বিশেষ প্রতিনিধি লক্ষীপুর:
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার মান্দারী বাজারে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আক্তার হোসেনের একের পর এক অপকর্ম ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। সর্বশেষ পবিত্র মসজিদের ভেতরে ঢুকে এক সিনিয়র সাংবাদিককে হামলা ও হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনায় এলাকা জুড়ে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণীতে জানা যায়, গত মঙ্গলবার আসরের নামাজের পূর্বে মান্দারী বাজার নূরানী জামে মসজিদের অজুখানায় অজু করছিলেন চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম। এসময় ইতিপূর্বে প্রকাশিত সংবাদের জের ধরে আক্তার মেম্বার তার ওপর চড়াও হয় এবং অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন।
একপর্যায়ে তিনি সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলমের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে উপস্থিত সাধারণ মুসল্লিরা তাকে উদ্ধার করে মসজিদের ভেতরে নিয়ে যান।তবে এতেও ক্ষান্ত হননি অভিযুক্ত আক্তার মেম্বার। তিনি সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলমকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করেন। এ ঘটনার পর ভুক্তভোগী সাংবাদিক নিরাপত্তা চেয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, সাবেক মেম্বার আক্তারের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও বিভিন্ন ধরণের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, দখলদারিত্ব ও সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানোর অগণিত অভিযোগ রয়েছে। তার দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ।
এদিকে একজন পেশাদার সাংবাদিকের ওপর পবিত্র মসজিদে হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সচেতন মহল। লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি আ হ ম মুস্তাকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম পাভেল এবং চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
সাংবাদিক নেতারা অবিলম্বে অভিযুক্ত আক্তার মেম্বারকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।
ধর্মীয় লেবাস ব্যবহার করে সন্ত্রাসী শ্রমিক নেতা আক্তার মেম্বারে প্রত্যাবর্তন: আতঙ্কে মান্দারী ইউনিয়নের বাসিন্দারা”ধর্মীয় লেবাস ও বাহ্যিক খোলস পরিবর্তন করে দীর্ঘদিন পর এলাকায় প্রত্যাবর্তন করেছেন কথিত শ্রমিক নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য আক্তার মেম্বার। হঠাৎ করে ধর্মীয় পোশাক ও অবয়ব ধারণ করে এলাকায় ফিরলেও তার বিরুদ্ধে থাকা চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির স্মৃতি ভুলতে পারেনি স্থানীয় বাসিন্দারা। তার এই আকস্মিক প্রত্যাবর্তনে লক্ষ্মীপুরের ঐতিহ্যবাহী মান্দারী ইউনিয়ন জুড়ে এখন চরম আতঙ্ক ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
ধর্মীয় লেবাসকে ঢাল বানানোর চেষ্টা”
স্থানীয় সূত্র ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দার সাথে কথা বলে জানা যায়, আক্তার মেম্বার দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিক সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে মহাসড়কে চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তার ও স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে মোটা অঙ্কের মাসোহারা আদায়ের সাথে যুক্ত ছিলেন। তার অপকর্মের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও অভিযোগ থাকলেও তিনি রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্যাডার বাহিনী ব্যবহার করে এতদিন অধরা ছিলেন। সম্প্রতি পরিস্থিতি পরিবর্তন হওয়ায় নিজের অপরাধ লুকাতে ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিতে তিনি ধর্মীয় পোশাক ও লেবাস ধারণ করে সাধু সাজার চেষ্টা করছেন।
ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক
আক্তার মেম্বারের প্রত্যাবর্তনে সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে রয়েছে মান্দারী বাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ী ও লক্ষ্মীপুর-ঢাকা মহাসড়কের পরিবহন শ্রমিকেরা। মান্দারী বাজারের এক প্রবীণ ব্যবসায়ী জানান, “পূর্বে শ্রমিক নেতার পরিচয় দিয়ে তিনি সাধারণ ব্যবসায়ী ও চালকদের ওপর নানাভাবে অত্যাচার চালিয়েছেন।
এখন তিনি টুপি-পাঞ্জাবি পরে ঘুরে বেড়ালেও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর গতিবিধি আগের মতোই রয়েছে। যেকোনো সময় আবার নতুন রূপে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব শুরু হতে পারে।”একইভাবে পরিবহন শ্রমিকদের একাংশের দাবি, আক্তার মেম্বার ধর্মীয় লেবাস ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন, যাতে তার বিরুদ্ধে হওয়া পূর্বের অপরাধগুলো ঢাকা পড়ে যায়।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি
মান্দারী ইউনিয়নের সচেতন নাগরিক ও সাধারণ মানুষ এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তাদের মতে, কোনো ব্যক্তি ধর্মীয় অনুভুতি বা লেবাসকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে।