নিজস্ব প্রতিবেদন:
তৃণমূল কর্মীদের ক্ষোভ: “১৭ বছর আমরা জেল খাটলাম, আর লুটপাটের টাকা নিয়ে রেজা এখন বড় নেতা”
সৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর যখনসারা দেশে সংস্কার ও শুদ্ধি অভিযান চলছে, তখন ভোল পাল্টে নিজেকে রক্ষা করার নতুন মিশনে নেমেছেন মো.রেজাউল হক রেজা। কোনো প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা ছাড়াই রাতারাতি শত কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়া এই‘রহস্যমানবের’ রাজ নৈতিক ডিগবাজি দেখে খোদ তৃণমূল বিএনপির কর্মীরা এখন হতাশ ও ক্ষুব্ধ। অভিযোগ উঠেছে, লুটপাটের টাকার জোরে তিনি এবার বর্তমান বিএনপির একজন প্রভাবশালী এমপির ঘনিষ্ঠ হওয়ার অপচেষ্টা করছেন।
বাকেরগঞ্জের ‘মেয়র লোকমান’ থেকে বর্তমান এমপির সংখ্যা”
বাকেরগঞ্জের স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়,আওয়ামী লীগ সর কারের আমলে রেজা ছিলেন ক্ষমতাধরদের ‘ডান হাত’ তৎকালীন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা ও বাকেরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র লোকমান হোসেন ডাকুয়ার সাথে তার ছিল অত্যন্ত গভীর ও দহরম-মহরম সম্পর্ক। লোকমান ডাকুয়ার হাত ধরেই তিনি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন। অথচ সেই রেজা এখন ভোল পাল্টে বিএনপির সাথে সখ্যতা গড়ার চেষ্টা করছেন। সম্প্রতি বর্তমান বিএনপির এমপির সাথে তার কিছু ঘনিষ্ঠ ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়।
কর্মীদের প্রশ্ন—”যিনি সারা জীবন আওয়ামী লীগেরতল্পিবা হক ছিলেন,তিনি রাতারাতি কীভাবে বিএনপির ঘনিষ্ঠ হলে।
তৃণমূলে হাহাকার”টাকার কাছে কি সব বিক্রি হয়?”দীর্ঘ ১৭ বছর রাজপথে জেল-জুলুম সহ্য করা বিএনপির ত্যাগী কর্মীরা এখন চরম হতাশ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মী আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা ১৭ বছর মার খেলাম, ঘরছাড়া হলাম।আর যারা আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপিদের সাথে সখ্যতা করে কোটি কোটি টাকা কামিয়েছে,তারা আজ টাকার জোরে বড় বিএনপি সেজে বসে আছে।
এই রেজারা আওয়ামী লীগ খেয়ে এখন বিএনপিকেও ব্যব হার করবে অর্থ আয়ের উৎস হিসেবে।”লোকমুখে প্রচলিত আছে যে,রেজার দম্ভোক্তি–‘টাকার কাছে সবাই বিক্রি হয়’
ডিজিটাল হাজিরা লুটপাট ও মন্ত্রী জাকিরের‘বন্ধুত্ব’২০১৯ সালে সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হো সেনেরসাথে রেজার ছিল বিশেষ ‘বন্ধুত্ব’,যার প্রমাণ মেলে তাদের অসংখ্য ছবিতে।এই সখ্যতাকে পুঁজি করেই ‘ডিজি টাল হাজিরা’প্রকল্পের শত কোটি টাকা লুটপাটের অভিযো গ রয়েছে রেজার বিরুদ্ধে।
সেই সময় জাকির হোসেনকে নিজ বাড়িতে নিয়ে ঘটা করে আপ্যায়ন করেছিলেন তিনিআওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী, সচিব ওআমলাদের সাথে তার অবাধ যাতায়াত এবং পুলিশ প্রটোকল নিয়ে চলাফেরা করা ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। অথচ দুর্নীতির দায়ে জাকির হোসেন গ্রেফতার হলেও তার ‘ছায়া সঙ্গী’ রেজা কেন এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
সেগুনবাগিচার ‘অদৃশ্য জান্তা’ ও অস্ট্রেলিয়ায় অর্থ পাচার
সেগুনবাগিচায় আলিশান অফিস নিয়ে রেজা গড়ে তুলেছি লেন এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট। সেখানে সচিব, আমলা ও মন্ত্রী-এমপিদের ছিল নিয়মিত আড্ডা। কোনো বৈধ ব্যবসা না থাকলেও বনশ্রীতে বিলাসবহুল সাত তলা ভবন ও একাধিক দামি গাড়ি নিয়ে তার বিলাসজীবন এখন টক অব দ্য কান্ট্রি। অভিযোগ রয়েছে, রেজার এক ছেলে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করেন এবং তিনি নিয়মিত সেখানে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাচার করছেন।
সুবিধাবাদীদের রুখে দেওয়ার দাবি”
২০০১ সালে বিএনপি আমলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘ভাই’ পরিচয়, পরে আওয়ামী লীগ আমলে মন্ত্রী-সচিবদের সিন্ডিকেট প্রধান রেজার এই দীর্ঘ সুবিধাবাদী রাজনীতির অবসান চায় দেশবাসী আওয়ামী লীগের দোসর ওরাষ্ট্রের অর্থ লুণ্ঠনকা রী এই রহস্যমা নবের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে এবং তার আয়ের উৎস খুঁজে বের করতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও বর্তমান সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন বাকেরগঞ্জের তৃণমূল কর্মীরা।