স্টাফ রিপোর্টার:
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ‘পাতানো খেলা’ ও ‘জনগণবিহীন প্রহসন’ আখ্যা দিয়ে রাজপথ উত্তপ্ত করার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। সরকারের কথিত নির্বাচনী নীল নকশা ভণ্ডুল করতে এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে সংগঠনটি ঘোষণা করেছে দশ দিনব্যাপী এক টানা গণসংযোগ ও সর্বাত্মক ‘প্রচার যুদ্ধ’।
সংগঠনটির নীতিনির্ধারণী মহল থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, একতরফা কোনো নির্বাচনের আয়োজন করা হলে তা কঠোর হাতে প্রতিহত করা হবে। সেই লক্ষ্যেই ২২ থেকে ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত সারাদেশে জেলা, মহানগর থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত প্রতিটি সাংগঠনিক ইউনিটে চলবে এই বিশেষ কর্মসূচি।
ঘোষিত কর্মসূচির ধরণ দেখে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি কেবল সাধারণ লিফলেট বিতরণ নয়, বরং রাজপথ দখলের এক মহড়া। কর্মসূচির আওতায় স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ, পাড়া-মহল্লা, হাট-বাজার এবং অফিস-আদালতে লিফলেট বিতরণ, দেয়াললিখন ও পোস্টারিংয়ের মাধ্যমে জনমত গঠন করা হবে। ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের গণতন্ত্র, নাগরিক অধিকার এবং ন্যায়বিচার আজ ভূলুণ্ঠিত। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলীয় সরকারের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়—এই বার্তাটিই তারা সাধারণ মানুষের দুয়ারে পৌঁছে দিতে চায়।
লিফলেট ও দেয়াললিখনে ব্যবহৃত স্লোগানগুলোতেও রয়েছে ঝাঁঝালো বিদ্রোহের সুর। “প্রহসনের নির্বাচন, বয়কট করবে জনগণ”, “ভোট আমার অধিকার, ভোট কেড়েছে দখলদার” এবং “সকল দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন, নয়তো প্রহসনের অংশ নয়”—এমন সব অগ্নিঝরা স্লোগানে তারা মুখরিত করতে চায় রাজপথ। সংগঠনটির দাবি, এটি কোনো সাধারণ রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং ‘ভোট চোর’ ও ‘দখলদার’ শক্তির বিরুদ্ধে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।
মাঠের রাজনীতির পাশাপাশি ভার্চুয়াল জগতেও ঝড় তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে ছাত্রলীগ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সরকারের একতরফা নির্বাচনের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ছাত্রলীগের এই ঘোষণা রাজনীতির মাঠে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। সংগঠনটি তাদের নেতাকর্মীদের ‘জরুরি ভিত্তিতে’ যুদ্ধের আদলে প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে দেশের বৃহত্তম এই ছাত্রসংগঠনের এমন মারমুখী অবস্থান এবং টানা কর্মসূচি সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, প্রশাসন ও প্রতিপক্ষকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে ছাত্রলীগ প্রমাণ করতে চাইছে—দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বে না।