July 9, 2026, 12:48 pm
শিরোনামঃ
বনানীতে ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে হাতেনাতে এক ছিনতাইকারীকে আটক করেছে ট্রাফিক পুলিশ ময়মনসিংহ নগরীর কৃষ্টপুর ও বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসা জমজমাট সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে যৌথ অভিযানে পরিত্যক্ত বাস অপসারণ, সরানো হলো আরও ৪২টি পার্কিং করা বাস কৃষির বিভাগের ‘পার্টনার’ প্রকল্প: বড় প্রকল্পে হাজার কোটির অনিয়ম শাহজাদপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন; এনসিপির সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণ: আ.লীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ২ ট্রেনে পাসপোর্ট, প্লেনেরটিকেট সহ ব্যাগ রেখে নেমে গেলেন বিদেশযাত্রী, ৯৯৯ নম্বরে ফোনে আধাঘন্টায় উদ্ধার যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ’র বৈঠক সাংবাদিক নাজমুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রকাশিত অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ” লক্ষ্মীপুর পৌরসভার “২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেট পেশ
নোটিশঃ
আপনার আশেপাশের ঘটে যাওয়া খবর এবং আপনার ব্যবসার বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য যোগাযোগ করুন মানবাধিকার খবরে।

কৃষির বিভাগের ‘পার্টনার’ প্রকল্প: বড় প্রকল্পে হাজার কোটির অনিয়ম

Reporter Name

স্টাফ রিপোর্টার : কৃষির বিভাগের ‘পার্টনার’ প্রকল্প: বড় প্রকল্পে হাজার কোটির অনিয়ম ঘটনা ঘটেছে। দেশের কৃষি খাতের সবচেয়ে বড় প্রকল্পে দুই অর্থবছরে হাজার কোটির বেশি টাকার অনিয়ম ধরা পড়েছে। এর মধ্যে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রায় ৮৩৫ কোটি টাকা এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এর পরিমাণ ২১০ কোটি টাকার বেশি অডিট আপত্তি উঠেছে।

এই চিত্র ‘প্রোগ্রাম অন অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ’ বা সংক্ষেপে ‘পার্টনার’ প্রকল্পের। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) নিবিড় পরিবীক্ষণ প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। সম্প্রতি এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

অবশ্য প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেছেন, অডিট আপত্তি মানে দুর্নীতি নয়। সঠিক ব্যাখ্যা দিয়ে আপত্তি নিষ্পত্তি করার সুযোগ রয়েছে।

পাঁচ বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের অর্ধেকের বেশি সময় পার হলেও আর্থিক অগ্রগতি মাত্র ২৩ শতাংশ। অগ্রগতি নিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার এই ‘পার্টনার’ প্রকল্প শুরু হয় ২০২৩ সালের জুলাইয়ে। মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসহ সাতটি সংস্থা নিজেদের নির্ধারিত কার্যক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করছে। এতে লিড এজেন্সির দায়িত্বে আছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের আরও আটটি সংস্থা এই কর্মসূচিতে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে কাজ করছে।

এই প্রকল্পের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অংশে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৭১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

নিবিড় পরিবীক্ষণ প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকল্পের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২৫টি অডিট আপত্তি রয়েছে। আপত্তিগুলোর সঙ্গে জড়িত মোট প্রায় ৮৩৫ কোটি টাকা। উল্লেখযোগ্য অডিট আপত্তির মধ্যে রয়েছে: পার্টনার প্রকল্পে ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) নির্ধারিত তহবিল ব্যবস্থাপনা অনুসরণ না করে আর্থিক শৃঙ্খলা লঙ্ঘন করে অনিয়মিতভাবে ২৬৪ কোটি ৫১ লাখ টাকার তহবিল ছাড় করা। চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে পণ্য সরবরাহের আগেই অনিয়মিতভাবে ৮৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়। ব্যাংক সমন্বয়ের ভিত্তিতে আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত করতে ব্যর্থতার কারণে আর্থিক বিবরণী ও ব্যাংক বিবরণীর মধ্যে অমিল রয়েছে ৩৭৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা। সরকারি নির্দেশনা সত্ত্বেও প্রকল্পের অধীনে কেনা ৯৯ কোটি ৬১ লাখ টাকার পণ্যের তালিকা প্রস্তুত করা হয়নি।

প্রকল্পের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তিনটি অডিট আপত্তিতে জড়িত ২১০ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। অডিট আপত্তিগুলো হচ্ছে ডিপিপি নির্ধারিত তহবিল ব্যবস্থাপনা অনুসরণ না করে আর্থিক শৃঙ্খলা লঙ্ঘন করে অনিয়মিতভাবে ২১০ কোটি ২৬ লাখ টাকার তহবিল ছাড় করা হয়। মজুত রেজিস্টারে বিভিন্ন পণ্যের মনগড়া বণ্টন দেখানোর কারণে সরকারের আর্থিক ক্ষতি ১৭ লাখ টাকা। চুক্তিভিত্তিক যানবাহন ব্যবহার না করে খুচরা খরচের ভাউচারের মাধ্যমে নগদে গাড়িভাড়া পরিশোধ করে অনিয়মিত ব্যয় করা হয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৩৩ হাজার টাকা।

জানতে চাইলে ‘পার্টনার’ প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর আবুল কালাম আজাদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘অডিট আপত্তি মানেই দুর্নীতি নয়। প্রথম বছরে বেশি অডিট আপত্তি, তখন অন্য একজন প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর ছিলেন। আমার সময়ে অডিট আপত্তি অনেক কমেছে। যথাযথ ব্যাখ্যা দিয়ে অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি করার সুযোগ আছে।

২০২৩ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া ‘পার্টনার’ প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত। প্রকল্পের তথ্য অনুসারে, প্রকল্পের ৩৩ মাস পর অর্থাৎ চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত মোট ব্যয় হয়েছে ৬৮০ কোটি ৫৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা; যা প্রকল্পের ডিএই অংশে বরাদ্দ করা অর্থের মাত্র ২৩ দশমিক ৫৯ শতাংশ। বাকি ২৬ মাসে প্রকল্পের বাকি ৭৬ দশমিক ৪১ শতাংশ আর্থিক কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রকল্পের মেয়াদে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে বর্তমান কার্যকারণের গতি দ্বিগুণের বেশি বাড়াতে হবে, যা কঠিন চ্যালেঞ্জ।

জানতে চাইলে কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম আজকের পত্রিকাকে বলেন, বড় প্রকল্প বড় উদ্দেশ্য নিয়ে নেওয়া হয়। প্রকৃত উদ্দেশ্য অনেক সময় সফল হয় না প্রকল্প পরিচালনায় অদক্ষতার কারণে। সঠিকভাবে অর্থ খরচ না করায় অনেক অসংগতি দেখা দেয়। বড় প্রকল্প নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের সতর্ক থাকা দরকার।

প্রকল্পের মেয়াদের অর্ধেকের বেশি পার হলেও কৃষি যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, ভবন নির্মাণ, ল্যাবরেটরি স্থাপন, কৃষক স্মার্ট কার্ড বিতরণের প্রকল্পের মূলধনি খাতের কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ডিপিপিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু কাঠামোগত ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে প্রকল্পের মূল কাজগুলো বাস্তবায়নে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে কৃষি যন্ত্রপাতি ও স্মার্ট কার্ডের অনুমোদন প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। কৃষক স্মার্ট কার্ড বিতরণে প্রকল্পের শুরুতে ফিজিক্যাল কার্ড, পরে ভিজুয়াল কার্ড, আবার ফিজিক্যাল কার্ড দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়ায় স্মার্ট কার্ড বিতরণের কাজ শুরু হয়নি। বর্তমানে প্রাথমিক ও পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলমান থাকলেও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের জন্য নীতিমালা চূড়ান্ত হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রকল্পসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, কৃষক কার্ড বাস্তবায়নে খরচ হবে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা, কিন্তু ডিপিপিতে অর্থ ধরা হয়েছে ৭০০ কোটি টাকা। তাই ডিপিপি সংশোধন না করলে কৃষক স্মার্ট কার্ড বিতরণের কার্যক্রম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। অধিকাংশ কৃষক স্বল্পশিক্ষিত হওয়ায় ডিজিটাল কৃষি সেবা ও স্মার্ট কার্ড ব্যবহারে তাঁদের সীমাবদ্ধতা দূর করতে দীর্ঘ সময় এবং ব্যাপক প্রশিক্ষণের প্রয়োজন, যা প্রকল্পের বাকি সময়ে সম্পন্ন করা কঠিন।

প্রকল্পের আওতায় কৃষি পর্যটন ও আধুনিক কৃষির জন্য ‘অ্যাগ্রো ইকোপার্ক’ নির্মাণের কথা থাকলেও এখনো শুরু হয়নি। প্রকল্পের আওতায় আন্তর্জাতিক মানের অ্যাক্রিডিটেড ল্যাবরেটরি স্থাপনের জন্য পূর্বাচল এলাকায় স্থান নির্ধারণ করা হলেও দৃশ্যমান কার্যক্রম শুরু হয়নি। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সম্প্রতি প্রকল্পের কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরিদর্শন করে ল্যাবরেটরি স্থাপনের জন্য খুঁটি দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করেছেন। ল্যাবরেটরি স্থাপনের জন্য ক্রয় কার্যক্রম দ্রুত শুরু করতে না পারলে নির্মাণকাজ সময়মতো শেষ করা কঠিন হবে।

‘পার্টনার’ প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন কৃষিসচিব রফিকুল ই মোহামেদ। তিনি ৩ জুলাই গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিগত সরকারের (আওয়ামী লীগ সরকার) আমলের এই প্রকল্পে অনেক সমস্যা। কিছু খুচরা অডিট আছে। যেগুলোর জবাব লেখার তাগাদা তাঁদের (প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের) নেই।’ তিনি বলেন, ‘যাঁদের খারাপ পারফরম্যান্স, তাঁদের সরিয়ে হলেও প্রকল্পে গতি আনার চেষ্টা করতে হবে। কারণ, প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে কাজ শেষ করা যাবে না। অদলবদল করে হলেও প্রকল্পের গতি আনতে হবে।



Our Like Page
Developed by: BD IT HOST