July 28, 2026, 4:37 am
শিরোনামঃ
ময়মনসিংহে কোতোয়ালী মডেল থানা ও ডিবি পুলিশের যৌথ অভিযানে সক্রিয় ছিনতাইকারী চক্রের ১০ সদস্য গ্রেপ্তার ময়মনসিংহে নিরাপদ অভিবাসন ও বিদেশ-ফেরতদের পুনরেকত্রীকরণ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত ৩২ জেলা প্রশাসক ডিসিকে বাধ্যতামূলক অবসর শুভ জন্মদিন সজীব ওয়াজেদ জয়” বঙ্গবন্ধুর রক্তধারায় গড়া প্রযুক্তিনির্ভর স্বপ্নবাংলার রূপকার! বিপুল পরিমাণ জাল নোট ও জাল নোট তৈরির সরঞ্জামসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে সিটিটিসি বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু গেরিলা সংগঠনের নাম করণ পরিবর্তন করে”বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু আদর্শ লীগ করা হয়েছে জাতীয় সংসদের সাউন্ড সিস্টেম প্রতিস্থাপন বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৬০ জন গ্রেফতার, মামলা ২৫ প্রটোকল কমিয়ে আনছে সরকার, পুলিশ এসকর্ট হারালেন ১৮ মন্ত্রী সাহসিকতা ও কৃতিত্বপূর্ণ কাজের জন্য নয় জন পুলিশ সদস্য পুরস্কৃত
নোটিশঃ
আপনার আশেপাশের ঘটে যাওয়া খবর এবং আপনার ব্যবসার বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য যোগাযোগ করুন মানবাধিকার খবরে।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিটি পর্যায়ে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ

Reporter Name

নয়ন দাস,কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ

চলমান এসএসসি পরীক্ষায় দিনাজপুর বোর্ডের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর পাঁচ শিক্ষক এবং এক পিয়নকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সে সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ঘটনার প্রত্যেক পর্যায়ে পরীক্ষা কমিটির দায়িত্বে অবহেলা ছিল।

প্রাথমিক তদন্তে যুক্ত কর্মকর্তারা জানতে পেরেছেন, থানায় প্রশ্নপত্র গোছানোর সময় ভূরুঙ্গামারী নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব ও প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান কৌশলে বাংলা বিষয়ের প্রশ্নপত্রের প্যাকেটে পরবর্তী বিষয়ের প্রশ্নপত্র ঢুকিয়ে নেন।

প্রশ্নপত্র গোছানোর কাজে পর্যাপ্ত সময় ও জনবলের অভাব, ট্যাগ কর্মকর্তাদের নজরদারির ঘাটতি, সর্বোপরি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কমিটির সতর্কতার অভাবকে কাজে লাগান তিনি।

লুৎফর রহমানসহ ওই বিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষক এবং এক পিয়নকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শিক্ষা বোর্ড চারটি বিষয়ের পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন করে ছয়টি বিষয়ের প্রশ্নপত্র বাতিল করেছে। এ ছাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রহমান সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন।

সূত্র জানায়, পাবলিক পরীক্ষা শুরুর কয়েক দিন আগেই শিক্ষা বোর্ড থেকে আসা প্রশ্ন জেলা প্রশাসকের ট্রেজারি হয়ে উপজেলার থানার লকারে চলে যায়।

পরীক্ষা শুরুর অন্তত পাঁচ থেকে সাত দিন আগে উপজেলা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কমিটির সভাপতি কেন্দ্রসচিব বা তাঁর প্রতিনিধি এবং ট্যাগ অফিসারের মাধ্যমে প্রশ্নপত্রের প্যাকেটের সঙ্গে চাহিদা মিলিয়ে দেখেন। পরীক্ষার দিন সকালে ট্যাগ অফিসার কেন্দ্রসচিবসহ থানার লকার থেকে প্রশ্ন নিয়ে পুলিশি নিরাপত্তায় কেন্দ্রে পৌঁছেন।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপক কুমার দেব শর্মা ১১ সেপ্টেম্বর এক অফিস আদেশে আব্দুর রহমানকে প্রশ্নপত্র গোছানোর দায়িত্ব দেন। এতে সঠিকতা নিশ্চিতের প্রতিবেদন ইউএনও পরীক্ষা শুরুর মাত্র এক দিন আগে চান।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রধান শিক্ষক লুৎফর, অফিস সহকারী আবু হানিফ ও পিয়ন সুজন মিয়া প্রশ্ন গোছানোর সময় থানায় গিয়েছিলেন। সেখানে উপজেলার ছয় কেন্দ্রের প্রশ্ন গোছানোর দায়িত্বে ছিল আব্দুর রহমান;

কিন্তু তিনি তদন্ত কর্মকর্তাদের বলেছেন, তাঁর একার পক্ষে বিপুল পরিমাণ প্রশ্নপত্র গোছানোর দায়িত্ব পালন করা কষ্টসাধ্য ছিল। শুধু প্যাকেটের ওপর স্বাক্ষর করতেই তাঁর সময় চলে গেছে। ফলে নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের কেন্দ্রের সচিবসহ অন্য সদস্যরা কখন, কীভাবে প্রশ্নপত্র সরিয়ে নিয়েছেন তা তিনি বুঝতে পারেননি।

ওই কেন্দ্রের ট্যাগ কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আদম মালিক চৌধুরী এবং উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা রায়হান হক।

আদম মালিক বলেন, ‘দায়িত্বে অবহেলা আমি কোনোদিনই করিনি। এটা কীভাবে হয়েছে আমি বলতে পারব না। এটা তদন্তের অপেক্ষায় রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে আমি কিছু বলতে পারছি না।’

অন্যদিকে রায়হান হক বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন থানায় গিয়ে নিজেরা উপস্থিত থেকে প্রশ্নের প্যাকেট নিয়ে এসেছি। সেসব প্যাকেটে অন্য কোনো বিষয়ের প্রশ্নপত্র ছিল না। কেন্দ্রসচিব কীভাবে পরবর্তী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিয়ে এসেছেন তা আমরা জানি না।’

সার্বিক বিষয় নিয়ে জানতে ইউএনও দীপক কুমার দেব শর্মাকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। সে সঙ্গে মেসেজের উত্তরও তিনি দেননি।



Our Like Page
Developed by: BD IT HOST