June 4, 2026, 3:14 am
শিরোনামঃ
নেত্রকোনায় পাওনা টাকার দ্বন্দ্বে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কু’পিয়ে হ’ত্যা কালিয়াকৈরে ৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকায় চার গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন কেন্দুয়ায় পৌর শহরে “চার বোন” ও তার “মা” জীবন হুমকির আতংকে, নিরাপত্তা চায় ফিটনেসবিহীন ও লাইসেন্সবিহীন যানবাহনে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা, মোটা অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার আসহাব উদ্দিন চৌধুরী’র মায়ের জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন ২.০ সফল করতে শাহজা লাল বিমানবন্দর দখলে রাখার ঘোষণা গেরিলা বাহিনীর. আয়মান হোসেন অপু” দেশবাসীকে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ শুভেচ্ছা ঈদের জামাত ও ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তায় ডিএমপি বহুমাত্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে: ডিএমপি কমিশনার ময়মনসিংহ জেলায় কর্মরত আউটসোর্সিং সদস্যদের মাঝে পবিত্র ঈদ উল আযহা উপলক্ষে ঈদ উপহার পুনাকের সামগ্রী বিতরণ “ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো যাত্রীদের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার কর্তৃক বিভিন্ন থানা ও মহাসড়ক পরিদর্শন
নোটিশঃ
আপনার আশেপাশের ঘটে যাওয়া খবর এবং আপনার ব্যবসার বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য যোগাযোগ করুন মানবাধিকার খবরে।

তানোরে ভুয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির দৌরাত্ম্য পুকুর ইজারা নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

Reporter Name


মমিনুল ইসলাম মুন স্টাফ রিপোর্টার :

রাজশাহীর তানোর উপজেলায় জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি নিবন্ধন করে সরকারি খাস পুকুর দখল ও ইজারা নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিন অনুসন্ধান ও মৎস্যজীবী কার্ডধারীদের তথ্য যাচাই-বাছাই করলে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত মৎস্যজীবীদের বাদ দিয়ে প্রভাবশালী মহল ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র, ভুয়া মৎস্যজীবী কার্ড ও জাল উপ-আইনের মাধ্যমে সমিতি নিবন্ধন করে পুকুর ইজারা নিচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে একটি চক্র এসব ভুয়া সমিতির অনুমোদন নিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে অদৃশ্য বা ভুয়া এনআইডি ব্যবহার করে সমিতির সদস্য দেখানো হয়েছে। ফলে প্রকৃত দরিদ্র মৎস্যজীবীরা বঞ্চিত হচ্ছেন, আর তাদের নাম ব্যবহার করে বিত্তশালীরা আরও প্রভাবশালী হয়ে উঠছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এই জালিয়াতির সঙ্গে উপজেলা ও জেলা সমবায় কার্যালয়ের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত থাকতে পারেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি সমিতির নিবন্ধনের জন্য টেবিলেই প্রায় ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে অনুমোদন দেওয়া হয়। তথ্য গোপন করে নিবন্ধন নেওয়ায় সরকার লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লাখ টাকার পুকুর মাত্র ২০ হাজার টাকায় ইজারা দেওয়া হচ্ছে। অথচ উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ইজারা দিলে সরকারের আয় কয়েকগুণ বাড়তে পারত।

নিয়ম অনুযায়ী, একটি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি গঠনে অন্তত ২০ জন প্রকৃত মৎস্যজীবীর সদস্যপদ ও বৈধ কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, অনেক সমিতিতে এই শর্ত মানা হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে সদস্যদের অধিকাংশই সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা নন এবং অন্য পেশায় নিয়োজিত।

স্থানীয়রা জানান, তানোর উপজেলায় মোট ৩২টি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি রয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি সমিতিতে প্রকৃত মৎস্যজীবীর অস্তিত্ব নেই বলেই অভিযোগ উঠেছে। এসব সমিতির মধ্যে বিল্লী, কিসমত বিল্লী, চাকুইট, জৌতগরীব পশ্চিমপাড়া, দুর্গাপুর জৌতজীবন, আশার আলো, বনলতা, মধুমতি, নীল সাগর, একতা ও পদ্মফুল মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নাম উল্লেখ করেছেন স্থানীয়রা।

একাধিক সূত্রের দাবি, জেলা সমবায় কার্যালয়ের এক অফিস সহায়ক এবং তানোর উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের এক কর্মচারী এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন।

এ বিষয়ে তানোর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা নাদিম অর্থ লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কোনো সমিতির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, মৎস্যজীবী নির্ধারণের দায়িত্ব মৎস্য বিভাগের।

অন্যদিকে রাজশাহী জেলা সমবায় কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন ইসলাম বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তার জানা নেই। তবে কেউ ভুয়া তথ্য বা জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে লাইসেন্স নিয়ে থাকলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে সচেতন মহল দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।



Our Like Page
Developed by: BD IT HOST