নিজস্ব প্রতিবেদক :
দেশের মানুষ যখন প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে সংবাদপত্র খুলে দেখে, গত রাতে কতজন মানুষ অপহৃত হয়েছে, কতজন নিখোঁজ, কতজন ফিরে এসেছে মৃতদেহ হয়ে – আর ভাবে : এই দেশটা কোথায় যাচ্ছে? কে এই দেশকে এমন পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে? উত্তরটা জানা থাকলেও মুখে বলা যায় না। কারণ, যারা এই দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে তাদের হাতে রয়েছে ক্ষমতা — অবৈধভাবে দখল করা ক্ষমতা।
গত এক বছরে দেশে অপহরণের হার দ্বিগুণ হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে অপহৃত হয়েছে ৭১৫ জন। গত বছর এই সময়ে সংখ্যাটা ছিল ৩৪০। জুলাই মাসে একাই অপহৃত হয়েছে ১০৯ জন — যা গত ছয় বছরের মধ্যে একক মাস হিসেবে সর্বোচ্চ। এই সংখ্যাগুলো শুধু পরিসংখ্যান নয়, এগুলো মানুষের জীবন, মানুষের আতঙ্ক, মানুষের অশ্রু। প্রতিটা সংখ্যার পেছনে রয়েছে একেকটা পরিবারের ধ্বংস, একেকটা মা-বাবার হাহাকার, একেকটা সন্তানের ভবিষ্যতের অন্ধকার। কিন্তু যারা এই দেশ শাসন করছে, তাদের কাছে এই সংখ্যাগুলো মাত্র কিছু ডেটা, যা তারা ব্যবহার করবে তাদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য, তাদের ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য।
কিন্তু কেন এমন হচ্ছে? কেন দেশের আইন-শৃঙ্খলা এমন ভেঙে পড়েছে? কেন মানুষের জীবনের মূল্য এত সস্তা হয়ে গেছে? কারণটা কারো অজানা না। গত জুলাই মাসে দেশজুড়ে যে দাঙ্গা বাধানো হয়েছিল, তা ছিল পরিকল্পিত, সংগঠিত, এবং এর পেছনে ছিল বিদেশি টাকা, ছিল জেহাদি জঙ্গি সংগঠনের সহায়তা, ছিল সেনাবাহিনীর সমর্থন। সেই দাঙ্গার মাধ্যমে দেশের নির্বাচিত সরকারকে ক্যু করে ফেলে দেওয়া হয়েছে। ক্ষমতা দখল করা হয়েছে অবৈধভাবে। আর সেই থেকে দেশটা একটা অন্ধকার গহ্বরে ডুবে যাচ্ছে।
যারা এই ক্যু করেছে, তাদের নেতা হলেন সুদী মহাজন ইউনুস – যিনি নিজেকে দেশের ত্রাতা বলে প্রচার করেন, কিন্তু আসলে তিনি দেশেরই সবচেয়ে বড় শত্রু। তার সঙ্গে রয়েছেন সেনাপ্রধান ওয়াকার – যিনি সেনাবাহিনীর সম্মানকে মলিন করেছেন, সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করেছেন নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য। এই দুইজন মিলে দেশকে এমন এক জায়গায় নিয়ে গেছে, যেখানে আইনের শাসন বলে কিছু নেই, যেখানে মানুষের জীবনের কোনো মূল্য নেই, যেখানে অপহরণ, খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি – এসবই হয়ে উঠেছে দৈনন্দিন জীবনের অংশ।
অপহরণের পেছনে যে কারণগুলো কাজ করে, তার মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক শত্রুতা, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি — কিন্তু সবচেয়ে বড় কারণটা হলো অর্থ। দেশে বেকারত্ব বেড়েছে, মানুষের হাতে কাজ নেই, উপার্জন নেই। এক লাখ সত্তর হাজার মানুষ গত এক বছরে বেকার হয়ে গেছে। যখন মানুষের হাতে টাকা থাকে না, যখন পরিবার চালানো দায় হয়ে পড়ে, তখন তারা অপরাধের পথ বেছে নেয়। কিন্তু এই অপরাধের সুযোগ করে দিচ্ছে যারা, তারা হলো সেই ইউনুস, সেই ওয়াকার, সেই সব রাজনীতিবিদ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা, যারা দেশকে তাদের স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা প্রতি মাসে অপরাধের তথ্য প্রকাশ করে, যাতে অপরাধের ‘ট্রেন্ড’ বোঝা যায়। কিন্তু এই ট্রেন্ড দেখে কী উপকার? যখন দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিজেরাই অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে, যখন তারা রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার হয়, তখন এই ট্রেন্ডের কোনো মূল্য থাকে না। মানবাধিকার সংগঠন আসকের চেয়ারম্যান জেড আই খান পান্না সঠিক কথাই বলেছেন: “এখন দেশে আইন নেই, আইনের শাসনও নেই। ফলে অপরাধও কমেনি, বরং বেড়েছে।”
দেশের মানুষ আজ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। তারা জানে না, কখন তাদের সন্তান স্কুল থেকে ফিরবে না, কখন তাদের স্বজন অপহৃত হবে, কখন তাদের বাড়িতে হানা দেবে চাঁদাবাজরা। এই আতঙ্কের জন্য দায়ী সেই ইউনুস, সেই ওয়াকার, সেই সব মানুষ যারা দেশকে তাদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য ব্যবহার করছে। তারা দেশের সম্পদ লুটে খাচ্ছে, দেশের মানুষকে শোষণ করছে, দেশের ভবিষ্যতকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।