রাশেদুল ইসলাম রিয়াদ”জাজিরা (শরীয়তপুর) প্রতিনিধি:
বাবা-মায়ের বহুদিনের স্বপ্ন ছিল, তাদের ছেলে হেলিকপ্টারে চড়ে বিয়ে করবে এবং কনেকে হেলিকপ্টারে করেই ঘরে আনবে। সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিলেন আমেরিকা প্রবাসী দিদার মাদবর।
শুক্রবার (২৭ জুন) বিকেলে হেলিকপ্টারে চড়ে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে নববধূকে সঙ্গে নিয়ে নিজ গ্রামে ফিরে আসেন তিনি। আর এই ব্যতিক্রমী আয়োজনে ভিড় জমায় শত শত উৎসুক মানুষ।
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিকেনগর ইউনিয়নের সেনেরচর করিম উদ্দিন মাদবর কান্দি গ্রামের মো. দবির মাদবর ও ঝর্ণা বেগম দম্পতির বড় ছেলে দিদার মাদবর। তার সঙ্গে বিয়ে হয় মাদারীপুরের শিবচরের দোতারা ইউনিয়নের হাজী ইয়াসিন মোল্লা কান্দির বাসিন্দা মো. আসলাম সিকদারের মেয়ে সাদিয়া আফরোজ ইশার।
শুক্রবার দুপুরে জাজিরার বড় কৃষ্ণনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে হেলিকপ্টারে চড়ে বরযাত্রা করেন তিনি। পরে শিবচরের ইয়াসিন মোল্লা কান্দি গ্রামের একটি মাঠে হেলিকপ্টার অবতরণ করে। সেখানেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
বিকেলে নববধূকে সঙ্গে নিয়ে আবারও হেলিকপ্টারে করে নিজ গ্রামে ফিরে আসেন দিদার। হেলিকপ্টার নামার দৃশ্য দেখতে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়।
দিদার মাদবর জানান, “দীর্ঘদিন ধরে বাবা-মা ও ছোট ভাইকে নিয়ে আমেরিকায় বসবাস করছি। বিয়ের জন্যই দেশে আসি। বাবা-মায়ের ইচ্ছে ছিল আমি যেন হেলিকপ্টারে করে বিয়ে করি। তাদের সেই ইচ্ছা পূরণ করতে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় তিন ঘণ্টার জন্য হেলিকপ্টার ভাড়া করি। বাবা-মাকে খুশি করতে পেরে আমি নিজেও আনন্দিত।”
দিদারের বাবা মো. দবির মাদবর বলেন, “আমরা স্বপ্ন দেখতাম, আমাদের ছেলে হেলিকপ্টারে করে বউ আনবে। আমাদের সেই স্বপ্ন পূরণ করেছে ছেলে। এটা আমাদের জীবনের এক বিশেষ মুহূর্ত।”
এই বিয়ের খবর ছড়িয়ে পড়তেই গ্রামের মানুষ হেলিকপ্টার ও নবদম্পতিকে দেখতে ভিড় করে।
হেলিকপ্টার দেখতে আসা আক্কাস মাদবর বলেন, আমি কখনো এত কাছ থেকে হেলিকপ্টার দেখিনি। এখানে আসবে শুনে দেখতে আসলাম। আগের দিনে পায়ে হেটে, পালকিতে, ভ্যানে চড়ে বিয়ে করতে যেতো।
এরপর বাস, মাইক্রোবাসে করে নতুন বউকে আনতে দেখেছি। এবার হেলিকপ্টারে নতুন বউকে আনতে দেখলাম, ভালোই লেগেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু বক্কর শেখ বলেন, “গ্রামের মানুষ খুব খুশি। এমন আয়োজন আগে কখনো দেখিনি। প্রতিটি বাবা-মায়েরই একটা স্বপ্ন থাকে সন্তানের জন্য। সেই স্বপ্ন পূরণে দিদার যা করেছে তা অনুকরণীয়।”