July 10, 2026, 3:32 pm
শিরোনামঃ
ধোবাউড়ায় শিশুকে দলবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে ৯নং কুশাখালী ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন এ আলোচনার শীর্ষে হাজী আবুল কাসেম একসঙ্গে ১০ ডিসির পদোন্নতি বনানীতে ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে হাতেনাতে এক ছিনতাইকারীকে আটক করেছে ট্রাফিক পুলিশ ময়মনসিংহ নগরীর কৃষ্টপুর ও বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসা জমজমাট সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে যৌথ অভিযানে পরিত্যক্ত বাস অপসারণ, সরানো হলো আরও ৪২টি পার্কিং করা বাস কৃষির বিভাগের ‘পার্টনার’ প্রকল্প: বড় প্রকল্পে হাজার কোটির অনিয়ম শাহজাদপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন; এনসিপির সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণ: আ.লীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ২ ট্রেনে পাসপোর্ট, প্লেনেরটিকেট সহ ব্যাগ রেখে নেমে গেলেন বিদেশযাত্রী, ৯৯৯ নম্বরে ফোনে আধাঘন্টায় উদ্ধার
নোটিশঃ
আপনার আশেপাশের ঘটে যাওয়া খবর এবং আপনার ব্যবসার বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য যোগাযোগ করুন মানবাধিকার খবরে।

ধোবাউড়ায় শিশুকে দলবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

Reporter Name

প্রথম বাংলা : ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় পাঁচ বছরের এক শিশুকে দলবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় চার আসামির মধ্যে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর এক অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিকে সাড়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ঘটনার মাত্র ২৪ দিনের মাথায় এবং মাত্র ১০ কার্যদিবসের মধ্যে এই চাঞ্চল্যকর মামলার বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নজিরবিহীন ও দৃষ্টান্তমূলক রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। দন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, আরিফ, রাকিব ও সায়েম এবং মারুফ মিয়া।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে ময়মনসিংহের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল পৃথকভাবে এই রায় ঘোষণা করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আসামি আরিফ, রাকিব ও সায়েমকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা মোতাবেক মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে, যা ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারকে প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সুদীপ্তা সরকার এই রায় প্রদান করেন।

অন্যদিকে, অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামি মারুফ মিয়াকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং দণ্ডবিধির ২০১ ধারা মোতাবেক আরও আড়াই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মেছবাহ উদ্দিন আহমেদ এই রায় ঘোষণা করেন। রায় অনুযায়ী, দুটি দণ্ডই একসঙ্গে কার্যকর হবে। মারুফ যতদিন অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকবে, ততদিন তাকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে রাখা হবে এবং পরবর্তীতে সাধারণ কারাগারে স্থানান্তর করা হবে।

আদালত সূত্রে আরও জানা গেছে, আসামি পক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় আদালত রাষ্ট্রপক্ষের একজন আইনজীবী নিযুক্ত করে দেন। অত্যন্ত দ্রুততার সাথে মোট ১০ কার্যদিবসে ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন করার পর আদালত এই চূড়ান্ত রায় দেন।

উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন বিকেলে স্থানীয় বাজার থেকে চিপস কিনে বাড়ি ফেরার পথে কদম ফুল দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে কংস নদের পাড়ে একটি জঙ্গলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ করে চার তরুণ। এরপর তাকে জীবিত অবস্থায় নদীতে ফেলে এবং পানির নিচে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করে মরদেহ তলদেশে পুঁতে রাখে। ঘটনার দিন রাতেই মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ এবং মাত্র ৯ দিনের মাথায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটর) রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মাত্র ২৪ দিনের মধ্যে এত দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়া একটি নজিরবিহীন ঘটনা। এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ এবং ভিকটিমের পরিবার সম্পূর্ণরূপে সন্তুষ্ট। আমরা আশা করি এই দৃষ্টান্তমূলক রায় সমাজে অপরাধীদের জন্য একটি বড় বার্তা হিসেবে কাজ করবে।



Our Like Page
Developed by: BD IT HOST