মো: সবুজ হোসেন রাজা,সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
প্রতিবেশীর কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে নিজের ভাগ্যউন্নয়ন ও পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে ইতালি যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে কিছু জমি বন্ধক রেখে জাকারিয়া ইসলাম নামের এক যুবক ৯ লাখ টাকা তুলে দেন আব্দুলমজিদ নামের এক দালালের হাতে।কিন্তু বিধিবাম ইতালি যাওয়ার স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি জাকারিয়া নামের সেই যুবকের,ফলশ্রুতিতে পর্যায়ক্রমে প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ টাকা ফুরিয়ে লিবিয়া থেকে নিঃস্ব হয়ে দেশে ফিরে তিনি বর্তমানে অন্যের জমিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন।
এই ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলা র মোহনপুর ইউনিয়নের নাদা গ্রামে। জাকারিয়া ইসলা ম ঐ গ্রামের মো. ওবায়দুল হোসেন দুলালের ছেলে। এই ঘটনায় জাকারিয়া ইসলামের বাবা দুলাল হোসেন বাদী হয়ে গত ২রা জানুয়ারি সিরাজগঞ্জ মানব পাচার দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে আব্দুল মজিদ,তার স্ত্রী হাসি খাতুন ও ছোটভাই বাদশা কে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।এই মামলার ১নং আসামি আব্দুল মজিদ বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন, তার স্ত্রী জামিনে মুক্ত ও ভাই গ্রেফতারের ভয়ে পলাতক রয়েছেন।
২রা ডিসেম্বর, শনিবার দুপুরে সরেজমিনে উল্লাপাড়া উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের নাদা গ্রামে একটি কৃষি জমিতে গিয়ে দেখা যায় বেশ কয়েকজন শ্রমিকের সাথে জাকারিয়া ইসলাম একটি সরিষা ক্ষেতে কাজ করছেন।
পরে তার সাথে কথা হলে জাকারিয়া ইসলাম বলেন, প্রতিবেশী মৃত ছালাম প্রামাণিকের ছেলে আব্দুল মজিদ আমাকে ইতালি নিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিলে পরিবারে র সাথে আলোচনা করে জমি বন্ধক রেখে ৯ লাখটাকা তার হাতে তুলে দেই। গত বছরের মে মাসে আমাকে ও আব্দুল মজিদের ছেলেকে লিবিয়া পাঠানো হয়। সে খানে আড়াই মাস থাকার পর সমুদ্রপথে ইতালি যাও য়ার সময় কোস্টগার্ড আমাদের আটক করে।
জাকারিয়া ইসলামের মা পিঞ্জিরা খাতুন অভিযোগকরে বলেন, এরপর জেল থেকে মুক্তির জন্য প্রায় ৬৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। আব্দুল মজিদকে,পরে জেল থেকে মুক্ত হলে লিবায়ার দালাল জাকারিয়াকে মাফিয়াদের হাতে বিক্রি করে দেওয়া হয়। মাফিয়ারা জাকারিয়ার পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের জন্য তাকে অমানুষিক নির্যাতন করে বাড়িতে বাবা মায়ের কাছে কল দিয়ে কথা বলায়।
এর মধ্যে বেশ কিছুদিন জাকারিয়াকে মাফিয়ারা অনাহা রে রাখে ও মারধর করে। পরে মাফিয়াদের হাত থেকে ছেলের মুক্তির জন্য ২ দফায় প্রায় সাড়ে ৯ লাখ টাকা দেওয়া হয় আব্দুল মজিদের হাতে। এজন্য তাদের গরু, ট্রলার ও ৪০ শতাংশ জমি বিক্রি করতে হয়। অর্থ দিয়ে ছাড়া পেয়ে লিবিয়া গমনের ৯ মাস পর গত ১৬ই ফেব্রুয়ারি জাকারিয়া দেশে ফেরে।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুর মজিদের বাড়িতে গেলে তার ছোট ভাই বাদশার স্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, জাকারিয়া ও তার পরিবারের সাথে তার ভাসুর আব্দুল মজিদের লেনদেন হয়েছে আমরা জানতে পেরেছি। তবে তার স্বামীর এই ঘটনার সাথে কোন সম্পর্ক নেই, তাকে উদ্যোশ্যমূলক ভাবে মামলার আসামি করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তার স্বামী বাদশা একজন অসুস্থ্য মানুষ তার বাইপাস সার্জারি করা। গ্রেফতারের ভয়ে সে পালিয়ে রয়েছে এরকম চলতে থাকলে তার স্বাস্থ্যের আরও অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই বিষয়ে জাকারিয়া ও আব্দুল মজিদের প্রতিবেশীরা জানান, আব্দুল মজিদ ইতিপূর্বেও আমাদের গ্রামের ৮/১০ জনকে এভাবেই ইতালি পাঠিয়েছেন। তার যদি অসৎ কোন উদ্যেশ্য থাকতো তাহলে জাকারিয়ার সা থে তার ছেলে হাসানকে পাঠাতেন না।তারা আরও বলেন,মজিদের ভাই বাদশা অত্যন্ত ভালো প্রকৃতির একজন মানুষ। তিনি গ্রামেই মুদিখানার দোকান করেন,তাকে মিথ্যা ভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
এই বিষয়ে মুল অভিযুক্ত আব্দুল মজিদের ছোটভাই বাদশা বলেন, আমার ভাই বিদেশে মানুষ পাঠালেও আমি এই বিষয়ে কিছু জানিনা। আমাকে এই মামলায় সম্পুর্ণ মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে ফাসানো হয়েছে, আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ। গ্রেফতারের ভয়ে আমি পালিয়ে থাকায় বাদী পক্ষের লোকজন আমার দোকানে লুটপাট চালিয়ে কয়েক লক্ষ টাকার ক্ষতি করেছে।