ইকরামুল হক বিশেষ প্রতিনিধি
সরকারি নিষেধাজ্ঞার টানা 22 দিন পর সাগরে মাছ ধরা শুরু হতেই উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলীয় অঞ্চলে। দীর্ঘ দিন নিষেধাজ্ঞা শেষে জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে হরেক রকমের সামুদ্রিক মাছ। তবে এই আনন্দ ও প্রাচুর্যের নেপথ্যে রয়েছে উপকূলের সহজ-সরল মানুষের এক মর্মান্তিক সংগ্রামের চিত্র। একদিকে উত্তাল সাগরের ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করে জীবিকা নির্বাহ, অন্যদিকে পাহাড়ের সন্ত্রাসী জনগোষ্ঠীর ত্রাস—সব মিলিয়ে চরম ঝুঁকিতে কাটছে এই জনপদের মানুষের জীবন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত পাঁচ দিন ধরে টেকনাফের উপকূলীয় বিভিন্ন পয়েন্টে সাগরে নামা জেলের জালে নানা প্রজাতির মাছ ধরা পড়ছে। দীর্ঘদিন কর্মহীন থাকার পর জালে মাছ পাওয়ার সুবাদে জেলে পরিবারগুলোতে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে বুকভরা আশা নিয়ে সাগরে পা রাখা এসব জেলের জীবন প্রতিনিয়ত নানা সংকটের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়।
উপকূলের প্রবীণ বাসিন্দারা জানান, টেকনাফের এই অঞ্চলের মানুষ স্বভাবগতভাবেই অত্যন্ত শান্তপ্রিয়, সহজ-সরল এবং অতিথি পরায়ন। বাইরের যেকোনো অতিথি বা মেহমানকে বরণ করতে ও আপ্যায়ন করতে তারা সবসময়ই আনন্দ বোধ করেন। অথচ এমন অমায়িক স্বভাবের মানুষগুলোকেই জীবনধারণের জন্য প্রতিদিন দ্বিমুখী লড়াই করতে হয়।
একদিকে প্রমত্ত সাগরের প্রতিকূল আবহাওয়া ও উত্তাল ঢেউয়ের সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে পরিবারের মুখে অন্ন জোগাতে হয় তাদের, অন্যদিকে পাহাড়ের সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নানা আতঙ্ক ও সহিংসতার মুখোমুখি হতে হয়। প্রকৃতির সঙ্গে লড়াইয়ের পাশাপাশি পাহাড়ের সন্ত্রাসী তৎপরতা উপকূলের সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা মনে করছেন, উপকূলীয় এলাকার এই পরিশ্রমী ও শান্তিপ্রিয় মানুষগুলোর জীবনকে নিরাপদ করতে সাগরে যেমন নিরাপত্তা জোরদার করা প্রয়োজন, তেমনি পাহাড়ের সন্ত্রাসীদের মূলোৎপাটনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরও কঠোর নজরদারি জরুরি। তবেই এই জনপদের মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে নিরাপদে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে।