রাশেদুল ইসলাম রিয়াদ জাজিরা (শরীয়তপুর)
শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার প্রাণী সম্পদ অফিস (পশু হাসপাতালের) ডাক্তার মেহেদী হাসান ও সোহাগ আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম এবং সরকারি ঔষধ দিয়ে গরুর খামারিদের থেকে মোটা অংকের ফি নিচ্ছে বলে একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন।
এই ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে গেলে মনির উদ্দিন সরদার কান্দির একজন খামারি মোঃ কাইয়ুম হোসেন জানান জাজির উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিস, পশু হাসপাতালের ডাক্তার মেহেদী হাসান তার গরুর চিকিৎসা দেওয়ার জন্য তার বাড়িতে গেলে সে প্রথমেই বলে চিকিৎসা দিতে পারি টাকা লাগবে কিন্তু?
তখন সে উপায় অন্ত না পেয়ে বলে কত টাকা? তখন ডাক্তার মেহেদী হাসান বলেন ৩ হাজার টাকা, তখন ওই খামারি কাইয়ুম হোসেন ১৫ শ টাকার বেশি দিতে পারবে না জানালে ডাক্তার মেহেদী হাসান বলেন ঠিক আছে চিকিৎসা দিয়ে দিচ্ছি পরের বার কম নেওয়া যাবে না বলে চিকিৎসা দেয় ওই খামারিকে। সে আরো বলেন টাকা না দিলে গরু মরে গেলেও ডাক্তার মেহেদী হাসান চিকিৎসা দেয় না। অথচ তাঁদের সরকারি ফি নেওয়ার কথা প্রতি কিলোমিটার প্রতি ২০ টাকা হিসেবে গাড়ি ভাড়া মাত্র।
একি প্রাণী অফিস জাজিরা পশু হাসপাতালের আরেক জন ডাক্তার সোহাগ আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে উঠেছে আরো বড় ধরনের অভিযোগ। বিলাশপুর জানখার কান্দির ইতালি প্রবাসী পান্নু খানের একটি গরুর খামার করেছেন সেই খামারের গরু অসুস্থ হলে জাজিরা উপজেলা প্রণী সম্পদ অফিস, পশু হাসপাতালের ডাক্তার সোহাগ আবদুল্লাহকে তারা ডেকে নেন, ডাক্তার সোহাগ আবদুল্লাহ গিয়ে কোন চিকিৎসা না করে, শুধু মাত্র একটি প্রেসক্রিপশন লিখে তাঁদের কাছে ১৫ শ টাকা দাবি করে এবং ১৫ শ টাকা নিয়ে আসে।অথচ তার নেওয়ার কথা প্রতি কিলোমিটার গাড়ি ভাড়া বাদ ২০ টাকা করে।
আরেক জন ভুক্তভোগী মুলাই বেপারি কান্দির দেলোয়ার বেপারী বলেন জাজিরা উপজেলা পশু হাসপাতালের বড় ডাক্তার মেহেদী হাসান তার গরুর চিকিৎসা করে ৩ হাজার টাকা দাবি, করে কোন ভাবেই টাকা কম নিতে রাজি হয় না পরে ২ হাজার টাকা দিয়ে তাকে খুশি করি। এভাবেই জাজিরা পশু হাসপাতালে চলছে নানা অনিয়ম ও সরকারি ঔষধ দিয়ে মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কারসাজি।
এই ঘটনার অনুসন্ধানে আরো বেড়িয়ে আসে ভয়াবহ অনি য়মের অভিযোগ জাজিরা উপজেলার বড় কান্দি ইউনিয়নে র একজন কৃষক আব্দুস সাত্তার জানান তার গৃহ পালিত গর্ভবতী একটি গাভী নিয়ে জাজিরা পশু হাসপাতালে গেলে লুৎফর রহমান নামের এক ব্যক্তি তার গাভীর পেটে হাত দিয়ে বাছুর দেখার জন্য চেষ্টা করে এবং নানা রকম ইনজেকশন পুশ করে উলটা পালটা চিকিৎসা করে, এতে তার গাভী অসুস্থ হয়ে পড়লে বড় ডাক্তার মেহেদী হাসান বলেন কশাইয়ের কাছে গুরু বিক্রি করে দাও। তোমার গরু মনে হয় বাঁচবে না। পরে ঘটনা যাচাই করে দেখা যায় চিকিৎসা দেওয়া ওই ব্যক্তির নাম লুৎফর রহমান সে কোন চিকিৎসক না, সে ডাঃ মেহেদী হাসানের চেম্বারে বসে থাকে এবং তার দালালি করে টুকটাক কিছু চিকিৎসা আয়ত্ত করে গ্রামে গ্রামে পশুর চিকিৎসা করে অর্থ হাতিয়ে নেয় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে।
এ ছাড়াও জাজিরা উপজেলা পশু হাসপাতালের আরেক জন কর্মচারী তার নাম হাবিবুর রহমান (পিআই) তার দায়িত্ব হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা পশুর চিকিৎসা দেওয়া, ইনজেকশন পুশ করা,পাল দেওয়া,ড্রেসিং করা,সে তার দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন না করে তার বাসা ডামুড্যা থেকে প্রতিনিয়ত ২/৩ ঘন্টা লেট করে আসে, এবং সে তার দায়িত্ব পালন না করে গ্রামে নিজস্ব আয়ের জন্য পশু চিকিৎসার জন্য বেড়িয়ে যায়.
এই ব্যাপারে জাজিরা উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিস, পশু হাসপাতালে যোগাযোগ করা হলে ডাক্তার মেহেদী হাসান বলেন এসব অভিযোগ সত্যি না আমি কোন টাকা নেই না, এবং ডাক্তার সোহাগ আবদুল্লাহ বলেন আমি ১৫ শ টাকা নিয়েছি কিন্তু আমি তার কাছ থেকে চেয়ে নেই নাই সে ইচ্ছে করে দিয়েছে।
পি,আই হাবিবুর রহমান বলেন আমি চাকুরির শেষ পর্যায় চলে এসেছি আমি একদিন আসি একদিন আসি না আমার ইচ্ছে। আপনারা যা ইচ্ছে লিখেন, এবং লুৎফর রহমান হাসপাতালের কোন স্টাফ না হয়েও উপস্থিত পশুর চিকিৎসা দেওয়া অবস্থায় আমরা তাকে হাতেনাতে পাই এবং তার চিকিৎসা করার অনুমতি কিংবা সার্টিফিকেট আছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি স্যারদের আদেশে কাজ করি স্যারেরা আমাকে যেখানে পাঠায় সেখানে যাই, সাথে সাথে আমরা ডাঃ মেহেদী হাসান কে প্রশ্ন করলে সে জানায় না আমি তাকে কোথাও পাঠাই না, তাকে চিকিৎসা করতেও বলিনা।
এই বিষয়ে জাজিরা উপজেলার ইউএনও মহাদয় জনাব কামরুল হাসান সোহেল স্যার কে অবগত করা হয়েছে এবং সে জানিয়েছেন এই বিষয়ে মিটিংএ আলোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এবং এই বিষয়ে সাধারণ মানুষের দাবি এই সকল দুর্নীতি বাজ ডাক্তার ও ভুয়া ডাক্তারদের দ্রুত অপসারণ করে আইনের আওতায় আনা হোক।