স্টাফ রিপোর্টার :নেত্রকোনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক(ডিসি ফুড ) এর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠে ছে। তিনি নেত্রকোনা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে যোগদানের পর থেকেই রাতারাতি ফ্লাটবাড়ি ও জমিসহ ভবনের মালিক বনে গেছেন।তিন ওএমএস(ওপেন মার্কেট সেল)কর্মসূচীর ডিলার ও মিলার এবং পরিবহণ ঠিকাদারের কাছ থেকে অবৈধভাবে আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন প্রতিমাসে।
একইভাবে জেলার উপজেলার উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এবং উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছ থেকেও প্রতি মেট্রিক টনে ঘুষ নিচ্ছেন তিনি। তাঁকে ঘুষ না দিলে তিনি কোন অফিসের কাজের ফাইলে স্বাক্ষর করেননা। এতে করে তিনি রাতারাতি ফ্লাটবাড়ি ও জমিসহ একতলা ভবণের মালিক বনে গেছেন। তাঁর কথার অবাধ্য হলে অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথেও দুর্বব্যবহারসহ নানা হয়রানি ও ষড়যন্ত্র করে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে ও গোপন সূত্রে জানা যায়, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোয়েতাছুর রহমান হুমায়ুন প্রতি ওএমএস ডিলার থেকে চাল প্রতি কেজিতে ২ টাকা ও গমের আটা প্রতি কেজি থেকে ৪ টাকা করে অবৈধ আর্থিক সুবিধা নিয়ে থাকেন। ওএমএস ডিলারের একজন প্রতিনিধি চালের ঘুষের টাকা প্রতি মাসের শেষে ওএমএস ডিলারদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে দিয়ে থাকেন বলে কয়েকজন ডিলার এর সাথে কথা বলে জানা যায়।
অপরদিকে, গমের আটার ঘুষের টাকা মাসের শেষে সরাসরি মিলারের কাছ থেকে জেলা খাদ্য নিয়স্ত্রক নিয়ে থাকেন বলে জানা গেছে।
খোজ নিয়ে জানাগেছে, তিনি জেলার উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকদের কাছ থেকে খাদ্যশস্য ডিও থেকে প্রতি মেট্রিক টনে ১০০ টাকা এবং উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে ঘুষ নিচ্ছেন।
সরকারী নিয়মানুযায়ী প্রতি দুই বছর পর পর নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিতে হয়। কিন্তু জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সেই সরকারী নিয়মকে তোয়াক্কা না করে তিন মাস অন্তর অন্তর ঠিকাদারদের ধারাবাহিক চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করে চলছে। এর বিনিময়ে তিনি প্রত্যেক ঠিকাদারের কাছ থেকে ১০হাজার টাকা করে অবৈধ আর্থিক সুবিধা নিয়ে থাকেন। আর এই ঘুষের টাকা তিনি কারিগরী খাদ্য পরিদর্শক এর মাধ্যমে নিয়ে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জেলার সব গুদামে ঠিকাদার না থাকায় সকল গুদামের শ্রমিক বিল জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিজের নামে করে থাকেন এবং এই শ্রমিকের বিল থেকে তিনি শতকরা ১০ভাগ করে ঘুষের টাকা কর্তন করে রাখেন বলেও অভিযোগ রয়েছে তিনি গুদামের শ্রমিকদেরকেও সময়মত বিল দেননা।
এছাড়া, তিনি পরিবহণ ঠিকাদারদের বিল থেকেও শতকরা ১০ ভাগ টাকা ঘুষ হিসেবে কর্তন করে রেখে দিয়ে নিজের পকেটস্থ করে থাকেন।গোপন সূত্রের অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ময়মনসিংহ নগরীর বাঘমারায় একটি বাড়ি কিনেছেন দেড় কোটি টাকা দিয়ে। যা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা বেড়িয় আসবে।
খোজ নিয়ে জানা যায়, সরকারী নিয়মানুযায়ী মিলাররা গমের আটা মিল থেকে এনে জেলা সদরের খাদ্য গুদামে মজুদ করে গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা। কিন্তু মিলাররা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের সাথে যোগসাজশ করে সরকারী নির্দেশনা লঙ্ঘন করে তারা তাদের মিল থেকে সরাসরি ওএমএস এর দোকানে আটা সাপ্লাই দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা যায়,সরকারী নিয়মানুযায়ী মিলাররা গমের আটা মিল থেকে এনে জেলা সদরের খাদ্য গুদামে মজুদ করেগুদামে র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা কিন্তু মিলার রা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের সাথে যোগসাজশ করে সরকারী নির্দেশনা লঙ্ঘন করে তারা তাদের মিল থেকে সরাসরি ও এমএস এর দোকানে আটা সাপ্লাই দিচ্ছেন ফলে গমের আ টা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া নিম্ন মানের আটা সাপ্লাই দিচ্ছেন মিলারগণ।
খোজ নিয়ে জানা গেছে যে,সর্ম্পূণ নিয়ম বহির্ভূতভাবে জে লা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোয়েতাছুর রহমান হুমায়ুন ওএমএস ডিলারদের প্রতিটি ওএমএস কেন্দ্রে ডিলারদের নিজ খরচে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করতে বাধ্য করেন এবং সেইসব সিসিটিভি ক্যামেরা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিজের ব্যাক্তিগত মোবা ইল ফোনের এপস ও ল্যাপটপ কম্পিউটারের মাধ্যমে পর্য বেক্ষণ করে থাকেন।মূলত:ডিলাররা যাতে খাদ্যনিয়ন্ত্রককে নিয়মিত ঘুষের টাকা প্রদান করেন সেজন্য এই সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে বলে সকলেই ধারণা করছেন। এতে বাড়তি টাকা খরচ করতে হয়েছিল বলে ডিলারদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বলেছেন,ওএমএস কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থা পন করার জন্য সরকারী কোন নির্দেশনা আছে বলে তাঁর জানা নেই।
এছাড়া ডিলারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, ওএমএস এর সকল ডিলারগণ গুদাম থেকে মাল উত্তোলনের সময় গুদামে আসেননা। তারা সরকারী নিয়ম না মেনে তাদের প্রতিনিধি অর্থাৎ ডিলার প্রতিনিধিদের দিয়ে মাল উত্তোলন করে থাকেন বলে বলেছেন খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মক র্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্র মতে,নেত্রকোনা বিভিন্ন উ পজেলা ও জেলা সদরে পৌরসভা এলাকায় মোট ওএমএ স ডিলার এবং ওএমএস কেন্দ্র রয়েছে
অফিস খোলার দিনে ওএমএস কেন্দ্র গুলিতে প্রতি সপ্তাহে ৫দিন চাল ও গমের আটা বিক্রি করা হয়। এতে চাল প্রতি কেজি ৩০ টাকা ও গমের আটা প্রতি কেজি ২৪ টাকা করে সরকারীভাবে দর ধার্য করা হয়েছে। ওএমএস কেন্দ্রে বিক্রির জন্য প্রতিদিন প্রত্যেক ডিলারকে প্রতি দিন ১ মেট্রিক টন চাল ও ১মেট্রিক টন গমের আটা প্রদান করা হয়ে থাকে এতে গমের আটা সাপ্লাই দিচ্ছেন জেলার দুইজন মিলার।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোয়েতাছুর রহমান হুমায়ুন গত আও য়ামীলীগ সরকারের আমলে মন্তী ওএমপিদের সাথে মিশে দুর্নীতির মাধ্যামে কোটি,কোটি টাকা কামিয়েছেন জানাযায় তিনি সঠিক আয়কর দেন না।
অভিযোগের বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোয়েতাছুর রহ মান হুমায়ুনের এর কাছে জানতে বার বার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভি করেনি।জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বিরুদ্ধে সীমাহীন অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়ে ক্ষুদে বার্তায় পাঠানো হলেও তিনি জবাব দেয়নি।পাল্টা পাল্টি অভিযোগের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
অপরদিকে টাংগাইল,গাজীপুর,কিশোরগঞ্জ,শেরপুর খাদ্য বিভাগে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে উঠেছে।