৮ নভেম্বরের মধ্যে সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবি; সাংবাদিকদের জাতীয় ঐক্যের আহ্বান।
মোঃ টিপু সুলতান-স্টাফ রিপোর্টার:
মাদক, অস্ত্র, চোরাচালানসহ বিভিন্ন মামলায় কাউকে আটক করা হলে অনেক সময় তার ছবি বা পরিচয় প্রকাশের ক্ষেত্রে নানা ধরনের বিধিনিষেধ দেখা যায়। অথচ কোনো সাংবাদিককে আসামি করে আটক করা হলে হ্যান্ডকাফ পরানো, পিছমোড়া করে দড়ি বাঁধা এবং সেই অবস্থায় ছবি তোলার মতো ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনের আচরণ নিয়ে। সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রশাসনের এই ‘প্রেমের’ তফাৎ নিয়েই এখন জোরালো আলোচনা চলছে।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, সাংবাদিক আসামি হলে মামলা গ্রহণে প্রশাসনের তৎপরতার কোনো ঘাটতি দেখা যায় না।
কিন্তু কোনো সাংবাদিক বাদী হয়ে মামলা করতে গেলে পরিস্থিতি যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন। অভিযোগ গ্রহণ ও মামলা নথিভুক্ত করতে নানা ধরনের জটিলতা ও বিলম্বের অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি গাজীপুরের সাংবাদিক ফাতেমাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়েরের উদ্যোগ নেওয়া মামলাটি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ঘটনার তিন দিন পরও মামলা রেকর্ড হয়নি এবং কোনো আসামিকে আটক করা হয়নি। এ ঘটনায় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
সাংবাদিকদের একাংশের ভাষ্য, “সাংবাদিক আসামি হলে দ্রুত মামলা, আর সাংবাদিক বাদী হলে আসামি খুঁজে পাওয়া যায় না” এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই সাংবাদিকতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পারস্পরিক সম্পর্কের জন্য ইতিবাচক নয়।
তবে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে প্রতিহিংসার পরিবর্তে পুলিশ ও গণমাধ্যমের মধ্যকার সম্পর্ক আরও উন্নত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। দেশের স্বার্থে পুলিশ, প্রশাসন ও সাংবাদিকরা পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একসঙ্গে কাজ করবে এমন পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
৮ নভেম্বর ঘিরে সাংবাদিক সুরক্ষা আইনের প্রত্যাশা
সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবিতে ঘোষিত তিন মাসের আল্টিমেটামের সময়সীমা আগামী ৮ নভেম্বর ২০২৬ শেষ হওয়ার কথা উল্লেখ করে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে দ্রুত আইন প্রণয়নের প্রত্যাশা জানানো হয়েছে।
সাংবাদিকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের ক্ষেত্রে নানা ধরনের চাপ, হামলা, মামলা, হয়রানি ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ রয়েছে। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর আইন প্রণয়ন জরুরি।
তাদের প্রত্যাশা, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ আরও নিরাপদ ও সুরক্ষিত করা হবে।
সাংবাদিকদের মধ্যে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের চাপ ও প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলায় পেশাজীবীদের মধ্যে ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে। মত ও পথের পার্থক্য থাকলেও সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সাংবাদিকদের ভাষ্য, দেশের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপরাধ তুলে ধরাই গণমাধ্যমের দায়িত্ব। তাই সংবাদকর্মীদের প্রতিপক্ষ হিসেবে না দেখে তাদের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তোলা প্রয়োজন।
প্রতিহিংসা নয় পারস্পরিক শ্রদ্ধা, পেশাগত স্বাধীনতা ও জাতীয় স্বার্থে পুলিশ সাংবাদিকের সমন্বিত পথচলাই পারে একটি কার্যকর ও নিরাপদ গণমাধ্যম পরিবেশ নিশ্চিত করতে।