June 4, 2026, 4:25 am
শিরোনামঃ
নেত্রকোনায় পাওনা টাকার দ্বন্দ্বে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কু’পিয়ে হ’ত্যা কালিয়াকৈরে ৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকায় চার গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন কেন্দুয়ায় পৌর শহরে “চার বোন” ও তার “মা” জীবন হুমকির আতংকে, নিরাপত্তা চায় ফিটনেসবিহীন ও লাইসেন্সবিহীন যানবাহনে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা, মোটা অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার আসহাব উদ্দিন চৌধুরী’র মায়ের জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন ২.০ সফল করতে শাহজা লাল বিমানবন্দর দখলে রাখার ঘোষণা গেরিলা বাহিনীর. আয়মান হোসেন অপু” দেশবাসীকে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ শুভেচ্ছা ঈদের জামাত ও ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তায় ডিএমপি বহুমাত্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে: ডিএমপি কমিশনার ময়মনসিংহ জেলায় কর্মরত আউটসোর্সিং সদস্যদের মাঝে পবিত্র ঈদ উল আযহা উপলক্ষে ঈদ উপহার পুনাকের সামগ্রী বিতরণ “ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো যাত্রীদের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার কর্তৃক বিভিন্ন থানা ও মহাসড়ক পরিদর্শন
নোটিশঃ
আপনার আশেপাশের ঘটে যাওয়া খবর এবং আপনার ব্যবসার বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য যোগাযোগ করুন মানবাধিকার খবরে।

পরিসংখ্যান দপ্তরের তথ্য বিভ্রাটে মেহেন্দিগঞ্জে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি থেকে বঞ্চিত প্রায় ৩৬ হাজার শিশু

Reporter Name

মাজহারুল ইসলাম।।বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় পরিসংখ্যান দপ্তরের তথ্যগত গাফিলতি ও ভুল ডাটা এন্ট্রির কারণে সরকারি স্কুল ফিডিং ও পুষ্টি সহায়তা কর্মসূচি থেকে প্রায় ৩৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বঞ্চিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে এই বঞ্চনা চললেও বিষয়টি সম্প্রতি স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক উদ্বেগ ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
কীভাবে সংকটের সৃষ্টি
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২-এর সময় মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার শিশুদের প্রকৃত সংখ্যা সঠিকভাবে অন্তর্ভুক্ত ও ডাটা এন্ট্রি করা হয়নি। সেই ত্রুটিপূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP)-এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত স্কুল ফিডিং প্রকল্পের বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়।
ফলে উপজেলায় প্রকৃত শিক্ষার্থী সংখ্যার তুলনায় অনেক কম সংখ্যা দেখানো হয় এবং বহু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রকল্প তালিকার বাইরে পড়ে যায়।
বঞ্চিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও প্রভাব
উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে অধ্যয়নরত প্রায় ৩৬ হাজার শিশু বর্তমানে পুষ্টিকর খাবার সরবরাহের এই কর্মসূচির আওতায় নেই।তারা নিয়মিত যে উচ্চ পুষ্টিমান সম্পন্ন বিস্কুট,ডিম,দুধ ও অন্যান্য খাবার পাওয়ার কথা ছিল,তা থেকে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত হচ্ছে।
শিক্ষক ও অভিভাবকরা বলছেন,উপকূলীয় ও দুর্গম এলাকা হওয়ায় মেহেন্দিগঞ্জের বহু পরিবারের শিশুদের জন্য স্কুল ফিডিং কর্মসূচিই ছিল নিয়মিত পুষ্টির অন্যতম ভরসা। এই সহায়তা বন্ধ থাকায় শিশুদের
শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া
পড়াশোনায় মনোযোগ ও উপস্থিতি কমে যাওয়ার
আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বক্তব্য
স্থানীয় শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়,
> “স্কুল ফিডিং প্রকল্পের বরাদ্দ পুরোপুরি পরিসংখ্যান দপ্তর থেকে পাঠানো তথ্যের ওপর নির্ভরশীল।মেহেন্দিগঞ্জের ক্ষেত্রে প্রাপ্ত তথ্যে গরমিল থাকায় বাজেট ও খাদ্য বরাদ্দে বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে।”
পরিসংখ্যান দপ্তরের তথ্য সংশোধন না হওয়ায় নির্ধারিত সময়েও অনেক বিদ্যালয়ে ফিডিং কার্যক্রম পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হয়নি।
বর্তমান অবস্থা ও সংশোধনী উদ্যোগ
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনায় বর্তমানে সারাদেশে ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি (পর্যায়–১)’ প্রকল্পের আওতায় নতুন করে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। মেহেন্দিগঞ্জে এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তথ্য সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়—
২০২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে
বিদ্যালয়ভিত্তিক প্রকৃত শিক্ষার্থী সংখ্যা মাঠপর্যায়ে যাচাই করা হচ্ছে
সংশোধিত তালিকা দ্রুত ঊর্ধ্বতন দপ্তরে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে
এই সংশোধন সম্পন্ন হলে বাজেট পুনঃসমন্বয়ের মাধ্যমে বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের কর্মসূচির আওতায় আনার সম্ভাবনা রয়েছে।
জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলের প্রতিক্রিয়া
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অভিভাবক ও সচেতন মহল দ্রুত পরিসংখ্যান সংশোধন করে প্রকল্পের বরাদ্দ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।তাঁদের মতে,প্রশাসনিক ভুলের দায় কোনোভাবেই শিশুদের ওপর বর্তানো উচিত নয়।
উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন পরিকল্পনাতেও এই তথ্য বিভ্রাটকে একটি বড় সীমাবদ্ধতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।
উপসংহার
মেহেন্দিগঞ্জে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি থেকে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী বঞ্চিত হওয়ার ঘটনা তথ্য ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতার একটি গুরুতর দৃষ্টান্ত।দ্রুত ও সঠিকভাবে পরিসংখ্যান সংশোধন না হলে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব শিশুদের স্বাস্থ্য,শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে—এমন আশঙ্কাই এখন স্থানীয়দের।



Our Like Page
Developed by: BD IT HOST