প্রথম বাংলা : ময়মনসিংহের চরপাড়া এলাকায় জনতা ব্যাংক পিএলসি. এক কর্মকর্তার ওপর নির্মাণ কাজে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হামলার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সাইফুলকে আটক করেছে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ। আটক সাইফুল স্থানীয় প্রভাবশালী চাঁদাবাজ চক্রের সদস্য বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, জনতা ব্যাংক চরপাড়া শাখার কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম নিজ বাড়িতে নির্মাণ কাজ করছিলেন। গত সপ্তাহে আটক সাইফুলসহ কয়েকজন যুবক তার কাছে এসে মাসিক চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দেওয়ায় তারা নির্মাণ সামগ্রী ভাঙচুর করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
গত মঙ্গলবার দুপুরে নজরুল ইসলাম কাজ তদারকি করতে গেলে সাইফুলের নেতৃত্বে ৫-৬ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। হামলায় তিনি মাথা ও হাতে আঘাত পেয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীর স্ত্রী কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অফিসার ইনচার্য (ওসি) শিবিরুল ইসলামের নির্দেশে থানার এসআই রাকিবুল হাসানের নেতৃত্বে একটি দল অভিযান চালিয়ে বুধবার রাতে চরপাড়া বাজার এলাকা থেকে মূল আসামী সাইফুল ওরফে সাইফুল মিয়া ৩২ কে আটক করে। আটকৃতের কাছ থেকে হামলায় ব্যবহৃত লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
ওসি শিবিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, “চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। আটক সাইফুলের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৩, ৩৭৯ ও ৫০৬ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তার অন্য সহযোগীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “নিজের জমানো টাকায় বাড়ি করছিলাম। চাঁদা না দেওয়ায় আমার স্বপ্ন ভেঙে দিল। আমি প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার চাই। সন্ত্রাসীরা যেন আর কারো ক্ষতি করতে না পারে।
ঘটনার পর চরপাড়া এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা চাঁদাবাজদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এলাকাবাসী জানান, সাইফুল দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নির্মাণ কাজে বাধা দিয়ে চাঁদা আদায় করে আসছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক সাইফুলকে আজ আদালতে পাঠানো হবে। পাশাপাশি এলাকায় চাঁদাবাজি রোধে নিয়মিত টহল বাড়ানো হয়েছে।