April 21, 2026, 4:41 pm
শিরোনামঃ
ঢাকার ৭ পাম্পে ‘ফুয়েল পাস’ বাধ্যতামূলক শান্তিপূর্ণ পরীক্ষা নিশ্চিত করতে ডিএমপির কড়া বিধিনিষেধ, যা যা জানা প্রয়োজন তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৬০ জন গ্রেফতার সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তিকে আরও শক্তিশালী করতে : আইজিপি অনলাইনে আয়ের প্রলোভনে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলাধীন টুপামারী জিয়া পুকুর পাড়ে দর্শনার্থীদের ভিড় ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগ, ফেব্রুয়ারি-২০২৬ সংক্রান্তে ব্রিফিং অনুষ্ঠিত বাকৃবিতে ছাত্রদল নেতাকে মারধরের অভিযোগ জামালপুরে মেলান্দহে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ মন্জুরুল কবির মঞ্জ সিএনজি স্ট্যান্ডে চাঁদা নিয়ে দ্বন্দ্ব, ময়মনসিংহে শ্রমিক দলের দু’পক্ষের সংঘর্ষ
নোটিশঃ
আপনার আশেপাশের ঘটে যাওয়া খবর এবং আপনার ব্যবসার বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য যোগাযোগ করুন মানবাধিকার খবরে।

ময়মনসিংহের খাগডহর ভূমি অফিসে অল্প দিনেই নাজমুন নাহার কামিয়েছে কোটি টাকা

Reporter Name

প্রথম বাংলা : ময়মনসিংহের সদর উপজেলার খাগডহর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা নাজমুন নাহারের বিরুদ্ধে সেবার নামে ঘুষ-দুর্নীতি এবং অফিসের কর্মচারীদের নাজেহাল করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অফিসের কর্মচারী নাজমা আক্তার তাঁর বিরুদ্ধে নাজমুন নাহারের তোলা অপবাদের বর্ণনা দিতে গিয়ে অঝোরে কেঁদেছেন। অন্যদিকে, চাহিদা অনুযায়ী টাকা দিয়েও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী সেবাপ্রার্থীরা।

এসব অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) নাজমুন নাহারকে বদলি করেছেন জেলা প্রশাসক। খাগডহর ভূমি অফিসের বিষয়টি নজরে আসে জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলম এর, শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

ভূমি অফিসের অনিয়ম, দুর্নীতি এবং ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরতে গত বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহের সদর উপজেলার খাগডহর ভূমি অফিসে ঢোকার আগ মুহূর্তেই কাগজ হাতে দুই ব্যক্তিকে কথা বলতে দেখা যায়। একজন অফিসের অলিখিত স্টাফ চান মিয়া এবং অপরজন সেবাপ্রার্থী আলাউদ্দিন। জমি খারিজ করতে কত টাকা লাগবে, সেই বিষয়টি ফয়সালা করছিলেন আলাউদ্দিনের সঙ্গে চান মিয়া। সাংবাদিক দেখে পালানোর চেষ্টা করেন চান মিয়া।

পরে দাঁড়াতে বললে তিনি দাঁড়িয়ে বলেন, ‘উনি (আলাউদ্দিন) আমার সম্পর্কে চাচা হয়। আজ অফিসে স্যার নেই, তাই উনি খারিজের জন্য কাগজপত্র নিয়ে আসছেন, সেগুলো দেখছি। আপনি কি অফিসের স্টাফ—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘না আমি অফিসের স্টাফ না। তবে বেশ কয়েক বছর ধরে স্যারের (ভূমি কর্মকর্তা) কাজকাম করছি। এতে প্রতিদিন ২০০-৩০০ করে টাকা পাই। তবে কারও কাছ থেকে কোনো জোর করে টাকা নেই না।’

সেবাপ্রার্থী আলাউদ্দিন বলেন, ‘৯ শতাংশ জমি খারিজ করতে হয়। তাই কাগজপত্র নিয়ে আসছিলাম ভূমি অফিসে। পরে চান মিয়া অফিসের পেছনে আমাকে নিয়ে আসছে। কয় টাকা লাগবে না লাগবে আলাপ শুরু করেছিলাম। তখনই আপনারা আসছেন।’

এবার নজর ভূমি অফিসের ভেতরে। এদিন (২৫ সেপ্টেম্বর) ভূমি কর্মকর্তা নাজমুন নাহারকে পাওয়া না গেলেও দেখা মেলে অনেক সেবাপ্রার্থীর। অভিযোগ টাকা দিয়েও কাঙ্ক্ষিত সেবাবঞ্চিত তাঁরা।

আফজাল আলী মারজু নামে একজন বলেন, ‘আমি দলিল লেখক; ভূমি অফিসের পার্শ্ববর্তী ঢোলাদিয়ার বাসিন্দা। এক অসহায় নারীকে অফিস খরচে দলিল করে দেওয়ার পর খারিজের জন্য ভূমি অফিসে আসি। তখন ম্যাডাম (ভূমি কর্মকর্তা) আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে বলি আপনি নারী হয়ে অন্য এক অসহায় নারীর প্রতি আপনার সহানুভূতি থাকবে না? আসলে আমরা যদি প্রত্যেকে প্রত্যেকের জায়গা থেকে পরিবর্তন না হই, তাহলে দেশটা পরিবর্তন হবে না।’

তাজুল ইসলাম নামে আরেক সেবাপ্রার্থী বলেন, `জমি খারিজের জন্য একটি ফাইল নিজ চোখে দেখব বলে ১৫ দিন ধরে ঘুরছি। আইলেই ম্যাডাম বলে আজ না কাল। তাইলে কোথায় গিয়ে সেবা পাব বলেন।’

ভূমি কর্মকর্তার টাকা নেওয়ার বিষয়টি অকপটে স্বীকার করেন অফিস সহায়ক নাজমুন নাহার নাসরিন। তিনি বলেন, ‘ম্যাডাম নায়েবের চেয়ারে বসে টাকা নেন; তা নিয়ে বাইরে সমালোচনা হয় শুনতেও খারাপ লাগে। উনি নায়েব হিসেবে তা করতে পারেন না।’

শুধু ঘুষেই সীমাবদ্ধ নন ভূমি কর্মকর্তা নাজমুন নাহার। তাঁর অপবাদে অঝোরে কাঁদলেন অফিস সহকারী নাজমা আক্তার। তিনি বলেন, `আমি একজন স্বামী পরিত্যক্তা। তিন সন্তান নিয়ে চাকরিটাই ভরসা। ম্যাডামের রুমে বসার জন্য আগে একটা চেয়ার ছিল। সে চেয়ারটা তিনি সরিয়ে দিয়েছেন। সব সময় দাঁড়িয়ে থাকতে বলেন। এক ভদ্র মুরব্বি দিয়ে আমার চরিত্রে কালিমা লেপন করতে চেয়েছেন। একজন কর্মকর্তা এমন ভাবতেও খারাপ লাগে।’ এগুলো বলতে বলতে অঝোরে দুচোখের পানি ফেলেন।

খাগডহর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘চার-পাঁচ দিন হলো আমি অফিসে যোগদান করেছি। তাই সব বিষয়ে অবগত নই। শুনেছি চান মিয়া আগে থেকই এই অফিসে কাজ করেন। তবে কাজ করতে গিয়ে তিনি যদি কারও কাছ থেকে টাকাপয়সা নেন, তাহলে সেটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।



Our Like Page
Developed by: BD IT HOST