প্রথম বাংলা : ময়মনসিংহে ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণে কমিশন দাবির অভিযোগ, সার্ভেয়ার মালেককে ঘিরে প্রশ্ন
ময়মনসিংহে ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণে কমিশন দাবির অভিযোগ, সার্ভেয়ার মালেককে ঘিরে প্রশ্ন
ময়মনসিংহে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা জমির ক্ষতিপূরণের অর্থ ছাড়কে কেন্দ্র করে ঘুষ বা ‘কমিশন’ দাবির অভিযোগ উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজন জমির মালিকের অভিযোগ, ক্ষতিপূরণের চেক পেতে তাদের কাছ থেকে নির্ধারিত হারে কমিশন দাবি করা হচ্ছে। এ অভিযোগের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার সার্ভেয়ার মালেকের নামও উঠে এসেছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, আইনানুগভাবে পাওনা ক্ষতিপূরণের অর্থ পেতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা ও নথি যাচাইসহ নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরও চেক ছাড়ের ক্ষেত্রে তাদের নানা ধরনের হয়রানি ও জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষতিপূরণের অর্থের পরিমাণ অনুযায়ী কথিত কমিশনের হার নির্ধারণের কথাও বলা হচ্ছে।
প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষতিপূরণের চেক নিয়ে অভিযোগ :
সম্প্রতি প্রায় এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের একটি চেক ছাড়ের বিষয়েও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, ওই চেক ছাড়ের ক্ষেত্রে কয়েক শতাংশ হারে কমিশন চাওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এলএ শাখার সার্ভেয়ার মালেকের নামও তারা উল্লেখ করেছেন।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ক্ষতিপূরণের অর্থের পরিমাণ বেশি হওয়ায় কথিত কমিশনের অঙ্কও বড় হয়ে দাঁড়ায়। ফলে জমি হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর প্রাপ্য অর্থ পেতে অতিরিক্ত অর্থের দাবির অভিযোগ তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
তবে অভিযোগের পক্ষে কোনো অর্থ লেনদেনের প্রমাণ, লিখিত অভিযোগ বা সংশ্লিষ্ট নথি এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের চেক পেতে কমিশন দাবির অভিযোগ নতুন নয়। বিভিন্ন সময়ে সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে অননুমোদিত অর্থ চাওয়ার অভিযোগ উঠলেও এসব অভিযোগের যথাযথ তদন্ত ও দায় নির্ধারণ হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
তাদের অভিযোগ, নথি যাচাই ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরও চেক ছাড়ের প্রক্রিয়ায় বিলম্ব কিংবা অপ্রয়োজনীয় জটিলতা তৈরি হলে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের আর্থিক ও মানসিক চাপ বাড়ে।
অভিযোগকারীরা সার্ভেয়ার মালেকের ভূমিকা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ক্ষতিপূরণের চেক ছাড়ের সাম্প্রতিক ফাইল, আবেদন নিষ্পত্তিতে সময়, নথির গতিবিধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
তবে শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য, দাপ্তরিক নথি, আবেদনকারীদের অভিযোগ এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ যাচাই করা জরুরি।
সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের পর ক্ষতিগ্রস্ত মালিকদের আইনানুগ ক্ষতিপূরণ দেওয়া প্রশাসনের দায়িত্ব। এ প্রক্রিয়ায় নথি যাচাই, মালিকানা নির্ধারণ, ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নিরূপণ এবং অর্থ ছাড়ের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অননুমোদিত অর্থ দাবির অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা উচিত। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সেবাপ্রার্থীদের প্রাপ্য অর্থ দ্রুত নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে সার্ভেয়ার মালেকের বক্তব্য এবং ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে অভিযোগের বিষয়ে উভয় পক্ষের অবস্থান আরও স্পষ্ট হবে।
এখন প্রশ্ন হলো—ক্ষতিপূরণের চেক ছাড়ের ক্ষেত্রে কমিশন দাবির অভিযোগের সত্যতা কতটুকু? কোনো ব্যক্তি বা চক্র এর সঙ্গে জড়িত কি না এবং সরকারি ক্ষতিপূরণের অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে নিরপেক্ষ তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।