প্রথম বাংলা – নোট ও গাইডবই বিক্রি করে বড় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়া তিন পাবলিকেশন্স পাঞ্জেরী,লেকচার ও পপির আয়-ব্যয়ের তথ্যে গরমিল,বিপুল সম্পদ ও কর ফাঁকির অভিযোগ তদন্ত করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুরোধে প্রতিষ্ঠান তিনটির বিষয়ে এই অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে এনবিআর সূত্রে জানা গেছে।
দেশে নোট ও গাইডবই প্রকাশ এবং বিক্রি করা অবৈধ। তারপরও চোখের সামনে দেদার নোট ও গাইডবই প্রকাশ করে যাচ্ছে বড় পাবলিকেশনগুলো। তাদের এই পুরো অবৈধ ব্যবসায়িক কার্যক্রম ‘ওপেন সিক্রেট’ হলেও তা নির্মূলে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এবার পাবলিকেশনগুলোর অবৈধ ব্যবসা এবং এর পেছনে বিপুল সম্পদের খোঁজে নেমেছে দুদক। সংস্থাটির সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানে ২২টি বড় পাবলিকে শন্সের নানান অনিয়মের তথ্য পাওয়া যায়। বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের বিষয়টি ধরা পড়ায় এর মধ্যে তিনটি পাবলিকেশন্স—পাঞ্জেরী, লেকচার ও পপিকে অধিকতর অনুসন্ধানের জন্য বাছাই করা হয়।
দুদকের অনুসন্ধানে প্রতিষ্ঠান তিনটির বিগত কয়েক বছরে র আয়-ব্যয়ের হিসাব বিবরণী,অডিট রিপোর্ট,আয়কর রিটার্ন, ব্যাংক হিসাব ও অন্যান্য রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করা হয়। এতে দেখা যায়,ওই সব প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব বিবরণী অনুযায়ী,অডিট রিপোর্ট দেখানো বিক্রির পরিমাণের চেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে।অথচ প্রতিষ্ঠান গুলো আয়কর ফাঁকি দিতে রিটার্নে বিক্রি কম দেখিয়ে ব্যবসায় লোকসান দেখিয়েছে। তাই দুদক মনে করে, কর বিভাগের অনুসন্ধানের পরই এর আসল রহস্য বের হয়ে আসবে। সে জন্য সংস্থাটি ১১ মে এনবিআর চেয়ারম্যান বরাবর চিঠি দিয়ে পাবলিকেশন্স তিনটির আয় ও সম্পদ লুকানো এবং কর ফাঁকির বিষয়টি অনুসন্ধানের পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করে।
দুদকের চিঠি পেয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান সংশ্লিষ্ট কর বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ দিয়েছেন। এখন কর বিভাগ প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়-ব্যয় ও সম্পদের খোঁজে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেছে।
এনবিআরের কর বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘দুদকের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে তিনটি পাবলিকেশন্সের বিরুদ্ধে অধিকতর অনুসন্ধানের জন্য এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়-ব্যয় ও সম্পদের তথ্য যাচাই করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’
ছবি, সংগৃহীত