April 19, 2026, 8:46 pm
শিরোনামঃ
নারী আসনে বিএনপির ৩৬ প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ, আলোচনায় বর্তমান প্রজন্ম থেকেই ভবিষ্যতের বিজ্ঞানীরা তৈরি হবে – বিভাগীয় কমিশনার ময়মনসিংহ উন্নয়নমূলক কাজে ইউনিয়নভিত্তিক কমিটি গঠন করা হবে – ডেপুটি স্পীকার ময়মনসিংহে ৪ তলা ভবনে নেই শিক্ষার্থীর কোলাহল, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ভুয়া সংবাদ ও অপপ্রচার প্রতিরোধে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে – তথ্য মন্ত্রী জেলা রেজিস্ট্রার রমজান খানের দুর্নীতির পাহাড় যথাসময়ে হামের টিকা না দিয়ে বিগত দুটি সরকার ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে: প্রধানমন্ত্রী সওজে ৬ বছরে ৮ হাজার কোটি টাকার কাজে প্রভাবশালী চক্র ডিএমপি তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৬৭ জন গ্রেফতার ময়মনসিংহ নগরীর পাটগুদাম এলাকার সুজন নামে একজনের লাশ উদ্ধার
নোটিশঃ
আপনার আশেপাশের ঘটে যাওয়া খবর এবং আপনার ব্যবসার বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য যোগাযোগ করুন মানবাধিকার খবরে।

১০ কাঠার প্লটে যাবজ্জীবন হলে ৪৪৬৭ কাঠার দায়ে সাজা হবে কত হাজার বছর?

Reporter Name

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ১০ কাঠার একটি প্লট বরাদ্দ নেয়াকে কেন্দ্র করে যখন কঠোর সাজার গুঞ্জন—এমনকি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে—তখন জনমনে এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে বড় ধরণের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। দেশের আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের মাপকাঠি কি সবার জন্য সমান, নাকি এটি কেবল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার? বিশেষ করে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম জড়িয়ে হাজার হাজার কাঠা জমি বরাদ্দের তথ্য যখন সামনে আসছে, তখন এই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়ে উঠছে।

সম্প্রতি অভিযোগ উঠেছে, শেখ হাসিনা পূর্বাচলে ১০ কাঠার একটি প্লট বরাদ্দ নিয়েছিলেন। দেশের একজন পাঁচ বারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল বা প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী এমন বরাদ্দ খুবই নগণ্য বিষয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। অথচ, এই সামান্য জমির জন্য রাষ্ট্রদোহিতা বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মতো সর্বোচ্চ শাস্তির আলাপ তোলা হচ্ছে।

অন্যদিকে, বিভিন্ন সূত্রে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নিয়ন্ত্রণাধীন বা তার সংশ্লিষ্টতায় পূর্বাচলে প্রায় ৪ হাজার ৮০ কাঠা, উত্তরায় ৩০০ কাঠা এবং চট্টগ্রামে ৮৭ কাঠা জমি বরাদ্দের অভিযোগ রয়েছে। যদিও এই জমিগুলো প্রাতিষ্ঠানিক হতে পারে, তবুও ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে এই বিপুল পরিমাণ জমির সংস্থান এবং ১০ কাঠার সাথে তার তুলনা—ন্যায়বিচারের দ্বিমুখী নীতিকেই সামনে আনে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি ১০ কাঠা জমির জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়, তবে গাণিতিক এবং আইনি যুক্তিতে ৪ হাজার ৪৬৭ কাঠা (৪০৮০+৩০০+৮৭) জমির অনিয়ম বা বরাদ্দের জন্য সাজার মেয়াদ কত বছর হওয়া উচিত? সেই হিসেবে তো কয়েক হাজার বছরের সাজাও কম হয়ে যায়।

শেখ হাসিনা বাংলাদেশের অবকাঠামগত উন্নয়নে যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছেন এবং দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করেছেন, তার তুলনায় অবসরের পর বা বসবাসের জন্য ১০ কাঠার একটি প্লট রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সামান্য উপহার বা অধিকার মাত্র।

এটিকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা এবং সর্বোচ্চ শাস্তির কথা বলা মূলত তাকে জনসম্মক্ষে হেয় প্রতিপন্ন করার এবং রাজনীতি থেকে মাইনাস করার একটি গভীর ষড়যন্ত্র।

আইন যদি সবার জন্য সমান হয়, তবে কথিত দুর্নীতির অভিযোগ তোলার আগে বর্তমান প্রশাসনের শীর্ষ ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়গুলোও একই পাল্লায় মাপা উচিত। শেখ হাসিনার সমর্থকরা মনে করছেন, ১০ কাঠার প্লট ইস্যুটি মূলত একটি ধোঁয়াশা সৃষ্টি করা, যাতে করে বর্তমান সময়ের বড় বড় অব্যবস্থাপনা বা অন্যদের বিপুল সম্পত্তি অর্জনের বিষয়টি আড়াল করা যায়।

বিশ্লেষণে এটি স্পষ্ট যে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনীত এই অভিযোগ যতটা না আইনি, তার চেয়ে বেশি রাজনৈতিক। ১০ কাঠা জমির বরাদ্দের বিপরীতে হাজার কাঠা জমির মালিকানা বা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি যদি তদন্তের বাইরে থাকে, তবে তা হবে ইতিহাসের অন্যতম বড় আইনি বৈষম্য।

জনগণ মনে করে, কেবল রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে শেখ হাসিনাকে আইনি প্যাঁচে ফেলা হচ্ছে। যেখানে হাজার হাজার কাঠা জমি বরাদ্দের হিসাব মেলানো হচ্ছে না, সেখানে ১০ কাঠার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আলোচনা কেবল হাস্যকরই নয়, বরং এটি প্রতিহিংসপরায়ণ রাজনীতির এক নিকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে ইতিহাসে থেকে যাবে। শেখ হাসিনার মতো একজন রাষ্ট্রনায়কের বিরুদ্ধে এমন লঘু অভিযোগে গুরুদণ্ড দেয়ার চেষ্টা তার জনপ্রিয়তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারবে না বলেই তার অনুসারীরা বিশ্বাস করেন।



Our Like Page
Developed by: BD IT HOST