সীতাকুণ্ড প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দিন দিন বেড়েই চলছে সমুদ্র থেকে বালু উত্তোলন,ফসলি জমি কেটে মাটি বিক্রি ও পুকুর-দীঘি ভরাট,নিস্তব্ধ প্রশাসন। এছাড়া উপজে লার ৭নং কুমিরা ইউনিয়নের সমুদ্র উপকূল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। কুমিরা-সন্দ্বী প ফেরিঘাট সংলগ্ন এলাকা থেকে নির্বিচারে বালু উত্তোলনের ফলে ফেরিঘাট ব্রিজ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠে ছে। যে কোন সময়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কোন কোন ক্ষমতাসীন নেতা,শীপ ইয়ার্ড মালিকরা স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এমনটি করছেন বলে দাবী সাধারণ মানুষের। কুমিরা,আকিলপুর বীচ,বাড়বকু ণ্ড,গুলিয়াখালী সী-বিচসহ উপজেলার একাধিক এলাকায় বালু উত্তোলন চলছে বলে জানা যায়।
পাইপ বসিয়ে ড্রেজার দিয়ে সমুদ্র থেকে বালু উত্তো লনের বিষয়ে শিপব্রেকার্স মহসিন রেজা বলেন,নৌ- মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নেওয়া হয়েছে। কাগজপত্র চাওয়া হলে মূলত যে ডুকুমেন্টস তিনি পাঠিয়েছেন তা নৌ-মন্ত্রণালয়ের নয়। এছাড়া পরিবেশ অধিদপ্ত রের ছাড়পত্রও তিনি দেখাতে পারেননি।বাড়বকুণ্ডের জেএমআই কর্মকর্তা সোহেলকে মুঠোফোনে কল করে কিংবা হোয়াটসঅ্যাপে ম্যাসেজ করেও উত্তর পাওয়া যায়নি।সীতাকুণ্ড পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের পন্থিছিলা নামক স্থানে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পশ্চিম পাশে শত বছরের পুরনো সাগর দীঘি নামে খ্যাত বিশাল পুকুরটি রাতে দিনে ভরাটের কাজ চলছে প্রশাসনের নাকের ডগার উপর দিয়ে। এ বিষয়ে পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর বদিউল আলম জসীমকে মুঠোফোনে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এটি দীঘি বা পুকুর নয়,
নালজমি,ভরাট করতেছেন এস আলম গ্রুপ। দেখা শোনা করছি আমি। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বদিউল আলম জসীম একদি ন সময় নেয়, পরে আর যোগাযোগ করেননি। সম্প্র তি কুমিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোর্শেদ চৌধুরী বলেন,অবৈধ বালু উত্তোলনের ব্যাপারে আমি নিজে ফেসবুকে প্রতিবাদ জানিয়েছি,প্রশাস নের দৃষ্টি আকর্ষণ করি এমনকি উপজেলার মাসিক সমন্বয় সভায়ও জানিয়েছি তারপরও কেন বন্ধ হচ্ছে না বোধগম্য নয়।পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম উপ-পরিচালক (ডিডি) ফেরদৌস আনোয়ার বলেন,সমু দ্র থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন,ফসলি জমি কেটে মাটি বিক্রি বা ভরাট,পুকুর বা দীঘি ভরাট এগুলে কখনোই সরকার অনুমতি দেবে না। এসমস্ত বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন ইউএনও – এসিল্যা ন্ড। তিনি বলেন,মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে যে সকল ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এহেন গর্হিত কর্মকান্ড চালায় তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসনের এগিয়ে আসা উচিত।
কুমিরা,আকিলপুর,গুলিয়াখালী,সাগর দীঘি আরো ছোটবড় জমি কেটে মাটি বিক্রিকারী মাটি খেকোদে র কারণে অচিরে এসমস্ত এলাকাগুলো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য হারাবে,কুমিরা আলেকদিয়া,গুলিয়াখালী সহ বহু গ্রাম,নদীগর্ভে বিলীন হবে এসব গ্রামগুলো।
এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শাহাদাত হোসেন বলেন,যেখানেই অভিযোগ পাওয়া যাবে আমরা অভিযান চালাবো। ইতিমধ্যে আমরা অভিযোগ পেয়ে অভিযান পরিচালনা করেছি। তিনি বলেন, সংবাদকর্মীরা লিখলে আমাদের অভিযান চালাতে সুবিধা হয়।সরেজমিনে গেলে সাধারণ মানুষ ক্ষোভের সাথে বলেন,স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রশাসন এবং উপজেলা প্রশাসন আন্তরিক ও দায়িত্ব বান হলে অবৈধ বালু উত্তোলন,ফসলি জমি কেটে মাটি বিক্রি,পুকুর বা দীঘি ভরাট কখনোই সম্ভব নয়।