নিজস্ব প্রতিবেদক:
ইউনুসের দুঃশাসনে মানুষের প্রাণ এখন খেলনা:সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে চিকিৎসার আগেই মৃত্যু, কাঁদছে মানুষ সোনালী অতীতের জন্য মাত্র দুই হাজার টাকা চাঁদা।
এই সামান্য টাকার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখা হলো মৃত্যুপথযাত্রী এক রোগীকে। ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের চরম প্রশাসনিক ব্যর্থতা আর দেশে চলমান অরাজকতার সুযোগ নিয়ে বেপরোয়া হয়ে ওঠা চাঁদাবাজদের কারণে চিকিৎসার আগেই ঝরল একটি তাজা প্রাণ।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) শরীয়তপুর থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে বারবার বাধার মুখে পড়ে গাড়ির ভেতরেই মারা যান স্ট্রোকের রোগী জমশেদ আলী ঢালী (৭০)। এই মৃত্যু কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি বর্তমান সরকারের নিয়ন্ত্রণহীনতার এক জ্বলন্ত প্রমাণ।
ইউনুসের দুর্বল শাসনে বেপরোয়া দুর্বৃত্তরা
শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার কুতুবপুর এলাকার বাসিন্দা জমশেদ আলী ঢালী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। কিন্তু বর্তমান সময়ে প্রশাসনের কোনো ভয় না থাকায় স্থানীয় চাঁদাবাজ ও দুর্বৃত্ত চক্র প্রকাশ্যেই গাড়ি আটকে ‘কমিশন’ দাবি করে বসে।
পরিবার সেই অন্যায্য আবদার না মানায়, সিন্ডিকেটের হোতারা এতটাই সাহস পায় যে, তারা রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে গাড়ি আটকে দেয়। প্রেমতলা ও জাজিরার জামতলা—দুই জায়গায় গাড়ি আটকে দীর্ঘ সময় নষ্ট করা হয়। চালককে মারধর করা হয়। দেশে যদি কার্যকর কোনো সরকার বা আইনের শাসন থাকত, তবে দিনের আলোতে রাস্তায় এমন মগের মুল্লুক তৈরি করার সাহস কেউ পেত না। ড. ইউনুস, এই অরাজকতার দায় কি আপনি এড়াতে পারবেন?
আওয়ামী লীগ আমল: মানুষ এখন বুঝছে ‘শান্তি’ কাকে বলে
আজকের এই নৈরাজ্য দেখে সাধারণ মানুষের দীর্ঘশ্বাস বাড়ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দেশের মানুষ কেমন ছিল, কতটা নিরাপদে ছিল—তা আজ সকলেই হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। শেখ হাসিনার সময় দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল নির্বিঘ্ন, মহাসড়কে ছিল হাইওয়ে পুলিশের কড়া নজরদারি। তখন ৯৯৯-এ কল দিলেই পুলিশ ছুটে আসত, রোগী বা জরুরি সেবার গাড়ি আটকালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতো।
তখন ছিল উন্নয়নের জোয়ার আর শৃঙ্খলার শাসন। আর আজ ইউনুস সরকারের আমলে পদে পদে বিপদ, নেই জীবনের নিরাপত্তা। মানুষ আজ বুঝতে পারছে, একটি স্থিতিশীল সরকার আর বর্তমানের এই জগাখিচুড়ি প্রশাসনের মধ্যে পার্থক্য আকাশ-পাতাল। উন্নয়নের সেই সোনালী দিনগুলো হারিয়ে আজ জাতি অন্ধকারে নিমজ্জিত