April 21, 2026, 1:41 pm
শিরোনামঃ
ঢাকার ৭ পাম্পে ‘ফুয়েল পাস’ বাধ্যতামূলক শান্তিপূর্ণ পরীক্ষা নিশ্চিত করতে ডিএমপির কড়া বিধিনিষেধ, যা যা জানা প্রয়োজন তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৬০ জন গ্রেফতার সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তিকে আরও শক্তিশালী করতে : আইজিপি অনলাইনে আয়ের প্রলোভনে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলাধীন টুপামারী জিয়া পুকুর পাড়ে দর্শনার্থীদের ভিড় ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগ, ফেব্রুয়ারি-২০২৬ সংক্রান্তে ব্রিফিং অনুষ্ঠিত বাকৃবিতে ছাত্রদল নেতাকে মারধরের অভিযোগ জামালপুরে মেলান্দহে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ মন্জুরুল কবির মঞ্জ সিএনজি স্ট্যান্ডে চাঁদা নিয়ে দ্বন্দ্ব, ময়মনসিংহে শ্রমিক দলের দু’পক্ষের সংঘর্ষ
নোটিশঃ
আপনার আশেপাশের ঘটে যাওয়া খবর এবং আপনার ব্যবসার বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য যোগাযোগ করুন মানবাধিকার খবরে।

সবাইকে দেশে ফিরতে হবে, নামতে হবে মাঠে’: শেখ হাসিনার

Reporter Name

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

বাংলাদেশের নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দলের ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নির্ধারণের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের (ওয়ার্কিং কমিটি) এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে অনুষ্ঠিত এই গোপন বৈঠকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দলের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতাদের উদ্দেশে এক সুস্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তিনি শীর্ষ নেতাদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘মানসিক এবং অন্যান্য প্রস্তুতি নিন। এবার সবাইকে দেশে ফিরতে হবে। নামতে হবে দেশের ময়দানে।’

দলীয় সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর এক প্রেসিডিয়াম সদস্যের বাসায় চরম গোপনীয়তার মধ্যে ওয়ার্কিং কমিটির এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা দিল্লি থেকে ভার্চুয়ালি এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। সভায় ওয়ার্কিং কমিটির সকল সদস্য বক্তব্য রাখেন। এছাড়া কমিটির সদস্য না হওয়া সত্ত্বেও বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী নেতা সভায় উপস্থিত ছিলেন এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। বৈঠকে নেতারা নিজ নিজ এলাকার বর্তমান রাজনৈতিক ও মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি দলীয় প্রধানের সামনে বর্ণনা করেন।

বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল দেশে সদ্য অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচন। শেখ হাসিনা এই নির্বাচনকে সম্পূর্ণ ‘প্রহসন ও সাজানো নাটক’ বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগের ভোট বর্জনের আহ্বানে দেশের মানুষ ব্যাপক সাড়া দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের দাবি করা ৬০ শতাংশ ভোটারের উপস্থিতির হিসাব কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের দ্বিমুখী ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘বেশ কয়েকজন পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে বলে গেছেন খুব ভালো নির্বাচন হয়েছে। তারাই আবার নিজের দেশে ফিরে গিয়ে রিপোর্ট দিয়েছেন যে, নির্বাচনের নামে এক সাজানো নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে।’ এমন দ্বিমুখী মানুষের ভরসায় বসে না থেকে এই নির্বাচন কেন প্রহসন—তার উপযুক্ত প্রমাণ ও ব্যাখ্যা জনগণের কাছে তুলে ধরার জন্য দলের নেতাদের নির্দেশ দেন তিনি।

বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন নেতা দলের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি উত্থাপন করেন। জবাবে শেখ হাসিনা দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, এই নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ অবৈধ। এর পেছনে দুটি কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রথমত, আওয়ামী লীগ এমন কোনো অপরাধ করেনি যার জন্য সন্ত্রাস দমন আইনে দলটির কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যায়। দ্বিতীয়ত, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারটি নিজেই একটি অবৈধ সরকার ছিল, তাই তাদের দেওয়া নির্দেশও আইনত বৈধ হতে পারে না।

বর্তমান সরকার অবিলম্বে আওয়ামী লীগের ওপর থেকে এই ‘অবৈধ নিষেধাজ্ঞা’ প্রত্যাহার করে নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা না হলে আওয়ামী লীগ নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত নেবে এবং রাজপথের কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন শেখ হাসিনা।

বৈঠকে শেখ হাসিনা যেভাবে নেতাদের দেশে ফিরতে মানসিক ও অন্যান্য প্রস্তুতি নিতে বলেছেন, তাতে দলের অনেক নেতার ধারণা—খুব শিগগিরই হয়তো দলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। আর এর মাধ্যমেই আওয়ামী লীগ পুনরায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে ও রাজপথে সক্রিয় হওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে।



Our Like Page
Developed by: BD IT HOST