তারা কি সেই আসল ঘাতক? নাকি শুধু প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক পরিচয়ের লোকদেরকে ধরা হয়েছে, আর আড়ালে প্রকৃত খুনিরা রয়ে গেছে ক্ষমতার ছায়ায়? যারা আজ আপনাদের সহকর্মীদের হত্যার বিচার আটকে রেখেছে, কাল তারাই আপনাদের নামও হত্যা মামলার আসামি বানিয়ে দেবে—তা কি অজানা? কত পুলিশ কর্মকর্তা আজ চাকরি হারিয়েছেন রাজনৈতিক অপমান আর বদলি খেলা থেকে বাঁচতে না পেরে? কতজন নারী পুলিশ প্রতিনিয়ত অপদস্থ হচ্ছেন এই চক্রের ছায়ায় প্রশ্রয় পাওয়া অদৃশ্য শিকারীদের হাতে? আর কতদূর গেলে বোঝা যাবে, এই সরকার আপনাদের হেফাজতে নয়, আপনাদের শবদেহের উপর দাঁড়িয়ে আছে?
আজ প্রশ্ন একটাই—এক বছর আগে রক্তে ভেসে যাওয়া সেই পুলিশ কনস্টেবলদের রক্তের ঋণ কি ভুলে যাবেন? নাকি এখনো সময় আছে চোখ খুলে দেখার যে, আসল শত্রু আপনারা যাদের পাহারা দিচ্ছেন—তারাই!